বিচার? বিচার আবার কী?
কী বিচার পাবে আমার মেয়েটা? যার মাথা দেওয়ালে ঠুকে, নাক মুখ চেপে ধরে গলা টিপে মেরেছে, প্রশিক্ষিত গেস্টাপোরা?
যদি ধরেও নিই, পুলিশের সেট করা সঞ্জয় রাইএর (আর সিবিআই চাইলে আরও দু একটা খুচরো পাপের ফাঁসি হল বা জেল), তাতে আমার মেয়ে ফিরবে?
বিচার চাইছে যারা,
১) তাদের এক বড় অংশ চাইছে আসল খুনিরা ধরা পড়ুক। শাস্তি পাক।
২) একাংশ চাইছে একটা গোয়েন্দা কাহিনির বুদ্ধিদীপ্ত সমাপ্তি।
৩) কেউ চাইছে প্রমাণলোপ-কারীরা চিহ্নিত হোক।
৪) কেউ বা চাইছে খুনের প্রমাণ লোপ আর প্রশ্রয় যারা দিল সবাই সমূলে বিনাশ হোক।
আদতে এর কোনওটাই সেই অর্থে বিচার নয়। বিচার মানে একধরণের প্রতিহিংসা নয়।
কোনও হত্যারই আসলে বিচার বলে কিছু হয় না। এমনকি মা-বাবা ভাবলেও না।
ওপরের ১, ২, ৩, আর ৪ সবকটাই হলে হোক। কিন্তু এই কলরব ক্ষীণ হয়ে যাবার পর (হবেই) যে শূন্যতা নামবে ওই মা বাবার জীবনে, তখন ওঁদের পাশে থাকাটা হয়তো কিছুটা হলেও অর্থবহ কাজ হবে।
ওঁদের চিকিৎসা (যদি দরকার পড়ে), আর আর্থিক নিশ্চয়তার ব্যাপার(যদি ওঁরা রাজী থাকেন) এই দুটো ব্যাপার ভাবা যেতে পারে।
১) কোনও কর্পোরেট হাসপাতাল বা নার্সিং আর স্থানীয় চিকিৎসকেরা ভার নিন।
২) একটা ডেডিকেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাতে একমাত্র ওই মা-বাবারই অ্যাক্সেস থাকবে এ’রকম তৈরি করে তাতে সবাই মিলে টাকা জমা করা।
‘অরাজনৈতিক’ থ্রেট কালচার বিরোধী আন্দোলন বা সরকার বদলের হইহই, যা হচ্ছে হোক।
হত্যার ‘বিচার’ বলে কিছু হয় না।
সহোদরের কাটা মুণ্ডু প্লেটে সাজিয়ে বাবাকে উপহার দেওয়া লোকও মসনদে অতি ধার্মিক সেজে রাজত্ব করে গেছে এই দেশে।
হত্যার শাস্তিটা কোনও বিচার নয়। খুনের বিচার একটা অলীক ধারণা।
★









