তুমি সব জানো হে কেশব,
কে শব না হয়ে বেঁচে থাকে যুদ্ধের পরে,
তাও জ্ঞাত আছো নিশ্চিত..
দুপক্ষে আত্মীয় গুরুজন ও স্বজন দেখে
যুদ্ধের যুক্তিরা হলে নড়বড়ে,
তুমিই তো দিয়েছো ইঙ্গিত,
‘এ সবই কর্মফল,
ওঠো সখা অর্জুন, ভুলে যাও আগামীতে কার হারজিত,
তোমার কার্য শুধু শরসন্ধান করে বিরোধী-শাতন,
যুদ্ধের ফলাফলে মন দিও না,
হয় রাজা যুধিষ্ঠির নয় দুর্যোধন,
এই দুই সম্ভাবনা আছে আগামীতে,
যা হওয়ার তাই হবে,
কিছু তুমি বদলিয়ে পারবে না দিতে।’
তাই যদি হয় সখা,
তাহলে যুদ্ধের কেন প্রয়োজন বলো?
কেউ শব না হলে ,
সেটাও তো কর্মের ফলাফলই হলো,
আমাদের অধিকার নাই হলো তাতে,
সারিতে দাঁড়িয়ে আছে মারণাস্ত্র হাতে,
ওই দ্যাখো ওধারে দুর্যোধন-তনয় লক্ষণ
আর বিজয়-ধনুর্ধারী-পুত্র বৃষকেতু,
এধারে অভিমন্যু শ্রুতকর্মা ঘটোৎকচ,
প্রাণ দিতে প্রস্তুত পিতাদের হেতু,
এত নাম নিলে সখা,
ভীষ্ম দ্রোণ দুর্যোধন আরো কত বীর,
শমন শিয়রে নাচে যুদ্ধে যাদের।
নাম কেন করলে না সেইসব উত্তরাধিকারীর,
আমাদের সাথে আর আমাদেরই হাতে
যারা শব হতে পারে!
কারণ জানি হে সখা, হে গুরু আমার,
অভিমন্যু শ্রুতকর্মা নাম যদি ওঠে একবার,
গাণ্ডীব শিথিল হবে ,
যুদ্ধের বিরুদ্ধে আনা শান্তিপ্রস্তাবে দূত হয়ে হস্তিনা গেছিলে যখন,
একবারও বলেছিলে ওহে দুর্যোধন, তুমি বেঁচে শব হতে পারে লক্ষণ,
শোনো হে রাধেয়,
বৃষসেন শব হলে যুদ্ধে জিতেও তুমি হেরে যাবে তবে,
এত যুক্তি তুমি শোনালে মাধব,
কখনো ভেবেছো যুদ্ধ পিতৃ-অনুভবে?
তবু, হে আমার হৃদয়ের প্রভু,
এখনই ওঠাবো দেখো গাণ্ডীব আমি,
এখন গোষ্ঠি থেকে সরে গেলে সে যে হবে চূড়ান্ত বোকামি,
যুধিষ্ঠির হলে রাজা বঞ্চিত হবো সেই রাজসুখ থেকে,
দুর্যোধন জিতে গেলে শত্রুর শেষ তো সে ছাড়বেই দেখে,
যে পক্ষ জিতুক সখা,
একা হলে অন্তিমে ক্ষতি যে আমার,
আর দেরি নয় বাসুদেব,
এই শোনো গাণ্ডীবে দিই টংকার!
তবে প্রশ্ন একটা রয়ে গেলো হে সারথি।
ভুলে গিয়ে এ ভারত- যুদ্ধের শোক,
আগামী ভারত যদি পুনরায় মেতে ওঠে স্বজন-আঘাতে,
তোমার এই বাণীকে করে নির্মোক?
কী হবে হে যুগ-কাণ্ডারী,
ভক্তি সরিয়ে রেখে দেশঘাতী শক্তিকে প্রশ্রয় দেয় যদি পাঁচ লাখ লোক?









