ছোটবেলা থেকে একটা কথা শুনে আসছি যে সাংবাদিকরা হলেন গণতন্ত্রের ওয়াচ ডগ। চাকরি করতে এসে ভাবতাম আমরা সরকারি কর্মচারী বা তাহলে কি? এত দিন চাকরি করার পর মনে হয়েছে যে আমরাই আসলে প্রকৃত ওয়াচ ডগ। আমার সহকর্মী বন্ধুরা আমার এই কথাটাতে অপমানিত বোধ করবেন না আশাকরি। আমাদের মুখে আসলে ঠুলি পরানো থাকে।। সেই ঠুলি বা মাজলটা খুলে দিন, দিয়ে দেখুন একবার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমরা ঘেউ ঘেউ করতে পারি কিনা, কামড়াতে পারি কিনা।
এত কথা আজকে লেখার প্রাসঙ্গিকতা একটাই। খাদ্য সুরক্ষা আইন বহুদিন ধরেই বলবৎ আছে। জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষায় এই আইনের গুরুত্বে অসীম। এই আইন কার্যকর করার জন্য আমরা অর্থাৎ স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মীরা, ফুড সেফটি অফিসাররা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের মুখে ঠুলি পরানো ছিল। এইবার সর্বোচ্চ মহল সেই ঠুলি সরিয়ে দিয়েছেন। তাই তারা ঘেউ ঘেউ এর পাশাপাশি আঁচড়াচ্ছে, কামড়াচ্ছে। একের পর এক রেস্তোরাঁ , মিষ্টির দোকান বন্ধ হচ্ছে, জরিমানা হচ্ছে। যে যতবড় হনু হোক, তার নিস্তার নেই আইন ভেঙ্গে।
আমি গর্বিত আমার সহকর্মী এই সব ফুড সেফটি অফিসারদের জন্য।।তারা জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কাজ করছেন। তাদের দায়িত্ব পালন করছেন, সৎ ভাবে নিরলস পরিশ্রম করে। আমি কৃতজ্ঞ কর্তৃপক্ষ এর কাছে আমাদের মুখের ঠুলিটা সরিয়ে দেওয়ার জন্য।
আমাদের এই বিশেষ অভিযান সাতদিন ধরে চলবে। জানি না তার পর কি হবে। তবে এই সাতদিন আমরা ঠুলি মুক্ত কুকুর হিসেবে, ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করার যে স্বাধীনতা উপভোগ করে নিলাম, সাধারণ জনগণ তথা খাদ্য ক্রেতার পাশে যে ভাবে দাঁড়াতে পারলাম সেই আনন্দ কোনোদিন ভুলব না। আমরা পাবলিক সার্ভেন্ট, জনগণের চাকর। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে আমাদের বেতন হয়, সংসার চলে। আমরা সেই চাকর হিসেবে বাঁচতে চাই, মাথা উঁচু করে ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করতে চাই।
ইতি
জনস্বাস্থ্যের সামান্য একজন কর্মী।













