চারখানা ওটিপি দেওয়ার পরে রাষ্ট্র কৃপা করে জানালেন,
পরের নির্বাচনে তুমি ভোট দিতে পারো।
নাগরিক কৃতাঞ্জলিপুটে অভিবাদনে বললো,
অহো ভাগ্য আমার,
জন্মের থেকে বিদেশে যাইনি একবারও,
জন্মের নথি থেকে ব্যাংকের পাশবই,
সবকিছু জমা আছে কাছে আপনার,
তবু এ ছার জীবনে নেই SIR থেকে ছাড়!
রাষ্ট্র ধমকে বললেন,
বাড়তি বাতেলা যদি দিয়েছিস আর,
তাহলে আরো পাঁচটা নথি আর দশটা ওটিপির হুকুম হবে,
এই যে থাকতে দিলাম,
তার জন্য থ্যাঙ্ক ইউটা দিবি কবে,
খালি ঘ্যানঘ্যান প্যানপ্যান..
নাগরিক মাথা প্রায় মাটি ছুঁয়ে বললো,
ভোটার- আধার-প্যান- ঘর-অফিস-ব্যাংক-পেশা-নেশা-মেলামেশা- পূর্বজন্ম-পরজন্ম,
একটার সাথে আরেকটা লিংক করাকে করেছি ধ্যানজ্ঞান,
বিশ্বাস করুন,
ফোনে ওটিপি আসাটা এমন অভ্যেস হয়েছে
একদিন না এলেই মনে হয় এই বুঝি পড়শি রাষ্ট্রে
ঠেলবার হচ্ছে ব্যবস্থা,
আচ্ছা , চাল-ডাল-আনাজপাতি কি ওখানে না এখানে বেশি সস্তা?
ওখানে স্কুল আর চাকরির কী অবস্থা, যাবে কি কোনোভাবে বিশদে তা জানা?
বলা তো যায় না, ওটিপি না এলে পে-লোডার ওইদিকে ফেলে দেয় যদি,
শেকড়-হীনের তবে মুছবে ঠিকানা।
রাষ্ট্র ভয়ানক খেপে বললেন,
তোকে তো পাশনম্বর দিয়েছি,
তবু তুই ফেলের গল্প বলছিস? ব্যাটা নেমকহারাম!
নাগরিক দুই কানে হাত দিয়ে বললো, তোবা তোবা,
থুড়ি রাম রাম,
আমি আপনার কেনা গোলাম,
আসলে নথির পর নথি তারপর আরো নথি লিংক করতে করতে মনে হয়,
আমি আর রক্তমাংসের মানুষ নয়,
শুধু একটা ফোন নম্বর, যাতে ওটিপি না এলেই সর্বনাশ,
তাই মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে আর কী!
কেস দেবেন না প্লিজ, আব্বুলিস!
রাষ্ট্র শিবনেত্র হয়ে বললেন,
আচ্ছা, এবারের মতো ছেড়ে দিলাম,
তবে এবার থেকে সাবধানে মুখ খুলিস।
নাগরিক যেতে যেতে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো,
আর একটা কথা বলবো?
রাষ্ট্র ঘুমাতে যাবেন ভাবছিলেন,
বেশ একটু খেপে
খিঁচিয়ে বললেন , আবার কী শুনি!
নাগরিক বললো,
মেয়েটার জন্য স্কুল খুঁজছি, প্রাইভেটে খরচায় নাভিশ্বাস উঠে যাবে,
ভাইটা সব পাশ করে বসে আছে, কেউ জানে না আদৌ সে কী কাজ পাবে,
চিকিৎসাতে যতই ‘ভব’ আর ‘সাথী’ থাকুক , ফেলো কড়ি মাখো তেলএ
মায়ের হার্টের অসুখ আর বাবার ক্যান্সারে দেউলিয়া প্রায়
উদ্বৃত্তই নেই তো সঞ্চয় , ব্যাংকে যা ব্যাঙের আধুলি,
ক্রমে সেটা সিকি হয়ে যায়..
তাই বলছি,
এই যে আমি ভোট দেওযার যোগ্য হলাম, এইবারে এই সব সমস্যার সমাধান নিয়ে
কখনো কী পাবো সেই মায়াবী ওটিপি,
যা দিলে রাষ্ট্র
আমার বাছাকে স্কুল দেবে,
ভাইকে রোজগার দেবে,
মা বাবাকে দেবে সঠিক আয়ত্ত্বের মধ্যে চিকিৎসা?
যদি আমার চাকরিদাতা বলে কাল থেকে আসিস না,
কোনো ওটিপি কি আছে যা দেখালে
রাষ্ট্র আমার হয়ে তাকে বলবে এ লোকটা বিশ বছর তোমার ওখানে কাজ করছে,
একে ওভাবে যাবে না করা ছাঁটাই?
রাষ্ট্র বললেন
খোয়াবের ঘুড়িটার গুটিয়ে লাটাই
ঘরে চলে যা।
মনে মনে জপ কর, কোটি কোটি বিদেশির থেকে তোকে আমিই বাঁচাই।
তবে ওটিপি আসবে ফের তোর ফোনে।
নথিগুলো করা হবে আবার যাচাই।
মাঝরাতে ধড়মড় করে উঠে বসে নাগরিক।
স্বপ্ন কি ছিলো সংলাপ পুরোটাই?










