গত ২৩ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে দফায় দফায় যে ১১টি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তার প্রতিটি পাতায় নাম বাতিলের খতিয়ান রয়েছে। নিয়মানুযায়ী, তালিকা প্রকাশের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে সেই বার্তা পৌঁছাচ্ছে না। যেমন, ২৭ মার্চ যাদের নাম বাদ পড়েছে, আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের আবেদনের সময় রয়েছে। অথচ আজ ৬ এপ্রিল হয়ে গেলেও প্রান্তিক মানুষগুলো এখনো অন্ধকারে ডুবে আছেন।
৫ এপ্রিল SASSC-র পক্ষ থেকে আমরা যখন উত্তর ২৪ পরগণার গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতে গেলাম, তখন ফেরার পথে বাসে কুশাংরার কিছু মানুষের অসহায় অভিজ্ঞতার কথা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। তাদের নামও বাতিল হয়েছে গত ২৭ মার্চ, অথচ স্থানীয় কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের জানায়নি যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার পথ খোলা আছে। ১১ তারিখ আবেদনের শেষ দিন হওয়া সত্ত্বেও ৫ তারিখ পর্যন্ত তারা জানতেনই না কী করতে হবে। তৃণমূল থেকে শুরু করে অন্য কোনো দলই তাদের আইনি বা প্রশাসনিক সাহায্যটুকু করছে না; বরং ‘এবারের ভোটটা দিতে না পারলেও পরে সব ঠিক হয়ে যাবে’—এমন অর্থহীন সান্ত্বনা দিয়ে তাদের ভুলিয়ে রাখা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি এই মানুষগুলো আবেদনই করতে না পারেন, তবে কি ভবিষ্যতে তারা আদৌ আর নাগরিক অধিকার বা ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াই লড়তে পারবেন?
বিজেপির লক্ষ্য স্পষ্ট—তারা বাংলার একটি নির্দিষ্ট অংশের মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়। কিন্তু রাজ্যের শাসক দল কিংবা অন্যান্য বিরোধী দলগুলো কেন এই স্পর্শকাতর ও জরুরি বিষয়ে কোনো কার্যকর প্রচার বা পদক্ষেপ করছে না, তা আমার বোধগম্য নয়। তথ্যের অভাবে এভাবে অসংখ্য মানুষ নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তায় তলিয়ে যাবেন, আর রাজনৈতিক দলগুলো কেবল ভোটের হিসাব কষবে—একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই চরম উদাসীনতা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে কঠিন।









