অভয়ার খুন-ধর্ষণ ঠিক কীভাবে ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল – এসবের অনেক কিছুই এখনও স্পষ্ট না হলেও অন্তত একটি ব্যাপার আপাতত জলের মতো পরিষ্কার: ঠিক কী হলে ঘটনাটা ঘটতে পারত না!
অভয়া ক্যারাটে জানলেই ঘটনাটা ঘটত না।
এবং অতি দ্রুত খুন-ধর্ষণের একমাত্র অপরাধীকে ধরে অপরাধের ফয়সালা করে ফেলার মতো সাফল্যের পর এমন মর্মান্তিক ঘটনা যাতে আর কিছুতেই না ঘটতে পারে, তা নিশ্চিত করতে (কেননা, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর, এ তো সবারই জানা কথা) রাজ্যের পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছে। মেডিকেল কলেজে কলেজে (ভবিষ্যতে অন্যান্য সেক্টরের ছাত্রীদের জন্য এমন ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা প্রসারিত হবে কিনা, এখনও জানি না) ডাক্তারি ছাত্রীদের ক্যারাটে শেখানোর উদ্যোগ নেওয়ার মতো বড়সড় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। প্রকল্পের নাম – তেজস্বিনী।
অর্থাৎ পুলিশের কথায় বিশ্বাস করলে (সঞ্জয় রায়-ই একক প্রয়াসে খুন-ধর্ষণ প্রমাণ লোপাট সবই করেছে, এই ‘সত্য’-এ বিশ্বাস তো অবশ্যগ্রাহ্য প্রাগশর্ত) একজন ছাত্রী খানিকটা ক্যারাটে জেনে ফেললেই তিনি কলকাতা পুলিশের একজন দক্ষ কর্মীকে (সেই কর্মী কামোম্মত্ত খুনে মেজাজে থাকলেও) কাত করে ফেলতে পারবেন। গুণ্ডা-বদমাইস যারা মারপিটে অভ্যস্ত, তাদের সামনে তাহলে পুলিশের অবস্থা কী হবে, তা তো সহজেই অনুমেয়!
অন্যদিকে গতকাল বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে একটি ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে। এক মানসিকভাবে অসুস্থ রোগীকে সাইক্রিয়াট্রি ওপিডি-তে দেখাতে নিয়ে আসা হয়। আনা হয় পুলিশি প্রহরায়। নিয়ে আসে জনাকয়েক পুলিশ। আচমকা সেই রোগী ওপিডি টেবিলে রাখা কম্পিউটার মনিটরটি তুলে চিকিৎসকের মাথায় বসিয়ে দেয় – চিকিৎসক বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর মাথায় পাঁচটি সেলাই পড়েছে, মাথার চামড়া থেকে মনিটরের কুচি বের করতে হয়েছে – পুলিশকর্মীরা নাকি হতবাক হয়ে গেছিলেন, ভায়োলেন্ট সাইকিয়াট্রিক পেশেন্টের কাছ থেকে এমন আচরণ অভাবনীয় না হলেও পুলিশকর্মীরা তৎপর ছিলেন না, অতএব তাঁদের পক্ষে ঘটনাটি আটকানো সম্ভব হয়নি।
তো যদ্দূর জানি, জুডো-ক্যারাটে জাতীয় মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নিলে আত্মরক্ষার ক্ষমতা বাড়ে – কিন্তু সেটা সেকেন্ডারি। প্রাথমিক যেটা, সেটা হলো মনঃসংযোগক্ষমতা ও তৎপরতার উন্নতি (অ্যাটেনটিভনেস)। বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, ওই পুলিশকর্মীরা (নাকি সামগ্রিকভাবেই পুলিশকর্মীদের) মার্শাল আর্টে ট্রেনিং পেলে মন্দ হতো না। পুলিশ কি নিজেদের দিকে একটিবার তাকিয়ে দেখবেন? জানি, আয়নায় মুখ দেখার কাজটা কঠিন, তবু…
আর ঘরপোড়া গরু যেহেতু, নিত্যনতুন প্রকল্প ও সেই প্রকল্পে অর্থবরাদ্দ ও সেই সুবাদে… নাহ্, থাক গে, ক্রিসমাস ইভ যেহেতু, বড়দিনের প্রাক্কালে খারাপ খারাপ কথা বলব না!
বড়দিন উপভোগ করুন।
মার্শাল আর্টে প্রশিক্ষিত তেজস্বিনীতে ভরে উঠুক রাজ্যের স্বাস্থ্যপরিমণ্ডল – এই শুভেচ্ছা রইল।
অপরাধী ধরাকরার মতো বিরক্তিকর কাজ কমে গেলে পুলিশ সেই উদ্বৃত্ত সময়ে কোভিডের দিনগুলোর মতো রাস্তায় রাস্তায় হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইবেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজে’ উদ্যোগী হবেন (আর পদলেহনের গুরুদায়িত্ব তো রইলই) – এই দুঃসময়ে আমোদ সবসময়ই স্বাগত। বিনীত গোয়েল সুপ্রতিম সরকার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়দের রাজত্বের পুলিশের কাজকর্ম যা, সে তুলনায় ওসব যে ঢের ভালো, তা নিয়ে তো তর্কের অবকাশই নেই।









