এই লেখাটা না লেখা অন্যায় হবে, অপরাধ হবে, নিজেই নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকব দুটো কারণে।
এক মরণাপন্ন রুগীর আত্মীয় যোগাযোগ করেন বিরল ধরনের রক্তের জন্য। আমার “মুশকিল আসান” সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সহকর্মী শ্রী অভিজিৎ বিশ্বাস, ডিস্ট্রিক স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এবং শ্রী অভিষেক পাল এলডিসি বিস্তর দৌড়ঝাঁপ করে সেই রক্ত জোগাড় করেন। রুগীর সেই আত্মীয় কৃতজ্ঞ হয়ে আমায় ধন্যবাদ জানান।
তাকে এটাই বলতে চাই এই ধন্যবাদ আদৌ আমার প্রাপ্য নয়, ওটা আমার ঐ দুই সহকর্মীর প্রাপ্য। এটা প্রথম কথা। আর দ্বিতীয় কথা তাকে এটাও বলতে চাই যে ওই কাজটা তো আমাদের দায়িত্বই ছিল। আমরা অতিরিক্ত কিছু করিনি। আমাদের মাহিনা তো আপনার কষ্টার্জিত অর্থ থেকে সংগ্রহ করা ট্যাক্সের পয়সাতেই হয়। আমাদের কাজ আমরা করেছি বলে আপনি যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার জন্য আমরা ধন্য।
এই সব আচরণ দেখে মনে হয় বাংলার মানুষজনের বেশিরভাগ এখনো এতো ভালো মানুষ, ভাবাই যায় না। এরা এত অল্পে খুশি হন। শুধু খুশি নয়, খুশি হয়ে আবার কৃতজ্ঞতা ও জানান। অনেক তথাকথিত বড় বড় মানুষ জনের বিপদে আপদে ফোন পাই, সাধ্যমতো উপকার করার চেষ্টাও করি। তাঁদের অধিকাংশই কাজ শেষ হয়ে গেলে একটা ধন্যবাদ জানানোর দরকার বোধ করেন না কারণ তাঁরা বড় মাপের লোক। আর তথাকথিত ছোট মাপের সাধারণ মানুষজন হৃদয় উজাড় করে জানাচ্ছেন তার আন্তরিকতা। মন ভালো করা এই খবরটা আপনাদের সাথে ভাগ করে নেওয়াটা জরুরি মনে হল। তাই লিখলাম।











