জীবনে বাঁচার অন্য উপায় থাকলে তবেই হতাশার বিলাসিতা মানায়। হঠাৎ বাঘের মুখে পড়ে গেলে হতাশ হবার সময় আর সুযোগ কোনোটাই থাকে না। যারা এখনো হতাশ হচ্ছেন তারা কোনো এক মরিচিকাকে বাস্তব বলে মেনে নিয়ে নিজেকেই ঠকিয়ে চলেছেন। যখন ডাক্তার কোনো অপারেশন করে তখন হতাশ বা উৎফুল্ল কোনোটাই হবার সুযোগ থাকে না। শুধু কাজকেই পাখির চোখ করলে, তবেই রোগীর প্রাণ বাঁচে।আপনি হতাশ হচ্ছেন মানে, রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন।
সন্দীপ অভিজিতের জামিন একটা জিনিস প্রমাণ করে। প্রশাসন তদন্ত আইন ব্যবস্থা এরমধ্যে কোথাও একটা বিরাট গলদ আছে। এই গলদ যদি সারাই করতে পারেন তাহলে আপনার সন্তানের খুন আটকাতে পারবেন। নাহলে শুনবেন হয় সে আত্মহত্যা করেছে, অথবা সে খুন হয়েছে কিন্তু কেউ তাকে খুন করেনি।ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা আনতে দুশো বছর লেগেছিল। আর জি কর আন্দোলন তো মাত্র চারমাস। এর মধ্যেই হতাশ হবেন।যদি হতাশ হন তাহলে নিজের সন্তানকে বলে দিন, আপনি তার ভবিষ্যত সুরক্ষার জন্য কিছু করতে পারবেন না। কারণ আপনি হতাশার বিলাসিতা ছাড়তে অপারগ।
আদালত প্রশ্নের উর্দ্ধে থাকে। আইন নয়। সন্দীপ আর অভিজিৎ জামিন পেয়েছে আইন মেনে। যারা চার্জশিট জমা না দিয়ে আইনের ফাঁকে ওদের বের করে দিলো তাদের কোনো শাস্তির ধারা ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় নেই।
কেন নেই?
কারণ আমরা যাদের নির্বাচিত করে আইন সভায় পাঠিয়েছি তারা এই আইন করেনি।
কেন করেনি?
করেনি কারণ আমরা যাদের আইনসভায় পাঠিয়েছি তাদের সঙ্গে তিলোত্তমার নয়, বরং সন্দীপ আভিজিতদের মতো কীর্তিমানদের সখ্যতা বেশি। ফলে যে আইন পাস হবে তাতে সঞ্জয় রাই ফাঁসিতে ঝুলে গেলেও, যে হোয়াইট কলার অপরাধীরা সঞ্জয়দের মতো লুম্পেনদের কাজে লাগিয়ে অপরাধ সংগঠিত করে তাদের হয় ধরা ছোঁয়ায় আনা যায়না, অথবা আইন থাকলেও তা এমন দুর্বল যে ওরা সহজেই ছাড়া পেয়ে যায়।
পৃথিবীর ইতিহাস কোনো আইনসভা তৈরি করে না। করে আমজনতা। এখন চয়েস আপনার। হতাশ হয়ে অসুস্থ ব্যবস্থাকে নীরব সমর্থন জানাবেন, নাকি রাজপথ আঁকড়ে ধরে থেকে সিস্টেম পাল্টে ফেলবেন। যাদের পুত্র কন্যা আছে তাদের মুখের দিকে একবার তাকান। তাকিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন। হতাশার বিলাসিতা আপনাকে মানায় কিনা?
যে উত্তর পাবেন সেটাই করুন।
তোমার আমার একই স্বর
জাস্টিস ফর আর জি কর।









