এতগুলো জীবিত এক লহমায় শব … থ্যাঁৎলানো, পোড়া ,ছিন্নবিচ্ছিন্ন, সনাক্তকরণও কঠিন
পাশাপাশি নিথর শুয়ে ভারতীয়, ব্রিটিশ, পর্তুগীজ কানাডিয়ান,
হিন্দু মুসলমান শিখ খ্রীষ্টান নাস্তিক..কে জানে তাদের অনুপাত কেমন ছিলো,
একটু আগেই টা টা করা পরিবার পরিজন শোকে স্তব্ধ,
এক প্লেন ভর্তি স্বপ্ন আশা সুখ ভালোবাসা মুহূর্তে পুড়ে ছাই,
গোটা বিশ্ব শিউরে ওঠে ধ্বংসাবশেষ দেখে..
আর তক্ষুণি, খবরে উঠে আসে সিট নম্বর
এগারোর এ,
বেঁচে আছে , বেঁচে আছে একজন,
মৃত্যুর গ্রাস থেকে ফিরেছে অক্ষত।
এগারোর এ.. ধূসর মশান থেকে সবুজ ফিরেছে এক স্বপ্নের মতো।
কে ওই এগারোর এ? মহাভাগ্যবান কেউ?
দুশো লাশে বেঁচে থাকা আশা, সকলের মনে জিজ্ঞাসা,
হয়তো বা ঈর্ষা-ও,
আহা যদি আমার ভাগ্যখানা ওরকম হতো..
ওরকম মানে? এ লেখা পড়ছো তুমি , তার মানে বেঁচে আছো,
অসুখ অ্যাক্সিডেন্ট দাঙ্গা যুদ্ধ আর টেররিস্ট হানাকে পেরিয়ে,
গতকাল যারা বেঁচে ছিলো পৃথিবীতে,
এদের প্রকোপে তার মাঝে অনেকেই নেই হয়ে গেছে আজ,
তুমি আমি তার মাঝে টিকে আছি দ্যাখো!
আজ অবধি আমাদের আয়ু।
আজ-ও আমাদের কাউকে হঠাৎ অসুখ খাবে,
দুম করে মরে যাবো কেউ পথ-দুর্ঘটনায়,
ধর্ম জাত বা ভাষার কাজিয়া তাজা প্রাণ নেবে কারো,
কেউ যেখানে যখন থাকার কথা নয়, সেখানে তখন থেকে ফটো হয়ে যাবো,
মোটমাট, আজ যত লোক দিব্যি সুস্থ ভাবে আগামীর স্বপ্ন দেখছে,
কালকের দিনটা তাদের অনেকেরই অধরা থেকে যাবে,
আজকের দিন যাবে শেষ দাঁড়ি হয়ে।
আয়নায় নিজেকে দেখে মৃদু হেসে নাও আজ,
জীবনকে ভালোবাসো শোক-তাপ-হতাশাকে সয়ে।
আজ যারা বেঁচে আছি সকলেরই সিট নম্বর এক,
এগারোর এ।










