Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

অ্যাংলো – স্যাক্সন দুরভিসন্ধি , বিশ্ব পরিস্থিতি এবং ভেনেজুয়েলা

Oplus_131072
Bappaditya Roy

Bappaditya Roy

Doctor and Essayist
My Other Posts
  • January 7, 2026
  • 9:15 am
  • One Comment

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন ফৌজের ভেনেজুয়েলা আক্রমণ, একটি সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী কে মধ্যরাত্রে তাঁদের শোবার ঘর থেকে অপহরণ করে হাতকড়া পরিয়ে মার্কিন ডিটেকশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া ও বিশ্বজুড়ে সেই ছবি প্রচার এবং এবার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা কে পরিচালনা করবে ঘোষণা- ঘটনাবলীকে কেউ কেউ পড়ন্ত মার্কিন রাষ্ট্রের মরীয়া সামরিক অভিযান, আবার কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনা, দাদাগিরি, গুন্ডামি, বর্বরতা ইত্যাদি আখ্যা দিয়েছেন।

সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে আগ্রাসনটি শুধু এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়, খুবই পরিকল্পিত, সুরূপায়িত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন, দখলদারি, দুনিয়াদারি, সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব কায়েম, সম্পদ লুঠ কর্মসূচির অঙ্গ। যে যাই বলুক, বাস্তব ঘটনা ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবজাত পুঁজিবাদের বিকাশের পর থেকে অ্যাংলো – স্যাক্সন রা আধুনিক বিশ্বে বিগত তিনশো বছর রাজত্ব করে আসছেন। ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ অবধি বিশ্বের সবচাইতে ধনী ও ঐশ্বর্যশালী ভারতভূমিতে ১৯০ বছর ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, লুঠ করে ইংল্যান্ড সবচাইতে ধনী দেশ হয়ে গেছে, আর ভারতীয় উপমহাদেশ হয়ে গেছে দুর্ভিক্ষপীড়িত, মহামারীআক্রান্ত এক হতদরিদ্র দেশ। অনুগত দালালদের ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে তারা ঢেলে দিয়ে গেছে চিরস্থায়ী সাম্প্রদায়িকতার অক্ষয় বিষ এবং ভয়াল দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির পর রক্তস্নাত দাঙ্গা লাগিয়ে দেশটিকে তিনটুকরো করে ভারতীয় উপমহাদেশে পারস্পরিক ঘৃণা ও বিবাদ বাঁধিয়ে দিয়ে গেছে। তথ্য বলছে কোন না কোন সময় ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে গ্রেট ব্রিটেন বিশ্বের মোট ১৯৩ টি রাষ্ট্রের মধ্যে ১৭১ টিতে সামরিক আক্রমণ / যুদ্ধ / দখলদারি চালিয়েছে।

বড়দা ব্রিটেনের হাত ধরে মূলতঃ প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে প্রবল সামরিক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসাবে ছোট ভাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান। কোন বিশ্ব যুদ্ধই নিজের দেশের মাটিতে না হওয়ায় ও বিজয়ী পক্ষে থাকায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচাইতে সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছে যাওয়ায় এবং পুঁজিবাদ, বিজ্ঞান, গবেষণা, মানব সম্পদ, প্রযুক্তির চূড়ান্ত বিকাশ ঘটিয়ে সে সকলকে ছাপিয়ে যায়। পরিসংখ্যান বলছে এই সময়ের মধ্যে সে ৮৪ টি রাষ্ট্রে সামরিক আগ্রাসন ও দখলদারি চালায় এবং দুনিয়াটিকে নিজের সুবিধামত ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। এই মুহূর্তে ইজরায়েল ও ইউক্রেন কে যুদ্ধে সরাসরি সাহায্য ছাড়াও নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ভেনেজুয়েলায় সে সরাসরি যুদ্ধরত। গাজা থেকে সমস্ত প্যালেস্তানীয়কে মিশর ও জর্ডানে বিতাড়িত না করতে পেরে তাদের দক্ষিণ দিকে ঠেলে গাজার দুই তৃতীয়াংশ দখলদারি করে ফেলেছে এবং সুয়েজ খালের একটি সমান্তরাল খাল তৈরি করছে।

অসংখ্য আগ্রাসী, আক্রমণাত্বক, সাম্রাজ্যবাদী আচরণের মধ্যে ইরানের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ মোশাদ্দেগ সরকারের অপসারণ, ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট সুকর্ণ কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া, কঙ্গোর বিপ্লবী নায়ক প্রধানমন্ত্রী প্যাত্রিস লুলুমবাকে হত্যা, চিলির জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দে র সরকারকে ফেলে দেওয়া, লাতিন আমেরিকার বিপ্লবী সংগঠক চে গুয়েভারা কে বলিভিয়া তে খুন বিশেষ উল্লেখযোগ্য। আবার অন্যদিকে সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে ইরান আক্রমণ, পরে তাকে পর্যুদস্ত করে লুকোনো গুহায় ইঁদুরের মত হত্যা, ইরাক কে ধ্বংস করে দেওয়া এবং ইরাক ও কুয়েতের তেল ভাণ্ডার আত্মসাৎ; লিবিয়ার গদ্দাফি কে দিয়ে উত্তর আফ্রিকায় দাদাগিরির পর কথা না শোনায় তাকেই কুকুরের মত রাস্তায় গুলি করে হত্যা; লাদেনের মাধ্যমে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নকে আটকে পরে লাদেন বিগড়ে গেলে তাকে পাকিস্তানের আবেটাবাদে বিশেষ অপারেশন করে হত্যা; ইরাক ও সিরিয়া ধ্বংস ও কব্জা করতে ‘ ইসলামিক স্টেট ‘ ভয়ংকর ঘাতক বাহিনী তৈরি করে তাদের দিয়ে নারকীয় খুন, ধর্ষণ, অত্যাচার চালানো, আবার প্রয়োজন ফুরোলে ঘাতক নেতা বাগদাদী কে নৃশংসভাবে হত্যা প্রভৃতিও উল্লেখযোগ্য। উদ্দেশ্য একটিই। সমগ্র দুনিয়াকে নিজেদের তাঁবে রাখা। জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনস, দিয়েগো গার্সিয়া, আমিরশাহী, কাতার, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান, আফ্রিকার দেশগুলি তে সামরিক ঘাঁটি রাখা। ন্যাটোর মাধ্যমে সমগ্র ইউরোপে কর্তৃত্ব করা। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলিতে অর্থাৎ সমগ্র লাতিন আমেরিকায় নিজেদের আজ্ঞাবহ, লুঠ ও শোষণের সঙ্গী পুতুল সরকার বা সামরিক জুনতা বসিয়ে রেখে দেশগুলিকে কদলী প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করা।

মার্কসের চাইতে বাস্তবে অ্যাডাম স্মিথ সফল। পুঁজিবাদ বারেবারে সংকটে পড়লেও তার গতিশীলতা, স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবনী শক্তি, পরিবর্তনশীলতা থেকে অসততা, নির্লজ্জতা, নির্মমতা, সুবিধাবাদী আচরণের মধ্যে দিয়ে টিকে গেছে এবং ক্রমশঃ ফুলে ফেঁপে উঠেছে। ফ্লু অতিমারী এবং প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর উদ্ভূত মহামন্দাকে সে কেনসীয় ও সমাজতান্ত্রিক দাওয়াই দিয়ে সামলায়। সেই থেকে আজ অবধি সে যাবতীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বিশ্ব কর্তৃত্ববাদের দিকে এগিয়েই চলেছে; কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুগোস্লাভিয়া সহ সমাজতান্ত্রিক দেশগুলি সাময়িক উন্নতি ঘটালেও অচিরে গভীর সংকটে রয়ে গিয়ে শেষে শুধু পতন নয় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। পরবর্তী ওয়াল স্ট্রিট সঙ্কট সহ সমস্ত সংকট কে সামাল দিয়ে সে তার বহুজাতিক কর্পোরেট সংস্থাগুলি নিয়ন্ত্রিত নব উদারতাবাদী অর্থনীতির ডালি নিয়ে সমস্ত দেশের অর্থনীতিকে বিশ্বায়নের মাধ্যমে নিজের দখলে নিয়ে এসেছে। ভারী শিল্পগুলির অচলাবস্থা, বাণিজ্য ঘাটতি, অতিরিক্ত খরচ, মন্দা, বেকারত্ব, ঋণের পাহাড় ইত্যাদি ঘটিত বর্তমান সংকটকেও সে নতুন নতুন যুদ্ধ বাধিয়ে অস্থির পরিবেশ তৈরি করে তার উপর অন্যদেশগুলিকে নির্ভরশীল করে ও অস্ত্র বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করে; সামরিক বাহুবল দেখিয়ে ভয় পাইয়ে অথবা ইরাক ও ভেনেজুয়েলার মত সরাসরি দখল করে তেল লুঠ করে; বাণিজ্য শুল্ক প্রভৃতির মত নিজের সুবিধা মত নিয়ম চাপিয়ে; অবাধ্যদের উপর সার্বিক নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া চাপিয়ে তাদের শেষ করে দিয়ে কিংবা গায়ের জোরে ডলারের মূল্য চড়িয়ে সামলে ওঠার ও একাধিপত্য বজায় রাখার ব্যবস্থা করছে। রাষ্ট্র হিসাবে বর্তমান পুঁজিবাদের সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এভাবেই তার কর্তৃত্ব বজায় রাখছে। এরজন্য সে আইসেনহাওয়ার, জনসন, নিক্সন, রেগন, বুশ পিতা – পুত্র, ট্রাম্প প্রমুখ যখন যেরকম প্রয়োজন আগ্রাসী প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করেছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসে অর্থনৈতিক সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ বেকারত্ব বৃদ্ধিকে অভিবাসী বিরোধী জাতি বিদ্বেষ, অতি কড়াকড়ি, শ্বেত উগ্র জাতীয়তাবাদ, বিশ্বজুড়ে সামরিক মাতব্বরির ‘ আমেরিকা শ্রেষ্ঠ ‘ নীতির মাধ্যমে সামাল দিচ্ছেন। সুতরাং ট্রাম্প কোন বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি বা ঘটনা নন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার এবং বৃহৎ পুঁজির এক প্রয়োজনবাদী প্রতিভূ। খনিজ সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড ইত্যাদি দখল বহুদিনের মার্কিন কর্মসূচি, অ্যাংলো – স্যাক্সন দুরভিসন্ধি।

সামরিক, অর্থনীতিক, বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত শক্তিতে বলীয়ান হয়ে চিন তার ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেললেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজও দুনিয়ার সবচাইতে বড় সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রযুক্তি শক্তি। রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ কে দুর্বল করে; পশ্চিম ইউরোপকে কব্জায় নিয়ে; মধ্য এশিয়া (ইরান বাদে), আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দখলদারি সম্পূর্ণ করে সে এবার পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায় হাত বাড়িয়েছে। ডিপ স্টেটের মাধ্যমে এবং তার সহজ ও কার্যকর অস্ত্র ইসলামী মৌলবাদ ও জাতিবিদ্বেষকে দিয়ে এবং আর্থিক সঙ্কট তৈরি করে সে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার প্রভৃতি দেশে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নির্বাচিত সরকার গুলিকে ফেলে দালাল ও পুতুলদেরদের ক্ষমতায় বসাচ্ছে। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বাধাচ্ছে। হাতের মুঠো থেকে বারবার পিছলে যাওয়া ভারতকে ঘিরে ধরেছে। কাশ্মীর ও উত্তর পূর্ব ভারত এবং রাখাইন ও পার্বত্য চট্টগ্রামকে ধরে অশান্তি ও অস্থিরতার নতুন নীল নক্সা তৈরি করছে ও চিনের কাছ থেকে নজরদারি কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাইছে। মায়ানমারের কোকো দ্বীপের পাল্টা বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ঘাঁটি গড়তে চলেছে। সাম্প্রতিক ভারত – পাকিস্তান সংঘর্ষ কে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের দেউলিয়া সরকারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ইতিমধ্যেই বালুচিস্তান ও পাঞ্জাবে ইরান ও ভারত সন্নিকটে দুটি সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে পাশাপাশি সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে হাত বাড়িয়েছে। এই পর্বে সামরিক শক্তিধর ইরানকে ইজরায়েলের মাধ্যমে ও নিজে পর্যুদস্ত না করতে পেরে পরবর্তী আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাশিয়া ভেঙ্গে যাওয়া, দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে আটকে পড়ায় তলেতলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের সঙ্গে চূড়ান্ত দ্বৈরথের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একমাত্র সামরিক দিক থেকে বলীয়ান সোভিয়েত ইউনিয়ন তাকে গত শতাব্দীর ৫০ থেকে ৮০ এর দশক অবধি কিছুটা সংযত রাখতে পেরেছিল, নাহলে কিউবা, অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়ার মত দেশগুলিকে সে হাইতি বা গ্রেনাডার মত দশা করে দিত। কিন্তু ১৯৯১ তে সোভিয়েতের পতনের পর সেই বাধাটুকুও থাকলোনা। রাশিয়া ও চিনের সাহায্যে ভিয়েতনামের অবিচল ও দক্ষ গেরিলা যুদ্ধ একমাত্র তাদের পর্যুদস্ত করেছিল যদিও নাপাম ইত্যাদি দিয়ে তারা দেশটিকে জ্বালিয়ে দিয়ে এসেছিল। ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে মূল বাহিনী সরানোর আগে দেশদুটিকে ছিবড়ে করে ও ভগ্নস্তূপে পরিণত করেছে। মার্কিনীদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য যে দেশে সেনা রেখেছে নিজেদের লালসা ও ফূর্তির মাধ্যমে সেখানকার নারী সমাজকে পতিতাবৃত্তিতে নামাতে বাধ্য করেছে। থাইল্যান্ড সহ অজস্র প্রমাণ। রাশিয়া বিপদের সময় কিউবা থেকে ভারত বহু দেশকে সাহায্য করলেও সমাজতন্ত্রের মোড়কে হান আধিপত্যবাদী চিন নিজ স্বার্থ ছাড়া কোথাও এগোয়নি, বিরাট সামরিক শক্তি হলেও বিপদের সময় কোন দেশের পাশে দাঁড়ায় নি। বরং ঋণ ফাঁদে জড়িয়ে এশিয়া, আফ্রিকার দেশগুলিকে নিজের কব্জায় নিয়ে এসেছে। একমোদ্বিতীয়ম রেজিমেন্টেড কমিউনিস্ট পার্টির একনায়কতন্ত্রে বিদেশি প্রযুক্তি এবং দেশীয় সস্তা ও দক্ষ শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিকা শক্তির অভাবনীয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সামরিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্য, পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত বিস্ময়কর উন্নতি ঘটালেও দেশের আভ্যন্তরীণ গনতন্ত্র দমনে কঠোর থেকেছে; তিব্বতী, উইঘুর প্রমুখ জনজাতিদের দমন করেছে; তিব্বত দখল রেখেছে; ভারতের আকসাই চিন ও লাদাখের একাংশ নিয়ে নিয়েছে; পাকিস্তানের শাকসগ্রাম ও গদর নেওয়ার পর আফগানিস্তানের ওয়াতন করিডোরের দিকে হাত বাড়িয়েছে; হংকং ও ম্যাকাও নেবার পর তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলেছে; রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনস, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদে জড়িয়েছে; সমগ্র চিন সাগরে আধিপত্য চালাচ্ছে; বাংলাদেশে ও উত্তর পূর্ব ভারতে ভারত বিরোধী কার্যকলাপে মদত দিয়ে চলেছে; নেপাল ও মাল দ্বীপ কেও ভারত বিরোধিতার কাজে লাগাচ্ছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মত কিছুক্ষেত্রে মার্কিন ও চিনের স্বার্থ এক হয়ে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে সে ইরান হোক আর ভেনেজুয়েলা হোক চিন তাকে ঋণ দিয়ে সুদ সহ ঋণ ফাঁদে জড়াতে ও সম্পদ গুলি দখল করতে পারে, অস্ত্র ভোগ্যপণ্য ও অন্যান্য দ্রব্য বিক্রি করতে পারে, কিন্তু মার্কিনের আক্রমণের সময় পাশে দাঁড়াবে না। বড় জোর চিনা বিদেশ দপ্তর একটি নিন্দসূচক বিবৃতি দেবে। দীর্ঘস্থায়ী ইউক্রেন যুদ্ধে এক পা গেঁথে আর্থিক সহ বিভিন্ন দিকে দুর্বল হয়ে পড়া রাশিয়ার সাধ থাকলেও সাধ্য নেই অন্যদের সাহায্য করার। সিরিয়া সহ সমগ্র মধ্য প্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে মার্কিনকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে সামরিক ঘাঁটি গুলি তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে, অন্যদেশের কাছ থেকে সেনা ভিক্ষা চাইছে। সুতরাং মার্কিন একবিশ্ব মেরুকরণ এবং তার হুকুমদারি ও আগ্রাসনের সম্মুখে প্রথম বিশ্ব সহ তৃতীয় বিশ্বের সবকটি রাষ্ট্র এখন যারপরনাই অসহায়।

আরেকটি বিষয় ভাবার আছে যে তীব্র মার্কিন বিরোধিতার সময় থেকেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও সামরিক কমান্ডার হুগো চেভেজ তেলের টাকায় সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করে তোলেন। পরে মাদুরো এসেও সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের কথা মাথায় রেখে তেলের টাকায় রুশ ও চিনা অস্ত্র কিনে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে মজবুত করেন। বিগত কয়েকমাস যাবৎ মার্কিনের সামরিক অবরোধ তাদের প্রস্তুতও রেখেছিল। মাদুরো আরেকটি ভিয়েতনামের বার্তাও দিয়ে রেখেছিলেন। তাহলে আগ্রাসন যখন হল তখন ভেনেজুয়েলার সেনা বাহিনী ও মিলিশিয়ারা সেভাবে কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলো না কেন? মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট যতই নিখুঁত থাকুক, মার্কিন ডেল্টা কমান্ডোরা যতই অপারেশনে দক্ষ হোক, এত সহজে ট্রাম্পের ভাষায় টেলি সিরিয়ালের মত প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী কে শয়নঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব?

এটিও মানতে হবে বিরোধীদের দমন, দুর্নীতি, নির্বাচনে কারচুপি, দুর্বল অর্থ ব্যবস্থা চালনা, বিশৃঙ্খলা, তাকে ঘিরে বিশেষত তার স্ত্রীর আত্মীয়দের এক সুবিধাবাদী অভিজাততন্ত্রের বাড়াবাড়ি জনতার ও শাসন ব্যবস্থাপক এক বড় অংশের কাছে মাদুরো কে অজনপ্রিয় করে তুলেছিল বাংলাদেশের হাসিনার মত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্টরা কি তাহলে বাংলাদেশের মত সেনা বাহিনী এবং মাদুরোকে ঘিরে থাকা লোকজনদের একাংশকে হাত করে এই সাফল্য পেল?

PrevPreviousBlasphemy-র ইতিবৃত্ত
Nextযমজ সন্তান সম্পর্কেNext
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Rational Medicine
Rational Medicine
7 months ago

Anglo-Zionist imperialismএর যথার্থ বর্ণনা

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

অভয়া বিচার পায়নি তাই দিকে দিকে বেড়ে চলেছে এই অপরাধ…

August 7, 2026 No Comments

সমসাময়িক বিশ্বের প্রেক্ষিতে জর্জ অরওয়েলের পুনর্পাঠ: Animal Farm, Nineteen Eighty-Four, Brave New World এবং ডিজিটাল যুগের গণতন্ত্র

August 7, 2026 No Comments

প্রস্তাবনা বিশ শতকের রাজনৈতিক সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলে জর্জ অরওয়েলের নাম অনিবার্যভাবে সামনে আসে। অথচ অরওয়েলের গুরুত্ব কেবল এই কারণে নয় যে তিনি স্বৈরতন্ত্রের

ব্রিজভূষণ শরণ সিং এবং বিনোদ তোমর নির্দোষ!

August 7, 2026 No Comments

৩ অগাস্ট ২০২৬ দিল্লি কোর্ট পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই এই যুক্তিতে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ও Wrestling Federation of India (WFI) এর প্রাক্তন প্রধান ব্রিজভূষণ শরণ সিং

Our journey will not end until justice is done.

August 6, 2026 No Comments

The brutal crime that took place on 9 August within the premises of a government hospital and educational institution remains without justice. Time has passed,

কেন বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ

August 6, 2026 1 Comment

কেন – বেতোয়া নদী সংযোগের পরিকল্পনাকে নিয়ে প্রচুর বিতর্ক ও আশঙ্কা দানা বেঁধেছে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মনে। আত্মগর্বী প্রশাসন “কর্ণেন বধির” এবং “চক্ষুষা কানঃ”

সাম্প্রতিক পোস্ট

অভয়া বিচার পায়নি তাই দিকে দিকে বেড়ে চলেছে এই অপরাধ…

Abhaya Mancha August 7, 2026

সমসাময়িক বিশ্বের প্রেক্ষিতে জর্জ অরওয়েলের পুনর্পাঠ: Animal Farm, Nineteen Eighty-Four, Brave New World এবং ডিজিটাল যুগের গণতন্ত্র

Dr. Sukanti Bhattacharya August 7, 2026

ব্রিজভূষণ শরণ সিং এবং বিনোদ তোমর নির্দোষ!

Abhaya Mancha August 7, 2026

Our journey will not end until justice is done.

West Bengal Junior Doctors Front August 6, 2026

কেন বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ

Somnath Mukhopadhyay August 6, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

658768
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]