আমরা কিছুদিন আগে এক দৃশ্য মাধ্যমে দেখলাম হাবড়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক সরকারি হাসপাতালে গিয়ে সর্বসমক্ষে ঐ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে অপমান অসম্মান করে কথা বলছেন। এটাও শোনা যায় পরে ঐ বিধায়ক তাদের দলীয় অফিসে সুপারিনটেনডেন্টকে ডেকে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এই রাজ্যের শাসকদলের পরিবর্তন ঘটায় পর রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত নীতিকে মান্যতা না দিয়ে ঐ বিধায়ক কেন এমন করলেন তার উত্তর ঐ বিধায়কই দিতে পারেন।
আমরা অনেকেই এই ধরনের ঘটনা আগেও দেখেছি। সদ্য বিগত সরকারের আমলের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। ক্ষমতায় এসেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিচিত রোগীবান্ধব চিকিৎসকদের প্রকাশ্যে অপমান হেনস্থা দিয়ে শুরু করে অসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপরও নানা ধরনের আক্রমণ নামিয়ে আনেন। তার সঙ্গে একশ্রেণীর স্তাবক আমলা ও স্নেহধন্য চিকিৎসক মিলে রাজ্যের সর্বত্র এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল যেনতেন প্রকারে যত রকম ভাবে সম্ভব চুরি, তোলা আদায় করা। তার জন্য যে কোন ধরনের পরিচিত অপরিচিত কুকর্ম করতে তাদের কোন দ্বিধা ছিল না, ছিল না কোন বাধা। কারণ সব কিছুতেই ছিল শীর্ষস্তরের আশীর্বাদ বা অনুপ্রেরণা। তারই ধারাবাহিকতায় ও ফলশ্রুতিতে ঘটে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৯ আগষ্ট ও ১৪ আগষ্টের ঘটনা। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনের এই হালহকিকত সারা বিশ্বকে বিস্মিত, হতচকিত তথা ক্ষুব্ধ করে দেয়।
এই ঘটনার অভিঘাত ও তৎকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষের ক্ষোভ ক্রোধের প্রশমনের প্রতিশ্রুতি যে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার অন্যতম প্রধান কারণ এটা বিস্মৃত হয়ে যাওয়াটা কোন বিধায়কের ভবিষ্যতের পক্ষে ভাল নয়।
এরই বিপরীতে আমরা দেখতে পেয়েছি বর্তমান সরকারের কয়েকজন চিকিৎসক বিধায়কের বক্তব্য, আচরণ। পেশায় চিকিৎসক হওয়ার কারণে তাদের আচরণ বক্তব্য আগের সরকারের পেশায় দলীয় অসৎ রাজনীতির অনুগামী ও অনূসরনকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে দৃশতঃ ভিন্নধর্মী।
আমরা আরো অনেক পুরনো সময়ের কথা বলতে পারি। তবে সে কথা অন্য সময়ে বলা যাবে।
আপাতত একটু অন্য কথা বলা যাক। সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো বহুকালের পুরানো। বেডের তুলনায়, রোগীদের সংখ্যার তুলনায় ডাক্তার নার্স সহ সমস্ত স্তরের চিকিৎসা কর্মী সাফাই কর্মী করণিক সব কিছুর সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল বললেও বোঝানো যাবে না। সব সরকারি পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রেই ভোক্তার সংখ্যা নির্ণয় করে ও পরিসেবার ব্যাপ্তিকে বিবেচনা করে পরিসেবকদের ও পরিষেবা স্থলের মান, সংখ্যা ইত্যাদি নির্ধারিত হয়। আজ পর্যন্ত কোন সরকারই দাবি করতে পারবে না তারা ভেবেছিল বা জানত সরকারি হাসপাতালে কতজনকে কি কি পরিষেবা দেবে। সেকথাও না হয় পরে আলোচনা করা যাবে। মোটামুটি ভাবে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন যতজন রোগীর তুলনায় যে বেডের সংখ্যা অনেক কম সেটা বুঝতে পরিসংখ্যান না জেনেও প্রতিদিন কত ভর্তিযোগ্য রোগী সরকারি হাসপাতালে প্রত্যাখাত হয় সেটা দেখেই বোঝা যায়। তাছাড়াও আছে সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ট্রলিতে, মেঝেতে অগুনতি রোগীর অবৈজ্ঞানিক অমানবিক চিকিৎসার বাধ্যবাধকতায় নিতান্তই গুটিকয়েক চিকিৎসক, নার্সের অমানুষিক পরিশ্রম। সদিচ্ছা থাকলে অ-চিকিৎসক বিধায়করা তার এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে জেলা হাসপাতালের এমার্জেন্সি, বিভিন্ন ওয়ার্ডে একদিন করে পুরো দিনরাত দিনকয়েক থেকে দেখুন তিনি নিজের শরীরের বা মনের মধ্যে কোন পার্থক্য খুঁজে পান কিনা। এরপরও যদি সাধ ও সাধ্য থাকে কয়েকদিন সেই হাসপাতালের সুপারের, ডেপুটি সুপারের সঙ্গে সারাটা দিনরাত কি কি কাজ অকাজ করতে হয় দেখে নেবেন। এতসবের পরে আপনি যদি শরীরে মনে সুস্থ শরীরে থাকেন তখন ভাবতে চেষ্টা করবেন সরকারি হাসপাতালের পরিষেবায় গলদটা কোথায়।
আর একটা কথা। হাসপাতালে ঢোকার আর বের হওয়ার সময় হাসপাতালে চারপাশে আর সীমানার মধ্যে কি কি আছে, হচ্ছে বা হয়ে থাকে একটু লক্ষ্য করবেন। তবে এই সব কিছু আপনাকে করতে হবে সাধারণ মানুষের সাথেই মিশে থেকে, সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে হৈ চৈ করে নয়। প্রয়োজন মনে করলে নিরাপত্তা রক্ষীদেরও রাখতে পারেন তবে তারাও থাকবে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে।
যদি বিরক্ত না লাগে আর আগ্ৰহ থাকে আরও কিছু বলার চেষ্টা করা যাবে।











