ভাই/বোনেরা,
২০১১ থেকে ২০২৪- চোদ্দ বছরের ‘ডাক্তারি’বাস সেরে রেসিডেন্সির সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে আছি আমি। অন কল রুমে ঘুমোনোর দিন শেষ হয়ে এলো প্রায়। কিন্তু তোদের এখনো অনেক পথ চলার আছে। তাই তোদের ক’টা কথা জানা জরুরি।
তোরা জানিস, অভয়া একজন সেকেন্ড ইয়ার চেস্ট পিজিটি অন ডিউটি নিজের ডিপার্টমেন্টে কীভাবে ধর্ষিতা এবং খুন হন। তারপর সেটাকে ধামাচাপা দেওয়ার সরকারের ১০৮টি উপায় আমরা দেখেছি, তোরাও দেখেছিস। আন্দোলন হয়েছে, নাটক হয়েছে, আরো আক্রমণ হয়েছে- অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিদ্রাভঙ্গ হয়েছে- দেখি তো কী এমন হলো!
কেন ঘুমটা ভেঙেছে জানিস? এই রাজ্যেই শিক্ষকেরা ন্যায্য চাকরির জন্যে বছরের পর বছর রাস্তায় পড়ে আছে, nobody bothers… এই রাজ্যে খুন-ধর্ষণ প্রতি বেলায় হচ্ছে, তুই জানতেও পারছিস না। কিন্তু এই ঘটনা সাড়া জাগিয়েছে, তার প্রথম কারণ, বিশাল মাপের জনসমর্থন। আর দ্বিতীয় কারণ রেসিডেন্টদের কর্মবিরতি। প্রথম কথায় পরে আসি, দ্বিতীয় কথাটা কিন্তু ইম্পরট্যান্ট। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় ব্যাঘাত হলে মানুষের রাগ হবে- এই রাগটা সরকার ভয় পায়। আর এটাই তোর একমাত্র অস্ত্র। তুই বন্দুক চালাতে পারিস না, তুই বন্দুকের সামনে বুক পাততেও জানিস না- কিন্তু তুই তোর বন্ধুদের সাথে মিলে বলতে পারিস, কাজের পরিবেশ না পেলে আমি ভাই কাজ করতে পারবোনা। সরকার তোর ন্যায্য কথা শুনতে বাধ্য, নয়তো জনরোষ উঠবে। সেই রোষ তোর উপরও পড়বে, সরকারের উপর আরো বেশি পড়বে। তাই নিজের হক আদায় না করে জমি ছাড়বি না।
এখন অনেক নাটক হবে। তোকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেবে, কীসব কমিটি গঠন হবে। দু’দিনের নাটক- তারপর আবার তুই-আমি কেউ খুন হয়ে পড়ে থাকবো। এই ধারা বদলানোর নয়। সোজা কথা শুনে নে, কেন্দ্রীয় বাহিনী তোকে সারাজীবন প্রটেকশন দেবেনা। কিন্তু আজ অপরাধী ধরা পড়ে তার শাস্তি হলে, কাল একজন অপরাধ করতে হলে ভাববে। আজ সেটাই আগে দরকার।
আজ আমাদের জায়গাটা আমরা কোথায় নামিয়েছি ভাব। পার্টির লোকেরা মাথায় তবলা বাজিয়ে যা কিছু বলে চলে যাচ্ছে- আমরা হজম করছি। আজ আমারই সহপাঠী দু’টো মস্তানকে তেল মেরে চলে বলে আমাকে তার ভয়ে থাকতে হবে- এই ধারা চলতে পারে না। এটা আমাদেরই ভাঙতে হবে। নয়তো আমরা ডাক্তার কীভাবে! ডাক্তার তো সমাজের শিক্ষক! আজ অভয়ার ন্যায়বিচারই একমাত্র পারে এই ন্যাক্কারজনক সিস্টেমকে আঘাত করতে- নয়তো আজ থেকে দশ বছর পর আমরা আমাদের নিজেদের কী জবাব দেব?
আজ যে জনসমাবেশ রাস্তায় নেমেছে- তার ১% নিজস্ব কিছু স্বার্থে হতে পারে- বাকি যে জনসমর্থন আমরা পেয়েছি, সেই মানুষগুলো কী চেয়েছে? তোর সিকিউরিটির জন্য কোন টাস্কফোর্স এলো, ক’টা সিসিটিভি বসলো এসব জানতে চেয়েছে? নাকি যারা অভয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তাদের শাস্তি চেয়েছে? আজ এই আন্দোলনের একমাত্র উদ্দেশ্য জাস্টিস, এই কথা যেন আমরা না ভুলি।
সন্দীপ ঘোষ কোথায় কোন টাকা মেরেছে, আজ দু’বছর পর সরকার সেই নিয়ে জেগে উঠেছে। এরকম হাজার টাকা এখনো লোকজন মেরে চলেছে। এসব হলো আসল পয়েন্ট থেকে আমাদের সরানোর প্রচেষ্টা।
সরকার ভেবেছে, আমাদের ক’টা ভাওতা প্রতিশ্রুতি দেবে, এদিকে বলবে তদন্তে সময় লাগবেই- তোমরা ‘লক্ষ্মীছেলে’ কাজে নেমে পড়ো- এই কাজটা হতে দেওয়া যাবে না।
আজ সুপ্রিম কোর্ট ডায়লগ দিচ্ছে- আরেকটা ধর্ষণ হতে দেওয়া যাবেনা, তার আগে সিস্টেম চেঞ্জ করতে হবে। চিফ জাস্টিস যে দুনিয়ায় বাস করেন, সেই দুনিয়ায় বর্ধমান নেই, উত্তরাখণ্ড নেই, মুম্বাই নেই। থাকলেও সে জায়গার মহিলার আর্তনাদ চিফ জাস্টিসের কানে পৌঁছায় না। অপরাধ চলতেই থাকবে, যতদিন না আমরা অপরাধীকে তার যোগ্য শাস্তি দিতে পারবো।
অভয়ার ফরেনসিক রিপোর্টটা দরকার হলে দেওয়ালে সাটিয়ে নে, চোখ বন্ধ করে ভাব মেয়েটা কতটা কষ্ট পেয়েছিল- তার চেয়েও বেশি উদ্যমে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অভয়ার অপরাধীরা শুধু শাসকের কোলের ছেলে বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না- এই মন্ত্রটা ভোলা যাবে না।
#JusticeForAbhaya
#CBI_SC_WeWantJustice
#JusticeDelayedIsJusticeDenied










