শৈশব ও কৈশোরের মানসিক সমস্যাগুলি মূলত তিন প্রকারের-ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার, ইমোশনাল ডিসঅর্ডার, এক্সটারনালাইজিং ডিসঅর্ডার।
“ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার” এর উদাহরণ হল স্বল্প বুদ্ধি, অটিজম, স্পেসিফিক লার্নিং ডিসেবিলিটি (রিডিং ডিসঅর্ডার, রাইটিং ডিসঅর্ডার, ইত্যাদি),স্পীচ/ল্যাংগুয়েজ ডিলে, এনউরেসিস, এনকপ্রেসিস, ইত্যাদি।
“ইমোশনাল ডিসঅর্ডার”এর মধ্যে পড়ে ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, উদ্বিগ্নতার সমস্যা, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার, ইত্যাদি।
“এক্সটারনালাইজিং ডিসঅর্ডার”এর উদাহরণ হল কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার, এটেনসন ডেফিসিট হাইপার কাইনেটিক ডিসঅর্ডার, অপজিশনাল ডেফিয়ান্ট ডিসঅর্ডার, ইত্যাদি।
আমাদের মস্তিষ্কে কিছু স্নায়ুকোষ আছে যেগুলির নাম ‘মিরার নিউরোন’। আমরা যা কিছু দেখি সেগুলিকেই অনুকরণ করতে চাই। এই ঘটনার পিছনে আছে এই স্নায়ু কোষগুলির অবদান। স্বাভাবিক ভাবে আক্রমণাত্মক এবং হিংস্রতা পূর্ণ সিনেমা দেখলে শিশু ও কিশোরদের আচরণও ক্রমশ হিংস্র হতে থাকে। তাহলে আমাদের চারপাশে যদি হিংসার ঘটনা ঘটতে থাকে, আমরা যদি নিউজ পেপারে – টিভিতে এই জাতীয় ঘটনা বেশী দেখি তাহলে শিশুমন সহজেই প্রভাবিত হতে পারে।
‘এটেনসন ডেফিসিট হাইপার এক্টিভিটি ডিসঅর্ডার (এ ডি এইচ ডি)’ এবং ‘কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার ‘ নামের দুটি রোগ আছে। এই সব রোগে আক্রান্ত শিশু ও কিশোরেরা সহজেই এই সমস্ত ঘটনা এবং খবর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।
‘এটেনসন ডেফিসিট হাইপার এক্টিভিটি ডিসঅর্ডার (এ ডি এইচ ডি)’রোগের লক্ষণ গুলি হল মনযোগের অভাব ও অতি চঞ্চলতা। মনোযোগের অভাব থাকার জন্য এই সব বাচ্চারা অনেকসময় শিক্ষকদের কথা ঠিকমত শোনে না, পড়াশোনার কাজ অর্ধেক করার পর খেই হারিয়ে ফেলে, এক কাজ সম্পূর্ণ না করে সেটি ছেড়ে অন্য জিনিসের দিকে আকৃষ্ট হয়, প্রায়শই খাতা, কলম, পেন্সিল হারিয়ে ফেলে ইত্যাদি।
অতি চাঞ্চলতার জন্য এই সব বাচ্চারা সবসময় ছটফট করতে থাকে, এক জায়গায় স্থির থাকে না, অহেতুক বেশী কথা বলে ফেলে, প্রশ্ন পুরোপুরি না শুনেই উত্তর দেবার চেষ্টা করে, অন্যদের আলোচনার মাঝে অহেতুক নাক গলায়, কোন কাজের কি পরিণতি হতে পারে তা না বুঝে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে ফেলে। অনেকসময় মজা করার ছলে তারা এমন কিছু করে বসে যেগুলি তার জন্য অথবা অন্যদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
বড় হবার সাথে সাথে এই রোগের লক্ষণগুলি সংখ্যায় কমলেও কিছু সমস্যা থেকেই যায় যা কর্মক্ষেত্রে নানান বাধা সৃষ্টি করে।
আবার ‘কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার’ রোগের মূল লক্ষণগুলি হল-অসামাজিক আচরণ, নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করা, ঔদ্ধত্য, পশুপাখি বা অন্য মানুষের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন, অন্যের ক্ষতি করার প্রবণতা, মিথ্যে কথা বলা, স্কুল থেকে পালানো, চুরি করা ইত্যাদিI শুধু তাই নয় – এই সব কাজ করার পরেও এদের মনে কোন অনুশোচনা থাকে না।
এই সব রোগ ছোট বেলা থেকেই শুরু হয়। এরা অনেক সময় ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে না। উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে বড় হয়ে এরা অসামাজিক কাজ কর্মে জড়িয়ে পড়ে এবং এদের মধ্যে ভবিষ্যতে এন্টিসোশাল হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যায়। তাই আত্মীয়-স্বজনকে এই সব রোগ সম্বন্ধে অবগত হতে হবে। সমস্যা জটিল মনে হলে কাউন্সেলিং করানো এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।











