তোমার গোষ্ঠির নাম নিয়ে যদি কোনো হত্যাকাণ্ড হয়,
যদি গণধর্ষণ ঘটে,
যদি মানুষের ঘর পোড়ে,
যদি শিশুরা অভুক্ত অনাথ হয়ে পথে পথে ঘোরে,
তাহলে তোমাকে তার দায় নিতে হবে।
সে তুমি যেই হও,
দেশ, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা জাতি বা অন্য কোনো সংজ্ঞায় চিহ্নিত অত্যাচারী গোষ্ঠির নিরীহতম সদস্য,
সারাজীবন একবারও শেকড়ের গর্ব না করা নির্বিরোধী মানুষ,
অথবা মাটির দিকে নজর করা আপনি-কপনি লোক,
অত্যাচারী সংখ্যাগুরু গোষ্ঠির কেউ হলে,
তোমাকে লঘুর ওপরে করা সমস্ত অপরাধের দায় নিতে হবে।
তুমি বলতেই পারো ওসব কেবল কিছু উন্মাদ ব্যক্তির বিরল কার্যকলাপ,
তোমার দেশ, ধর্ম, বর্ণ, জাতি
বা ইজম সেই ঘৃণ্য অপরাধ সমর্থন করে না,
তুমি বলতেই পারো ওসব ঘটেছে অন্য দেশে, প্রদেশে,
শহরে অথবা পাড়ায়,
যার দূর দূরান্ত-তক তোমার যাতায়াত নেই,
তুমি বলতেই পারো তুমি নিজে মানুষ ভালো,
কখনো কোনোরকম বিভাজনে প্রশ্রয় দাওনি..
বোলো না। থামো।
আভূমি নুইয়ে মনের ভেতর থেকে বলো,
আমায় ক্ষমা করো,
ভীষণ অক্ষমতায় আমি এটা থামাতে পারিনি।
তুমি হিন্দু হলে গো-রক্ষার ছদ্মবেশে গণপিটুনিতে মরা প্রতি থ্যাঁতলানো ইসলামী লাশের দায় তোমার।
তুমি মুসলমান হলে কোরান অপবিত্র করার আড়ালে পুড়িয়ে মারা প্রতিটি অ-মুসলমানের পোড়া কংকালের দায় তোমার।
তুমি ইজরায়েলি হলে প্রতিটি নিহত ফিলিস্তিনি শিশুর জন্য তুমিই দায়ী।
তুমি ফিলিস্তিনি হলে হামাস-এর আক্রমণে নিহত সব নিরপরাধ ইজরায়েলীর রক্ত তোমার হাতে লেগে।
তুমি সাদা আমেরিকান হলে পুলিশ ও আইনের প্রতি কালো-বৈষম্যের লজ্জা তোমার।
তুমি কালো আমেরিকান হলে সাদা কিশোরীটিকে অন্ধকারে গণধর্ষণের দলে তুমিও ছিলে…
এড়িয়ে যেয়ো না।
এভাবেই এড়াতে এড়াতে হোমো স্যাপিয়েন্স আজ যে কোনো পরিস্থিতিতে দুটো ভাগে ভাগ হয়ে যায়,
সংখ্যাগরিষ্ঠ আর সংখ্যালঘু।
এমন গরিষ্ঠ নেই, যার হাতে লঘুদের রক্ত লাগেনি।
সে রক্তের দায় না নিলে,
মানুষ আবার ফিরে মানুষ হবে না,
দায়হীন অপরাধ আঁধার আসার পথ করে ক্রমশ সুগমতর,
সময়ের কোণে কোণে অসহায় লাশ হয় জড়ো।
এসো , দায় নাও।
লজ্জায় অধোবদন হয়ে বসো।
আগামীর উদ্দেশ্যে করজোড়ে বলো,
ক্ষমা করো।










