ফেরবার জন্য উৎসব খুঁজছি প্রাণপণে।
যে ভিড়ে ভাসলে মনে বিষাদের কালো চিরে দেখা যাবে অন্তত সামান্য আনন্দ-আলো,
তেমন জটলা ঠিক পেয়ে যাবো দেবী-আবাহনে,
সেরকমই বিশ্বাসে পুজো থেকে পুজো হাঁটি অ-শোক সময়ের খোঁজে,
বিবিধ লাইন দেওয়া মানুষের ঢলে
উচিৎ সে অনুভব পাওয়া সহজে।
অ্যাই! হাত ছেড়ে কোনোখানে যাস না যেন..
কত বয়েস হবে ওই খুদে কন্যার?
সাত আট নয়..
চারধারে জৌলুসে চোখে বিস্ময়,
আর্থিক সঙ্গতি বেশি নেই বাপ-মা’র,
পোশাক জানান দেয়, যদিও নতুনই,
‘অ্যাই কোথায় যাস!’ বাপের আকুল ডাক পুনরায় শুনি,
আমি তাকিয়েছি দেখে ম্লান হেসে বলে
সেই অচেনা একদিন ছুটি নেওয়া দিন-রোজগেরে,
‘দিনকাল ভালো নয়, দেখেননি কী ঘটে গেছে জয়নগরে,
ভিড়ে এলে মেয়েটাকে নিয়ে বড় ভয় ভয় করে,
বেশি রাত করবো না,
জলদি বৌ মেয়ে নিয়ে ফিরে যাবো ঘরে।
আমি বলি, ‘ভিড়ে থইথই লোক, ভয় কেন অত?
এ শহর জেগে থাকে সারারাত এই উৎসবে।
মানুষটা বলে ‘ওরই মাঝে কোনোখানে সে লোক লুকাবে,
যে আমার মেয়েকে পেলে ভুলভাবে ছোঁবে।’
খাওয়ার স্টলগুলোতে যাই।
চাট মোমো ফিশ ফ্রাই, কফি কোকো লস্যি, বিরিয়ানি পোলাওয়ের ডাঁই,
সেখানে বসেছে এক নব-যৌবনদল,
সদ্য স্বাধীনতার উচ্ছাস লেগে আছে মুখে চোখে,
সকলে অর্ডার দেবে, এমন সময়ে..
একখানা ছেলে রুমাল চাপলো চোখে দেখে সেই খাবারগুলোকে,
‘দিদি অনশনে রে। আমার এখন কিছু ভালো লাগছে না,
যাই বাড়ি ফিরে ..’
নবীন যৌবন ঝাঁক খাবারের লোভ ছেড়ে চুপচাপ বসে থাকে বন্ধুকে ঘিরে।
মণ্ডপে ঢুকি। উদাত্ত মন্ত্রোচ্চারণে পুরোহিত স্তব করছেন
অসুরদলনী মহামায়ার,
চারদিকে চোখ বোজা মানুষেরা মনে ডুবে ‘দেহি দেহি’ আর্তিতে
নিশ্চিত চেয়ে যান সুখে থাক ঘর-সংসার,
আমি শুধু চেয়ে আছি ড্যাব ড্যাব করে,
বুঝছি না কুটো ঠিক কী চাইতে পারে এই সাইক্লোন ঝড়ে,
এটাই কি উৎসব তবে?
নিরিবিলি একমনে মা’র কাছে চাইছে কী ভক্তের ভিড়?
হঠাৎই আমার পাশে নিতান্ত সাধারণ এক বৃ্দ্ধার শুনি বিড়বিড়,
‘মা হলে বিচার করো মেয়েদের এ হাল কেন দেশে,
রোজ যদি ধর্ষণ , কিভাবে তোমার কাছে দাঁড়াবো মা হেসে?’
আশেপাশে লোক দেখি চোখ খুলে শুনে মাথা নাড়ে,
কে একটা বলে ওঠে পেছনের থেকে
‘অভ্যাসে পুজো বটে, আনন্দ নেই মোটে মনে এইবারে।’
কয়েকটা বোকা ছেলেমেয়ে বসে আছে ন্যায় চেয়ে আমরণ অনশনে,
তাতে কারো কিছু আসে যায় না, প্রচারিত তেমনই ধারণা।
জানি না কজন দিয়েছে সাড়া দিতে উৎসবে ফেরবার আহ্বানে,
তাদের খুঁজছি আমি।
কোথায় রয়েছে তারা মা উমাই জানে,
আপাতত পুজোর মিছিলে
তেমন নির্লিপ্ত কেউ পড়ছে না আমার নজরে,
বাকি তিনখানা দিনও নাহয় কাটাবো সেই সন্ধান করে।
ফেরবার জন্য উৎসব খুঁজছি প্রাণপণে
এই মেয়েকে শব বানানো শহরে।











