আপনাদের নিয়ে এতো কথা বলতে হবে কোনোদিন ভাবিনি। আমাদের ঘরের মেয়ে আর জি করে খুন হয়েছে। সর্বোচ্চ ন্যয়ালয় আপনাদের ওপর তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে। আপনাদের পুরোনো রেকর্ড পশ্চিমবঙ্গে যদিও বেশ লজ্জাজনক, তবুও সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়কে সন্মান করে আপনাদের ওপর বাঙ্গালী ভরসা রাখতে চেয়েছিলো। আপনারা সেই ভরসার আদৌ যোগ্য কিনা সেটাই এখন প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে।
মিডিয়াতে আমরা জেনেছি আপনারা ঘটনার দিন আর তার পরেরদিন সঞ্জয় রাই এর গতিবিধির টাইম লাইন ঘণ্টা মিনিট সেকেন্ড হিসেব করে চার্জশিটে পেস করেছেন। সঞ্জয়কে ফাঁসিতে ঝোলানোর সব আটঘাট বেঁধেই নেমেছেন। এর জন্য একটা ধন্যবাদ আপনাদের প্রাপ্য। এর পরেও একটা কিন্তু থেকে যায়। কি করবো বলুন, আপনাদের পশ্চিমবঙ্গে যা ইতিহাস তাতে আপনাদের ঠিক বিশ্বাস করা যায়না। এই চার্জশিট থেকে এটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, যেনো কোনো এক জনমানব শুন্য জায়গায় সেমিনার রুমে একাকী আমাদের মেয়ে ঘুমিয়েছিলো। সঞ্জয় রাই সেখানে গেলো আর খুন ধর্ষণ করে বেরিয়ে গেলো। তা বাপু সঞ্জয় রাই তো পদব্রজে সেখানে যায়নি। কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের বাইকে চড়ে সেখানে গিয়েছিল। অপরাধ ঘটানোতে বাইক দিয়ে সাহায্য করলো যে কলকাতা পুলিশ বা বিনীত গোয়েল, তাদের নাম চার্জশিটে কোথায়?
একবার ফেলুদা আর লালমোহন বাবুর মধ্যে একটি কথোপকথন হয়েছিল। সেখানে ফেলুদা বলেছিল লালমোহনবাবু আগেই অপরাধী ঠিক করে নিয়ে তারপর তার পক্ষে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করেন। আপনাদের তো মনে হচ্ছে ফেলুদার মতো নয়, লালমোহনবাবুর মতো তদন্ত করছেন।
সঞ্জয়ের টাইম লাইন নিয়ে তো দিয়েছেন। অপরাধ স্থলের খুনের পরের টাইম লাইন কি তৈরি করেছেন? সেখানে কারা এসেছিলো, কখন এসেছিলো, কোথা থেকে এসেছিলো?
প্রমাণ লোপাটের দাবি তো আপনারাই আদালতে বলেছেন। অপরাধ মনস্তত্ত্ব তো একথা বলে যে, যে মানুষের যে সময় যেখানে উপস্থিত থাকার কথা নয়, সেই মানুষ সেই সময় সেখানে উপস্থিত থাকলে তাকে সন্দেহভাজন বলে ধরতে হবে। অপরাধ স্থলে পরদিন বহু মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলো। যাদের কোনো যুক্তিতেই সেখানে থাকার কথা নয়। পুরো উত্তরবঙ্গ লবি ছিলো। ছিলো উকিল। ছিলো ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। তাদের গতিবিধির টাইম লাইন কোথায়? তাদের নিয়ে তদন্ত তো দূরের কথা, সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ ও করেন নি। তা সেটিংটা কোথায় হলো?
উত্তর আপনাদের দিতেই হবে।
অপরাধ মনস্তত্ত্ব এও বলে জাত অপরাধী না হলে, অপরাধী অপরাধ স্থলে ফিরে আসে। এই নিয়ম ধরলে তো পরদিন যারা সেখানে উপস্থিত ছিলো তাদের নিয়ে গভীর তদন্ত করার কথা। সেটা করেছেন বলে এখনো বাংলার মানুষ জানতে পারেনি। উত্তরবঙ্গ লবির ওখানে থাকা যথেষ্ট সন্দেহজনক। উত্তরবঙ্গ লবির বয়ান গোলমেলে এটা আমরা সবাই জানি। ডাঃ সুশান্ত রায় প্রথমে মিডিয়াতে বলেছিলো, মেডিকেল কলেজে ওইদিন একটি রক্তদান শিবির ছিলো। ওখান থেকে ওনারা আর জি করে চলে এসেছেন। পরে মিডিয়ার সামনে বয়ান পাল্টে বলেছেন, মেডিকেল কাউন্সিল এ মিটিং ছিলো। সেখান থেকে ওনারা এসেছেন। সেইদিন মেডিকেল কলেজে কোনো রক্তদান শিবির ছিলো না। এই মিথ্যার কথা আমরা জেনে গেলাম আর আপনারা জানতে পারলেন না?
নাকি কারুর নির্দেশ পেয়েছেন উত্তরবঙ্গ লবিকে কিছুতেই তদন্তের আওতায় আনা যাবে না?
উত্তর বাংলার মানুষ চায়। আমরা ডাক্তার। আমাদের স্মৃতিশক্তি এতো দুর্বল নয় যে চারমাস আগের কথা ভুলে যাবো।
তাই বলছি এর আগে যা সেটিং করেছেন সেটা ভুলে গিয়ে আর জি কর কেসে সঠিক তদন্ত করুন। ন্যায় পেতে হাজার হাজার মাইল হাঁটতে আমরা রাজি আছি। সহজে আপনারা পার পাবেন না। বাংলার ঘরের মেয়ের পাশে পুরো বাংলা আছে। এর শেষ দেখে আমরা ছাড়বো।
(চলবে)











