১লা মার্চ, ২০২৫
হাসপাতাল চলবে নিজের মতোই, থাকবেন না শুধু সঞ্জয় চ্যাটার্জি স্যার আর সোমনাথ কুণ্ডু স্যার। নিজ নিজ ক্ষেত্রে কিংবদন্তী দু’জন মানুষ একইদিনে নিজেদের চাকরিজীবন শেষ করলেন, এর চেয়ে বিস্ময়কর সমাপতন আর বুঝি কিছু হতে পারে না! সত্যি বলতে চিকিৎসা শিক্ষাক্ষেত্রে একদিনে এত বড় ধাক্কা আর কোনোদিন হয়েছে বলে মনে হয়না, কোনোদিন হতে পারে সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ। পশ্চিমবঙ্গে অন্তত মেডিক্যাল শিক্ষা বলতে আগামী দশকে অনলাইন ক্লাস ছাড়া আর কিছু থাকবেনা, এটুকু আমার বিশ্বাস। যেটুকু ছিল, তাও ফুরিয়ে আসছে।
এতো গেল শিক্ষার কথা। চিকিৎসা ক্ষেত্রে দু’জনের অবদানের উপন্যাস লিখতে বসলে কলম শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু লেখা শেষ হবেনা। দু’জনের জ্ঞান, অনুসন্ধিৎসা সর্বোপরি কর্মতৎপরতা মহাকাব্যিক- যে কোনো কঠিন কেসের বোর্ডে এঁদের উপস্থিতি ছিল ধ্রুবক। সেই অভাব কীভাবে পূরণ হবে জানা নেই।
কিন্তু তার চেয়েও যেটা বড়- এই ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রচারসর্বস্ব যুগে, আলগোছে মিনিমালিস্টিক জীবনযাপনের যে আদর্শ, সেটা বোধ হয় সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেল। শিক্ষা, চিকিৎসা- এসব হয়তো ম্যানেজ হয়ে যাবে কোনোভাবে, কিন্তু আমিত্বের নির্লজ্জ প্রদর্শনীর যুগে এই দু’টো মানুষের এথিকসের অটল স্থিরতা বোধ হয় আর কোনোদিন কোথাও দেখতে পাবো না।









