আজ সারাদিনে হোক কিংবা সুগভীর রাতে, বাংলা সংবাদ মাধম্যে খুব একটা দেখানো হয়নি ওদের ছবি। ফলত, ঘরে ঘরে ধ্বনিত হয়নি ওদের প্রত্যয়ী শ্লোগান। তুফান তোলেনি মধ্যবিত্ত মানবে; আজ। অস্বস্তি আনেনি ইলিশ মাছ, কাঁটা বেছে খাওয়ার সময় এমত যে, ইস, ছেলেমেয়েগুলো এভাবে … এখনো…রাজপথের পাথুরে শয্যা বেছে নিয়েছে স্বেচ্ছায় আর গান গেয়ে চলেছে স্পর্ধায় – ইচ্ছেডানার।
চোনা পড়েনি আজ তাই, মাছের মাথা দিয়ে মুগ ডালের চুমুকে এতটুকুও। আর তাই আজ, হ্যাঁ, স্রেফ চব্বিশ ঘন্টার মাথাতেই ক্রমে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে কয়েক প্রকার ‘ মানুষ’।
প্রথম দল, যারা, সংশয়ী। যারা কেবলই ভেবে চলে, এসব করে লাভ কী! সেই তো ওই আই-ওয়াশই চলবে।
দ্বিতীয় দল, যারা নিরাশাবাদী। অর্থাৎ কিছুতেই কিছু হবে না হে মুকুন্দ, চলো, বিড়ি খেয়ে আসি বটতলা থেকে। তোমার বৌদি, বুঝলে কিনা, আজব মেয়েছেলে, এখনো বাড়িতে বিড়ি খেতে দেয় না।
তৃতীয় এবং সবচাইতে বিপজ্জনক দল, যাঁরা হলেন জ্যাঠামশাই। অর্থাৎ, – বাবুরে, শোন বাবু…, এবার থামা দরকার। আশু প্রয়োজন, থেমে যাওয়ার। সব তো মেনেই নিয়েছেন ওঁরা। আর কী চাইছিস তোরা ছেলেমেয়েগুলো! শোন, আন্দোলন তো আমরাও করেছি, হেঁ হেঁ, তখনো জন্মই হয়নি তোদের, করেছি, কিন্তু (পরিষেবা) পড়ুন… কেরিয়ার বিসর্জন দিয়ে নয়।
*******
তো,এসব তো চলতে থাকবে। থাকবেই। এই তিন প্রকার মানুষই যে এখন এ জগতে সংখ্যা গরিষ্ঠ। নতুবা স্রেফ সঞ্জয় বা সন্দীপ (এরা দু জনেই গ্রেফতার) দের ক্ষমতা কী! এরকম করতে পারে? করেই যেতে পারে?
যাক সেসব কথা। আমি এসব ভাবছি না।
আমি স্রেফ ভাবছি যে, খোদ কপিলবাবু একপ্রকার মেনেই নিচ্ছেন যখন যে, রাজ্য-সরকার মহিলাদের রাতে কর্মরত অবস্থায় থাকাকে স্বীকার করে নিয়েছেন বিপজ্জনক, তখন এই যে জুনিয়ার ডাক্তাররা লাগাতার লড়ে যাচ্ছেন বিপজ্জনকতাকে সামলে সুরক্ষিত করে তুলতে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে, সে-সময়ে এত সংশয়, এত বক্কাবাজি আসে কী করে? হ্যাঁ? কী করে আসে? ফেসবুকের পোস্টে পোস্টে?
*******
ঘাড়ের ওপর অগণিত দুর্বৃত্ত, যারা নাগাড়ে ধমকে এবং চমকে যাচ্ছেন দুর্বিনীত, সেমত অবস্থায়…হ্যাঁ সেই এক অবস্থায় ধরা যাক আপনি নিরীহ ব্যাংক কর্মী। নোট গুনছেন গান্ধীজি। পারবেন? পারবেন তো? গোনাগুনতি মিলিয়ে রাখতে ক্রেডিট এবং ডেবিট?
কিংবা পারবেন পড়াতে ব্ল্যাকবোর্ডে চকপেন্সিল দিয়ে? জলের জগ যদি উদ্ধত থাকে কপালে? আপনার?
অথবা পারবেন, ছবি আঁকতে? যদি কার্টুন-কাণ্ডে আপনাকে হাজতে বাস করতে হয়?
আচ্ছা সেসবও নাহয় ছাড়ুন। ছাড়ুন কারণ, এইসব ক্ষেত্রে ‘মুছে করো’ অর্থাৎ শুধরে নেওয়ার অবকাশ থাকেবারংবার। কিন্তু যদি আপনার কলমের আঁচড় হয় জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে একমাত্রটি আগল? আপনার একটা মাত্র ভুল হলো প্রেসক্রিপশনে আর স্রেফ মরে-টেঁশে গেলেন রোগী! তখন?
হ্যাঁ মনে রাখবেন। সঠিক নিদান দেওয়ার জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ প্রয়োজন। দরকার–সুষ্ঠু পরিবেশ।
বোঝেননি সম্ভবত। বুঝিয়ে বলি। স্ট্রোক মূলত দুই প্রকার হয়। হার্টে আর ব্রেনে। এবং এই দুই ক্ষেত্রেই একটা ‘ গোল্ডেন আওয়ার’ থাকে। অর্থাৎ কর্তব্যরত চিকিৎসককে নানাবিধ প্রশ্ন করে বুঝে নিতে হয় যে, রোগীটি ঠিক কতখানি পূর্বে স্ট্রোক করেছেন। এবং সেই হিসাবে ওষুধ দিতে হয়। আর ওষুধ দেওয়ার পূর্বে জেনে নিতে হয় কিছু জরুরি তথ্য। যেগুলো না জেনে ওষুধ যদি দেওয়া হয়, রোগী ভালো তো হবেন নাই, বরং মরে যাবেন টপাক। ‘মুছে করো’ র সুযোগ নেই সেখানে।
এমত অবস্থায় যদি আপনার সামনে থাকে দশ-কুড়ি জন “আমি জননেতা অমুক দলের, ম্যাডাম ফোন করেছেন, কথা বলুন”, তাহলে পারবেন? সবকিছুকে ভুলে গিয়ে কর্তব্যতে অবিচল থাকতে?
তথাকথিত ‘জুনিয়র’ ডক্টরদের আন্দোলন এর, এই সবকিছুর বিরুদ্ধেও।
বিশ্বাস করুন এতে ডাক্তাররা যতটা সুরক্ষিত থাকবে, ততটা আপনারাও।
*****
সে যাক।
আপাতত মনোযোগ দেওয়া যাক এই নীচের ছবিতে। ‘ টিভি নাইন’ থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া এই ছবি।
এবং এটাই নির্যাস।
সমস্ত কিছুর।
*****
ইয়ে, শিরোনাম ভুল পড়েছেন সম্ভবত। ইংরেজি ভাষার এই এক মাহাত্ম্য।
এরকমটা নয় যে do not live ( ডু নট লিভ/বাঁচবেন না)
বরং এমত যে do not live (ডু নট লাইভ/সরাসরি সম্প্রচার করবেন না)











কুর্নিশ, নিরীহাসুর