Higher Secondary এর registration number ও mark sheet টা আবার খুঁজে পেতে বার করতে হবে। এক গাদা কাগজের মধ্যে থেকে তো তার ফুটিফাটা অবস্থা। তো কী করা যাবে, এখন এটাই একটা বড় প্রমাণ যে আমি বিদেশী নই, খাঁটি দেশি। ইলেকসন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, আধার, ভোটার, প্যান, রেশন এ সব কার্ড নাকি নির্ভরযোগ্য নয়। এ নিয়ে ব্যাপক জালিয়াতি হচ্ছে। জানিনা পৃথিবীতে কোন জিনিসটা আছে যা নিয়ে জালিয়াতি হয়না। জাল পুলিশ,জাল IPS, জাল IAS, জাল CID, জাল CBI, জাল ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-শিক্ষক কোনটা নেই? জাল নেতা,জাল পঞ্চায়েত প্রধান, জাল এম.এল.এ, জাল এম.পি. কোনটা পাওয়া যায় নি? এমনকি মহা ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের জাল বা বডি-ডাবল অনেক সময়ে ব্যবহার করা হয় তার সুরক্ষার জন্য। তাহলে, এই সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে?
সরকারি কোনো কাজ করতে গেলে তাহলে আধার কার্ড প্রায় বাধ্যতামূলক কেন? প্যান কার্ড ছাড়াই আজকাল ইনকাম ট্যাক্সের হিসাব জমা নেওয়া হচ্ছে,না, রেশন নিতে গেলে আর কার্ডফার্ড লাগে না, কিংবা, রেশন ব্যবস্থাই উঠে গেছে?? ব্যাঙ্কে KYC চাইলে তাহলে এবার ঐ উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট নিয়ে গেলেই চলবে, কিংবা খুব বেশি হলে পাসপোর্ট??
যে এগারোটি প্রমাণপত্র আবশ্যিক বলা হয়েছে, তার কোনটা জাল করা সম্ভব নয় বা হয়না? স্কুলের সার্টিফিকেট, SC/ST/OBC সার্টিফিকেট, ভুয়ো দলিল, এমনকি জন্ম সার্টিফিকেট, কোনটা নয়? একমাত্র সরকারি চাকরি বা পেনসন প্রাপ্তির কাগজ ছাড়া (সেটাও একান্ত অসম্ভব তাও নয়)? তা, সরকারি কাজ আর কতো শতাংশ জনগণের কপালে জোটে?
আচ্ছা, একজন মানুষ যে সেরকম শিক্ষিত নয়,বস্তি বা কোথাও ভাড়া থাকে যেখানে তার ট্যাক্স বা অন্য কিছু দেওয়ার প্রমাণপত্র নেই, SC/ST/OBC নয় কিংবা সার্টিফিকেট নেই (গরীব অ/অল্পশিক্ষিত সরকারি কাজের ধারেকাছে নেই তার এই সার্টিফিকেট কিইবা কাজে লাগবে!), জন্ম সার্টিফিকেট নেই (অনেকেরই নেই, আমারও নেই), জমির দলিলের তো প্রশ্নই নেই, তার কি আর ভোটাধিকার থাকবে না?
এ তো সেই প্রাক স্বাধীনতা পর্বে প্রথমে মিন্টো-মার্লে ও পরে মন্টাগু-চেমসফোর্ড রিফর্মের পর ভারতবর্ষে যেরকম ভোট হতো যেখানে restricted ভোটাধিকার থাকতো শিক্ষিত,বিত্তবান, জমির মালিক, সরকারি চাকুরে ও ট্যাক্সদাতাদের মধ্য থেকেই, আপামর জনগণের নয়। জানিনা, আমাদের বর্তমান শাসকরা আবার সেটাই চাইছে কিনা। তাছাড়া, ভোট তো এখন আর শুধু মানুষের মতামতের উপর নির্ভর করে না, অনেক অঙ্ক, অনেক হিসেবনিকেশ উপর আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। ভোটের জন্য কারা অভিপ্রেত আর কারা অনভিপ্রেত, এ নিয়েও অনেক অঙ্ক রয়েছে। সেই অঙ্ক কষেই ঠিক হবে যা যা করণীয়, এই আর কি!! বাকিটা তো শাসকের খেলা, নিয়ম সবই হবে যখন যে রকম দরকার!! মানুষের প্রয়োজনে নয় শাসকের প্রয়োজনেই নিয়ম ; তার জেতাটাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন, তাই নয় কি?!
প্রান্তিক মানুষেরা ব্যাপক ভাবে ভোটে অংশগ্রহণ করে, এটা বোধহয় ঠিক শাসককুলের পছন্দ নয়। তাই, সার্বজনীন ভোটাধিকার যদি কিয়দংশে কাটছাঁট করতে হয় তো হবে! কী আর করা যাবে? জাল ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এগুলো শুধু উপলক্ষ্য মাত্র! এই জালিয়াতি রোখার দায়িত্বও তো সরকার বা প্রশাসনের, তাদের প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ সাপোর্ট ছাড়া কি ভাবে এগুলো এতো ব্যাপক আকার নিতে পারে যা এখন সরকারের মূল যুক্তি লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য??
আসলে, জালিয়াতি রোখার জন্য সরকারের যা যা প্রচেষ্টা, তাতে আর যার ক্ষতি হোক, জালিয়াতদের নয়।কালো টাকা বা জাল নোটের অবলুপ্তির উদ্দেশ্যে নোটবন্দির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কারা হয়েছিল’, কালো টাকার মালিক না লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ? মানুষের উপর যেভাবে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছিল’, আর বহাল তবিয়তে রাজত্ব করে চললো কালো টাকা, তা হয়তো এতোদিনে অনেকটাই বিস্মরণে চলে গেছে। আর, মানুষের এই দুর্বল স্মৃতিশক্তিই তো শাসকের সবচেয়ে বড় শক্তি !!
বিহারে যেভাবে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, স্বাধীন ভারতে তা প্রায় অভূতপূর্বই বলা চলে। সবচেয়ে বড় কথা পরবর্তী কালে অন্যত্র তারা কোনো সমস্যায় পড়লে স্থানীয় প্রশাসন তো এক কথায় নিজেদের দায়িত্ব অস্বীকার করবে। তারা তো ভোটারই নয়, ভারতবর্ষে ভূমিহীন কৃষক বা শ্রমিকের প্রমাণ করা খুব শক্ত হয়ে যাচ্ছে তারা এই দেশের নাগরিক। কোভিডের সময়ে তো সরকার পরিযায়ী শ্রমিক বলে কিছু আছে তাই জানতো না। এখন জানলেও তার marginalisation বা প্রান্তিকীকরণের প্রক্রিয়া সমান ভাবে বিদ্যমান।তখন জানতো না বলে কিছু করেনি, আর এখন জেনে তার সর্বনাশের রাস্তা পরিষ্কার করছে। সত্যি করে বলতে গেলে এই বিশাল ঋণাত্মক কাজকর্ম আটকাতে পারে একমাত্র খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষ যাদের সাংগঠনিক শক্তি বিস্তৃত অনেক নীচের স্তর পর্যন্ত। ভারতবর্ষে বিরোধীদের খুব কম জায়গাতেই সেই শক্তি আছে, এটাও অঙ্কবিশারদদের জানা।
আমার এক বন্ধু কদিন আগে বলছিল’, যাই হোক পশ্চিমবঙ্গে SIR চালু হলে মাননীয়ার পতন হবে।তিনি যে মাননীয়ার তীব্র বিরোধী এটা না বললেও চলে। আমি তাকে বললাম, একটা কথা পরিষ্কার জেনে রাখো, এখানে SIR হলে তুমি যাদের কথা ভাব.ছো, তাদের কারুর নাম কাটা যাবে না, বরং ভালো করে খোঁজ রেখো তোমার নাম না কাটা যায়। কোথায় কার নাম থাকবে আর কারটা বাদ যাবে সেটাই পুরো অঙ্ক, আর এই অঙ্কের হেডমাস্টার মশাই হলেন যেখানে যার সর্বময় কর্তৃত্ব, তিনিই!!
আসলে, অঙ্কই হলো মূল জিনিস, জনগণ তো নিমিত্ত মাত্র……….










