Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

ঊর্মিমুখর: চতুর্থ পরিচ্ছেদ

harshavardhana-4
Dr. Sukanya Bandopadhyay

Dr. Sukanya Bandopadhyay

Medical Officer, Immuno-Hematology and Blood Bank, MCH
My Other Posts
  • June 2, 2025
  • 8:21 am
  • No Comments

রক্তমৃত্তিকা মহাবিহারে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পরে ন্যূনাধিক দুই মাস অতিক্রান্ত হইয়াছে।

উজ্জয়িনীর রাজপ্রাসাদে মধ্যরাত্রির কিছু পরে রাজার গুপ্ত মন্ত্রণাকক্ষে মালবরাজ দেবগুপ্ত এবং গৌড়নরেশ শশাঙ্কদেবের মধ্যে রুদ্ধদ্বার আলোচনা চলিতেছিল।

কক্ষমধ্যে অস্থির পাদচারণা করিতে করিতে দেবগুপ্ত বারংবার মস্তক আন্দোলিত করিয়া কহিতেছিলেন –“না না, এ কথা আমি শতবার বলিব, রাঙামাটির মঠ ভস্মীভূত করা অতীব হঠকারী কার্য হইয়াছে!”

শশাঙ্ক ব্যূঢ়োরস্ক, বৃষস্কন্ধ পুরুষ, বয়সে দেবগুপ্তের প্রায় সমান। তিনি কক্ষের সুবর্ণখচিত কুট্টিমে রক্ষিত একটি মহার্ঘ্য আচ্ছাদনের উপর অর্ধশায়িত হইয়া স্তিমিত চক্ষে বয়স্যের অস্থির চলাচল লক্ষ্য করিতেছিলেন। অদ্য রজনীতে কিঞ্চিৎ গুরুভোজন হইয়াছিল — তাঁহার পক্ষে আদৌ উচিত হয় নাই। দেহ দিবারাত্র জানান দিতেছে, বয়স বাড়িতেছে, যৌবনের অভ্যাসসকল ত্যাগ করাই বাঞ্ছনীয়।

তিনি বাম ভ্রূ ঈষৎ উত্তোলিত করিয়া কহিলেন — “সখা কি বৌদ্ধদের প্রতি করুণাঘন হইয়া পড়িতেছ?”

দেবগুপ্ত থামিলেন। শশাঙ্কের প্রতি একটু কঠিন দৃষ্টিপাত করিয়া বলিলেন –“সকল সময় লম্ফঝম্প করিয়া বিক্রম প্রদর্শন কাম্য নহে। কিছু স্থানে চাতুর্য্যেরও প্রয়োজন।”

শশাঙ্ক গালিচার উপর ঋজু হইয়া বসিলেন –“কি রকম?”

দেবগুপ্ত ত্বরাহীন কণ্ঠে বলিয়া চলিলেন –“বৌদ্ধবিহার জ্বালাইয়া আপন গাত্রদাহ মিটিতে পারে, রাজ্যভূমি প্রসারিত হইবে না। পররাজ্য অধিকারে আনিবার মাত্র দুইটি পন্থা — সম্মুখ সমর অথবা ছল-কৌশল।
মগধ এবং কনৌজ আমাদিগের অধিকারে আনিতে হইলে কেবল অনভিজ্ঞ মৌখরীরাজকে পরাজয়ের স্বাদ অনুভব করাইলেই চলিবে না, পুষ্যভূতিরাজের কথাও ভাবিতে হইবে।”

শুনিতে শুনিতে শশাঙ্কের গুরুভোজন জনিত আলস্য একেবারেই দূরীভূত হইয়াছিল। বস্তুত যুদ্ধবিগ্রহ, রক্তপাত, পররাজ্য অধিগ্রহণ ইত্যাদিতে তাঁহার অতীব রুচি ছিল, সুতরাং স্থবির ভাব কাটাইয়া তিনি প্রশ্ন রাখিলেন –“পুষ্যভূতিরাজ? ঐ বৃদ্ধ জরদগবটাকে ধর্তব্যের মধ্যে কেন রাখিতেছ দেবগুপ্ত?”

মালবরাজ শীতল স্বরে প্রত্যুত্তর করিলেন — “কারণ, বৃদ্ধ জরদগবটি আর সিংহাসনে আসীন নাই — কিছুকাল পূর্বেই প্রভাকরবর্ধনের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাজ্যবর্ধনের রাজ্যাভিষেক হইয়া গিয়াছে — গৌড়ীয় গুপ্তচরেরা এই সংবাদ বহিয়া আনিতে অহেতুক বিলম্ব করিয়াছে, তাই তুমি সম্যকরূপে অবগত হইতে পারো নাই।”

গৌড়েশ্বর নীরবে শ্লেষ পরিপাক করিলেন, তাঁহার মুখমণ্ডলে কোনও প্রতিক্রিয়াই ফুটিল না।

কিয়ৎকাল স্তব্ধ থাকিয়া দেবগুপ্ত কহিলেন — “উপরন্তু নূতন রাজার তরুণী ভগিনীর সহিত মৌখরীরাজ গ্রহবর্মার বিবাহ সম্পন্ন হইয়া গিয়াছে — কনৌজ ও স্থানীশ্বর এখন গভীর মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ।”

শশাঙ্ক বৃহদবপু হইলেও নির্বোধ নহেন — রাজ্যবর্ধনের তরুণী ভগিনীর উল্লেখে দেবগুপ্তের মুখের উপর ক্ষণিকের তরে যে সূক্ষ্ম লালসার ছায়া পড়িল, তাহা তাঁহার দৃষ্টি এড়াইল না। তিনি বয়স্যের কূট অভিসন্ধি খানিকটা বুঝিতে আরম্ভ করিলেন।

দেবগুপ্ত বলিয়া চলিলেন –“গূঢ়পুরুষের মাধ্যমে সংবাদ পাইয়াছি, স্থানীশ্বরে মহা ধুমধামে রাজ্যবর্ধনের বিবাহের আয়োজন হইতেছে। অপ্রস্তুত কনৌজের উপর আক্রমণ করিবার ইহাই উপযুক্ত সময়। মৌখরীরাজ্য আমাদের করায়ত্ত হইলে পুষ্যভূতিরাজ ক্লীবের ন্যায় বসিয়া থাকিবে না। তাহাকে প্রথমে মালবসেনার সম্মুখীন হইতে হইবে। সে দক্ষিণে অগ্রসর হইবে — ভাবিবে আমি পশ্চাদপসরণ করিতেছি — যখন রাজ্যবর্ধন বিন্ধ্য পার্বত্য অঞ্চলের নিকটস্থ হইবে, আমি ছল করিয়া সরিয়া যাইব, তুমি পশ্চাৎ হইতে গৌড়ীয় সেনা লইয়া ঝাঁপাইয়া পড়িবে। রাজ্যবর্ধন কখনোই এই আকস্মিক আক্রমণকে প্রতিহত করিতে পারিবে না — তুমি যে পিছনদিক হইতে উহাকে কোণঠাসা করিয়া ফেলিতে পারো, ইহা সে অনুমানই করিতে পারিবে না।”

শশাঙ্কের মুখমণ্ডলে ব্যঙ্গবঙ্কিম হাস্য ফুটিয়া উঠিল।

“হাঁ, স্থানীশ্বর-কান্যকুব্জ উভয়ই অধিকার করিবার উত্তম কৌশল করিয়াছ। আমি অবশ্য রাজ্যের ভাগ পাইলেই তুষ্ট — কামিনীতে আমার স্পৃহা নাই। সে তুমিই ভোগ করিও অখন” — বলিয়া অরুচিসূচক মুখভঙ্গি করিলেন।

দেবগুপ্ত আরক্তমুখে অন্যদিকে চাহিয়া রহিলেন।
মনে মনে ভাবিলেন, ধূর্ত বাঙ্গালীর দৃষ্টি এড়ানো কঠিন কর্ম বটে।

উজ্জয়িনীর রাজপুরীতে যখন উপরোক্ত ষড়যন্ত্রের চিত্রনাট্য রচিত হইতেছে, তখন স্থানীশ্বরের রাজপ্রাসাদে রাজ্যবর্ধনের আসন্ন বিবাহ উপলক্ষে নিরুদ্বেগ আনন্দের সুপবন বহিতেছিল।

উত্তরাপথে গ্রীষ্মের এক প্রসন্ন প্রভাতে স্থানীশ্বরের রাজপ্রাসাদ সংলগ্ন উদ্যান বাটিকার একাংশে অসিচালনার প্রতিযোগিতা চলিতেছিল।

দুই প্রতিযোগীর একজন স্থূলাঙ্গ, কথঞ্চিৎ খর্বকায়, কিন্তু তাহার হস্তধৃত তরবারির অনায়াস চালনা এবং দেহের স্থূলতা সত্ত্বেও অঙ্গসঞ্চালনের দ্রুতি প্রশংসনীয়।

অপর ব্যক্তি দীর্ঘকায়, অসিচালনায় নিপুণ। সে কদাপি তাহার প্রতিযোগীকে আক্রমণ করিতেছিল না, কিন্তু ক্ষিপ্র পদসঞ্চারে প্রতিদ্বন্দ্বীর সমস্ত আঘাত তীক্ষ্ণ অনুমানবলে প্রতিহত করিতে সক্ষম হইতেছিল।

অর্ধদণ্ড সমানে সমানে লড়িবার পরেও অসিযুদ্ধ অমীমাংসিত রহিল। উভয়েই উচ্চহাস্য করিয়া মস্তকের লৌহাবরণ উন্মোচিত করিয়া পরস্পর আলিঙ্গনাবদ্ধ হইল।

দীর্ঘাঙ্গ প্রতিযোগীটির সুকোমল মুখশ্রী দেখিয়া অনুমান হয়, সে নিতান্ত অল্পবয়সী — অনধিক ষোড়শ বা সপ্তদশবর্ষীয় কিশোর মাত্র। স্থূলদেহ ব্যক্তির বয়ঃক্রম আনুমানিক পঞ্চবিংশতি বৎসর হইবে। তাঁহার নাম ভণ্ডী।

প্রভাকরবর্ধনের সঙ্গে বিবাহের পরে প্রাক্তন মালব-রাজপুত্রী যশোমতী যখন উজ্জয়িনী হইতে স্থানীশ্বরে আসিলেন, তখন তাঁহার ভ্রাতা শিলাদিত্যের বালকপুত্র ভণ্ডী পিতৃষ্বসার সঙ্গী হইল। কুচক্রী দেবগুপ্তের দ্বারা শিলাদিত্যের পরাজয় এবং হত্যার পরে তাহার মালবরাজ্যে ফিরিবার পথ রুদ্ধ হইল।

তদবধি ভণ্ডী স্থানীশ্বরেই স্থিত হইয়াছিলেন এবং কালে কালে অস্ত্রশিক্ষা ও নানাবিধ রণকৌশলে পারঙ্গম হইয়া পুষ্যভূতিরাজ প্রভাকরবর্ধনের বিশেষ বিশ্বাসভাজন হইয়া উঠিয়াছিলেন।

এক্ষণে অল্পবয়সী তরুণটিকে লক্ষ্য করিয়া ভণ্ডী কহিলেন, “রাজপুত্র, তোমার তরবারি চালনার শিক্ষা অদ্য সমাপ্ত হইল। অসিধারী হিসাবে তুমি অনন্য পারদর্শিতার পরিচয় দিয়াছো” — বলিয়া ঈষৎ অভিমানভরে বলিলেন –“তরবারি চালনায় আমাকে প্রতিহত করিতে পারে, এমন দক্ষ অসিধারক সমগ্র উত্তরাপথে বিরল। হর্ষ, তোমার জন্য আমি গর্বিত”।
সম্রাট প্রভাকরবর্ধনের দ্বিতীয় পুত্র, রাজা রাজ্যবর্ধনের ভ্রাতা কুমার হর্ষবর্ধন ভণ্ডীর এইরূপ উদাত্ত প্রশস্তি শুনিয়া স্মিতমুখে মস্তক অবনত করিলেন।

রাজ অন্তঃপুরে, রাজ্ঞী যশোমতীর মহলে তখন রাজ্যবর্ধনের আসন্ন বিবাহের ব্যবস্থাপনা এবং উদযোগ লইয়া অন্তঃপুরিকাগণের মধ্যে প্রভূত জল্পনা এবং ব্যস্ততা লক্ষিত হইতেছিল। অবরোধের মুখ্য দাসী হিমদত্তা সঙ্গিনীদের উদ্দেশ্যে সখেদে কহিতেছিল, “রাণী মায়ের মত নাই তো কি, যুবরাজ পণ করিয়াছিলেন যে বিবাহ করিলে শকুন্তলাকেই করিবেন, অপর কাহাকেও নহে। সেই জন্যই তো এত শীঘ্র সমস্ত আয়োজন করিতে হইতেছে।

অঙ্গুরী বিনিময়, বাগদান সকলই তো সংক্ষেপে সারা হইয়া গিয়াছে, এখন শুনিতেছি, কল্যই মাঙ্গলিক কর্ম আরম্ভ হইবে”, বলিয়া হাসিয়া উঠিল — “রাজার আর ত্বরা সহিতেছে না”।

দেবকীর্তি নাম্নী আর একটি রসিকা দাসী প্রশ্ন করিল — “রাণী মায়ের অমত হইল কেন? শ্রেষ্ঠীকন্যা শকুন্তলা তো অপ্সরীতুল্যা সুন্দরী — অপছন্দ করিবার তো কোনও কারণ নাই!”

বয়স্কা দাসী জিতসেনা মুখভঙ্গি করিয়া উত্তর দিল — “তোমাদের অজ্ঞানতা দেখিয়া যাইব কোথায়? শকুন্তলা সুন্দরী বটে কিন্তু অন্যের প্রণয়িনী, তাহাও কি জানো না? তবে জানো কি?”

হিমদত্তা ছাড়িবার পাত্রী নহে। সেও ওষ্ঠাধর সূচালো করিয়া প্রত্যুত্তরে কহিল — “মরিয়া যাই দিদি, প্রণয়িনী আবার কি? মনে মনে কাহাকেও কামনা করিলে প্রণয়িনী হয় নাকি? সেনানী চন্দ্রবর্মা তো একটি দিনের তরেও শকুন্তলার প্রণয় স্বীকার করিয়াছে বলে সংবাদ নাই। অমন মনে মনে হৃদয় দান তো আমিও যুবরাজকে করিয়াছি — তাই বলিয়া আমি কি তাঁহার প্রণয়িনী হইলাম?”

যুগপৎ হাস্য এবং উচ্ছ্বাসের হিল্লোল উঠিল।

চম্পা রাজ-অবরোধের অন্যান্য দাসীদিগের মধ্যে সদ্য অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে, তাহার বিস্ময়বোধ কিছু বেশী। সে কপোলে করাঙ্গুলি স্পর্শ করিয়া সবিস্ময়ে বলিয়া উঠিল — “কিন্তু আমি তো চিরকাল শুনিয়া আসিতেছি রাজপুত্রের সহিত রাজকন্যারই বিবাহ হয়। বণিকপুত্রী রাজবধূ হইবে কিরূপে?”

জিতসেনা গম্ভীর হইল — “তোমরা সব নূতন মানুষ বাছা, পুরাতন ইতিহাস কিছুই জানো না! আমাদিগের বৃদ্ধ রাজার প্রপিতামহী তো বৈশ্যকন্যা ছিলেন — হূণ বণিকের বনিতা! সেই হিসাবে এই বংশটাই তো শ্রেষ্ঠীবংশ — নেহাত গুপ্তরাজাদের অনুগ্রহে খানিক আর্য্যরক্ত মিশিয়াছে বলিয়া ইঁহারা ক্ষত্রিয়দিগের জাতে উঠিয়াছেন” — অন্দরমহলের দ্বারে রাণী যশোমতীর অবয়ব প্রতীয়মান হওয়া মাত্র জিতসেনার প্রগলভতা সহসা বাধাপ্রাপ্ত হইয়া থামিয়া গেল। অন্যান্য দাসীবৃন্দের মধ্যেও অনাবশ্যক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হইল। কেহ গবাক্ষের পুষ্পশোভার বিন্যাসে মন দিল। কেহ বা সুবর্ণথালে পর্ণসম্পূট সাজাইতে ব্যস্ত হইয়া পড়িল। রাণী গম্ভীরমুখে ইহাদের অবলোকন করিয়া নিঃশব্দে মহল পার হইয়া গেলেন।

রাজ্যবর্ধন রাজসভা হইতে ফিরিয়া কিঞ্চিৎ জলযোগান্তে বিশ্রামের উদ্যোগ করিতেছিলেন। এমতাবস্থায় রাণী যশোমতী পুত্রসমীপে আসিয়া উপস্থিত হইলেন।

এই বিবাহে জ্যেষ্ঠ পুত্রের ইচ্ছায় ক্লিষ্টমনে সম্মতি দিবার পর হইতে যশোমতী তাহার সহিত বিশেষ বাক্যালাপ করিতেন না — ইহাতে রাজ্যবর্ধনের হৃদয়ে গ্লানিমিশ্রিত ক্ষোভের সঞ্চার হইয়াছিল।
তাই আজ মাতাকে স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া তাঁহার নিকট আসিতে দেখিয়া নূতন রাজা যথেষ্ট আনন্দিত হইলেন।

রাজ্যবর্ধন আন্তরিক ভাবে মাতৃসম্বোধন করিয়া কহিলেন — “আমাকে আদেশ করিলেই আমি গিয়া আপনার সহিত সাক্ষাৎ করিতাম মাতা। আমার নিকট আসিবার ক্লেশ স্বীকার করিবার আপনার কোনও প্রয়োজন ছিল না”।

রাজমাতা গম্ভীরকণ্ঠে বলিলেন — “প্রয়োজনেই আসিয়াছি পুত্র। তোমার বিশ্রামে ব্যাঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নহে। মৌখরীরাজ এবং কামরূপরাজকে আমন্ত্রণ লিপি প্রেরণ করা হইয়াছে সে সম্বন্ধে অবগত আছি। আমার ইচ্ছা মালবরাজকেও নিমন্ত্রণলিপি পাঠানো হউক। একটি বিবাহের আমন্ত্রণ সম্বন্ধীয় সদাচারের মাধ্যমে যদি দুইটি রাজ্যের দীর্ঘকালীন বিবাদের অবসান হয়, তাহার ন্যায় মঙ্গল আর কিছুতে হয় না”।

কক্ষে বজ্রপাত হইলেও বোধ করি রাজ্যবর্ধন এতটা বিচলিত হইতেন না। মাতৃমুখে এ কেমন বাক্য তিনি শ্রবণ করিলেন? মালবরাজ দেবগুপ্ত? তাঁহার মাতা যশোমতী দেবগুপ্তকে আতিথ্যে বরণ করিতে চাহিতেছেন? এই বিবাহের প্রসঙ্গ তাঁহার এতই ক্লেশকর হইয়াছে যে তিনি ভ্রষ্টপুরুষ দেবগুপ্তকে আমন্ত্রণ জানাইতে দ্বিধাবোধ করিতেছেন না?

রাজ্যবর্ধন নিবাত নিষ্কম্প অগ্নিশিখার ন্যায় দাঁড়াইয়া রহিলেন, তাঁহার বাক্যস্ফূর্তি হইল না।

বাক্যস্ফূর্তি হইবার বিশেষ অবসরও রহিল না। মাতাপুত্রের মধ্যকার অলঙ্ঘ্যনীয় নৈঃশব্দ্যের উপরে একটি ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ অকস্মাৎ ঘূর্ণিবাত্যার তুল্য আসিয়া আছড়াইয়া পড়িল।

পুষ্যভূতিরাজ্যের উত্তরভাগে কর্মরত গূঢ়পুরুষ গোষ্ঠক ভগ্নদূতের ন্যায় আসিয়া সংবাদ দিলো, গান্ধার রাজ্যের হূণ নেতা প্রবরসেন দশসহস্র সেনা লইয়া উত্তরাপথ বাহিয়া পুষ্যভূতি রাজত্বের সীমানায় আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে। তাহাকে অবিলম্বে না ঠেকাইলে, বিদেশীর দ্বারা রাজ্য দখল হইতে বিশেষ বিলম্ব হইবে না।

(ক্রমশ)

PrevPreviousবিচারপতি অশোক কুমার গাঙ্গুলির মুখোমুখি অভয়া মঞ্চ
Nextহৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় নজরুল: বৃহত্তর বিধান নগর অভয়া মঞ্চের আলোচনা সভায় মীরাতুন নাহারNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

বাংলায় বিজ্ঞান অক্ষয়

July 17, 2026 No Comments

বিদ্যাসাগর তাঁর লেখা “জীবনচরিত” বইটার পরিশিষ্ট অংশে “দুরুহ ও সঙ্কলিত নুতন শব্দের অর্থ” শিরোনামে একটি তালিকা দিলেন। এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক পরিভাষা যেমন আছে, তেমনই অন্যান্য

Sangrami Ganamancha Statement of Support

July 17, 2026 No Comments

The Cockroach Janta Party (CJP) began a massive sit-in protest and hunger strike at the Jantar Mantar Ground in New Delhi since June 20, demanding

অন্নপূর্ণার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

July 17, 2026 No Comments

জুলাইয়ের শুরু থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ‘টাকা না পেয়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বহরমপুর, উত্তরপাড়া, বোলপুর, রামপুরহাট, শান্তিপুর, বিষ্ণুপুর, দত্তপুকুর, ঘাটাল, মেখলিগঞ্জ, পুরশুড়া- বহু

একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে হাতিয়ার করে নিজেদের এজেন্ডা পূরণ করবেন না।

July 16, 2026 No Comments

একদিন সকালে ক্যাথল্যাব শুরু হবে, খবর আসে একজন প্রথম বর্ষের ছাত্র পরীক্ষা দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে, তাকে ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হচ্ছে। এটা কিন্তু কোনো

ভালবাসি জীবনকে আর মৃত্যুকে।

July 16, 2026 No Comments

ভালবাসি জীবনকে আর মৃত্যুকে। ভালবাসি শান্তিকে আর অবিশ্রান্ত সংগ্রামকে। যে ভালবাসতে জানে, সে সবকিছুই ভালোবাসে। মায়ের কোলের স্মৃতি থেকে আগুনে পুড়তে পুড়তে তার লেলিহান শিখা-

সাম্প্রতিক পোস্ট

বাংলায় বিজ্ঞান অক্ষয়

Dr. Samudra Sengupta July 17, 2026

Sangrami Ganamancha Statement of Support

Sangrami Gana Mancha July 17, 2026

অন্নপূর্ণার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

Satabdi Das July 17, 2026

একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে হাতিয়ার করে নিজেদের এজেন্ডা পূরণ করবেন না।

Dr. Subhanshu Pal July 16, 2026

ভালবাসি জীবনকে আর মৃত্যুকে।

Dr. Aindril Bhowmik July 16, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

651232
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]