গোড়াতেই অকপটে স্বীকার করে নিই যে এমন একটা আন্তর্জাতিক উদযাপনের কথা আমার আগে থেকে জানা ছিলনা। নতুন লেখা লেখির বিষয়ের খোঁজ করতে গিয়ে প্রথমে ইন্দুমতীর কথা নজরে আসে। সেই সূত্রেই একে একে জানতে পারি আন্তর্জাতিক বর্জ্য সংগ্রাহক দিবসের কথা। আমাদের চেনাজানার পরিসরে কাঁধে বস্তা ঝুলিয়ে, অপরিচ্ছন্ন পোশাক পরিহিত এ পাড়া সে পাড়া পাড়ি দিয়ে ফেরা এমন মানুষেরা আমাদের অপরিচিত হয়তো নয়, তবে তাদের ডেকে এনে খাতির করার কথা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। অথচ এই মানুষগুলো আজকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মূল চালিকাশক্তি। এই নিবন্ধটি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের বিনম্র প্রয়াস মাত্র। ইন্দুমতীরা ভালো থাকুক কেননা তাদের ভালো থাকার ওপর নির্ভর করছে আমার, আপনার, আমাদের সকলের ভালো থাকা।আজ শুরুতেই ইন্দুমতীর কথা বলি। ইন্দুমতী কোনো কেউকেটা মানুষ নয়। তার মানুষী পরিচয়ের বাইরের পরিচিতি এতোটাই অন্যরকমের, এতোটাই সাধারণ যে পরিচয় জানার পর মুখ উল্টিয়ে আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো বলবেন – একে নিয়ে এতো ভণিতা করার কী আছে? সত্যিই হয়তো তাই, কিন্তু যদি বলি আজকের দিনটি অর্থাৎ ১ মার্চ,২০২৬ , ইন্দুমতীদের দিন তাহলে হয়তো আপনাদের কিঞ্চিত উৎসাহ জাগবে তার সম্পর্কে। বেঙ্গালুরুর কে. আর. পুরমের ড্রাই ওয়েস্ট কালেকশন সেন্টারে গেলে ইন্দুমতীর দেখা মিলবে ব্যস্ত হাতে স্তূপীকৃত বর্জ্যের মধ্য থেকে রিসাইক্লেবেল প্লাস্টিক বর্জ্যকে আলাদা করে বেছে নিতে। এটাই ইন্দুমতীর কর্মস্থল। এক সময় বস্তা কাঁধে নিয়ে শহরের এ গলি,সে গলি ঘুরে ঘুরে শহরের মানুষজনের ফেলে দেওয়া আবর্জনা ঘেঁটে সে সংগ্রহ করতো তার বেঁচে থাকার পুঁজি। তার পরিচয় ছিল শহরের আর পাঁচটা কাগজ কুড়ানি বা rag pickers এর একজন হিসেবে। আজ সে নিজেই একটি ড্রাই ওয়েস্ট কালেকশন সেন্টারের মালকিন। এতে করে তার সামাজিক মর্যাদা যে খুব বেড়েছে তা হয়তো নয়, তবে দেশের অত্যন্ত নিম্নস্তরের এক জীবিকার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে rag pickers’ দের ভারতীয় মুখপাত্র হয়ে সে ঘুরে এসেছে প্যারিস। সেখানেই তুলে ধরেছে দেশের কাগজ কুড়ানি মানুষদের দৈনন্দিন যাপনের ঘাম ঝরানো লড়াইয়ের কথা। দুনিয়া জুড়ে এমন লড়াইয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা মানুষদের কাজকে কুর্ণিশ জানাতেই প্রতি বছর পয়লা মার্চ দিনটিকে পালন করা হয় International Waste Pickers Day হিসেবে।১৯৯২ সালের এক রক্তঝরা দিনকে স্মরণ করেই এই বিশেষ দিনটির উদযাপন। ওই বছর দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়ায় কয়েকজন ওয়েস্ট পিকার্সকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। সহযোগী বন্ধুদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতেই International Waste Pickers Day বা তথাকথিত কাগজ কুড়ানি দিবসের পালন। আজ গোটা দুনিয়া জুড়েই এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির ( lLO ) পক্ষ থেকে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সত্যি কথা বলতে কি, ইন্দুমতীদের মতো অতি – প্রান্তিক স্তরের শ্রমজীবী মানুষদের কথা ভাববার ও ভাবানোর মতো মানুষ বা সংগঠনের দেখা সহজে মিলবে না। অথচ এই আবর্জনা ঘাঁটার নোংরা কাজের সঙ্গে যুক্ত বিপুল সংখ্যক মানুষের ঘাম ঝরানো নিরলস পরিশ্রমের কারণেই আমাদের বাস্তুতন্ত্রের একটি বিশেষ ধারা অব্যাহত রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আজকের দিনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, সভ্যতার জিয়নকাঠি। ফলত এই কাজের সূত্র ধরেই পরিবেশ পরিমন্ডলের ভারসাম্য বজায় থাকার পাশাপাশি পৃথিবীর মূল্যবান অথচ ক্ষয়িষ্ণু সম্পদের ভাণ্ডার পুনঃসংস্থাপিত হচ্ছে। তাই এমন কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন যে সমস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষেরা, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের কথা বিস্মৃত হয়ে থাকলে এক অন্যায়কেই যে প্রশ্রয় দেওয়া হয়।প্রশ্ন হলো এই সমস্ত মানুষের অধিকার, সুরক্ষা ও সামাজিক অবস্থান বিষয়ে আমরা কি সত্যিই সচেতন, সংবেদনশীল? এর উত্তর অবশ্যই না। আমরা এঁদের সম্পর্কে মোটেই সচেতন নই। অসংগঠিত হবার কারণে তাঁরাও তাঁদের অধিকার বা দাবিদাওয়া সম্পর্কে কখনোই সোচ্চার নন। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা কেউই নথিভুক্ত শ্রমজীবীর তালিকায় ঠাঁই পাননি। অথচ এইসব মানুষেরা হলেন সমস্ত রকমের বর্জ্যের প্রাথমিক সংগ্রাহক। এইসব মানুষেরাই বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করার পর তাদের ঝাড়াই বাছাই শ্রেণিকরণ ও বিপণনের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ চক্রটিকে সক্রিয় রাখেন। অনেকক্ষেত্রে এঁরাই অংশ নেন বর্জ্য থেকে পুনঃব্যবহার যোগ্য কাঁচামাল তৈরির কাজে। অথচ এই মানুষেরা সমস্ত রকম অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার। এঁদের দুঃখ দুর্দশা, সীমাহীন অবহেলা আর দাবি দাওয়ার কথা বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার মতো কেউ নেই। প্যারিস সম্মেলনে গিয়ে ইন্দুমতী তাঁর নিজের ও তাঁর সহযোগীদের কথা কিছুটা তুলে ধরেছেন বটে, তবে তা কখনোই যথেষ্ট নয়। চাই আরও অসংখ্য ইন্দুমতীর জোরালো কন্ঠস্বর যা এইসমস্ত অতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষদের কথা বিশ্ব পটভূমিতে তুলে ধরবেন।এমনই এক প্রেক্ষাপটে একবার খোঁজ করে দেখা যাক্ আমাদের দেশে এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষেরা ঠিক কেমন আছেন? সরকারের পক্ষ থেকে এইসব প্রান্তিক পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জন্য কী ভাবনা চিন্তা করা হয়েছে ?একথা ভুললে চলবে না যে এতোদিন এদের কথা, আলাদা করে ভাববার কথা সরকারের কাছে প্রাথমিকতা পায়নি। লোকসভায় প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এই বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপের কথা জানা গেলো।
ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখে লোকসভায় প্রশ্নোত্তরের পর্ব চলছিল। আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল দেশের একেবারেই নিম্নতম আর্থসামাজিক স্তরের মানুষদের বাস্তব অবস্থার তথ্য যাচাই করা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সম্প্রতি এমনসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের সম্পর্কে এক তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজ চলছে। উদ্দেশ্য এঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। তাই এই সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সাধারণভাবে rag pickers বা কাগজ কুড়ানি নামে পরিচিত মানুষদের যারা কর্মসূত্রে চলতি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এখনও পর্যন্ত দেশের ৩৫ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৩৫টি নগর জনপদের ১. ৫২ লক্ষ rag pickers এর পরিচয় নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্যে ৮৪.৫% কাগজ কুড়ানি মানুষ তফসিলী জাতি, তফসিলী উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং ১০.৭% মানুষ সাধারণ শ্রেণিভুক্ত। সাধারণ কাগজ কুড়ানি মানুষদের নিয়ে নথিভুক্ত এই তথ্য এই বছরের জানুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত সংগৃহীত হয়েছে। এদের মধ্যে ৭৪,৪২৭ জন হলেন মহিলা (৪৮.৭%) এবং ৭৮,৩৭৪ জন হলেন পুরুষ (৫১.৩ %)। এছাড়াও ১২ জন লিঙ্গান্তরিত মানুষও এই পেশায় যুক্ত। এমন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সম্ভব।
জীবিকার সূত্রে সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কিত এই তথ্য বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে যে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যাগত পরিমাণ ঠিক কেমন। সর্বমোট ১.৫২ লক্ষ নথিবদ্ধ rag pickers এর মধ্যে ৯২,০৮৯ জন বা ৬০.৩% তফসিলি বর্গের, ১৩.৭%। বা ২০.৯৫৪ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং ১০.৫ % মানুষ তফসিলি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। এই কাজে নিয়োজিত সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মানুষের সংখ্যা ১৬,৩২৯ জন ,যা সর্বমোট সংখ্যার ১০.৭ % ।
সমীক্ষায় দেখা গেছে দিল্লি ও গোয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ কাগজ কুড়ানি মানুষ সাধারণ শ্রেণিভুক্ত। দিল্লির নথিভুক্ত ৬৫০০ জন কাগজ কুড়ানি মানুষদের মধ্যে ৪২৮৯ জনই সাধারণ জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। গোয়ায় সমীক্ষিত ১২৮৬ জনের মধ্যে ৭২৯ জন এই পর্যায়ের। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা অন্যদের ছাপিয়ে গেছে। বিশেষ করে দিল্লি ও গোয়ার মোট rag pickers এর মধ্যে অন্যসব বর্গের মানুষের তুলনায় সাধারণ বর্গের মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের রাজ্যে নথিভুক্ত কাগজ কুড়ানি মানুষদের মধ্যে ৪২. ৪% সাধারণ জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।ভারত সরকারের সামাজিক ন্যায় ও সশক্তিকরণ ( Social Justice and Empowerment ) মন্ত্রকের পক্ষ থেকে NAMASTE ( National Action for Mechanised Sanitation Ecosystem) শীর্ষক একটি কর্মপরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে যার প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের সমস্ত স্যানিটেশন কর্মী ও কাগজ কুড়ানি মানুষদের নাম প্রাথমিকভাবে নথিভুক্ত করা এবং পরবর্তীতে এই সব মানুষদের কাছে সরকারি সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিয়ে তাঁদের শ্রমসাধ্য অনিশ্চিত জীবনে খানিকটা স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে আসা। প্রয়োজনীয় সুরক্ষার অভাবে প্রতিবছর বেশ কিছু স্যানিটেশন কর্মীর মৃত্যু হয়, নানারকম দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে হয় বহুসংখ্যক জঞ্জাল আবর্জনা হাতড়ে বেঁচে থাকার রসদ সংগ্রহকারী rag pickers মানুষেরা।
ইংরেজির সেই বহুল ব্যবহৃত বাগধারাটির কথা উল্লেখ করি – Better Late Than Never. দেরিতে হলেও আমাদের চোখ খুলছে। সমাজের এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষদের কথা প্রশাসনের উচ্চতম স্তর থেকে ভাবা হচ্ছে। এটা সত্যিই বরফ গলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন ভাবনা চিন্তার সূত্র ধরে যদি ইন্দুমতীদের জীবনে সত্যিকারের পরিবর্তন ঘটে তাহলেই এই দিনটির উদযাপন সফলতা অর্জন করবে।
ঋণ স্বীকার: ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন, দ্যা হিন্দু পত্রিকা ও অন্যান্য পত্রিকার প্রতিবেদন।
এই অসাধারণ প্রতিবেদনটির জন্য লেখক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় এবং ডক্টরস ডায়ালগকে অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে এই ধরণের গবেষণাধর্মী কাজের গুরুত্ব অপরিসীম।
আমার খুব চেনা দুই তেলেঙ্গানাবাসী কাগজ কুড়ানি মহিলার কথা মনে পড়ছে — গোপিকা আর প্রিয়াম্মা – আজকের এই বিশেষ দিনে। চুরির অভিযোগে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল।সে অবশ্য অনেককাল আগের কথা। এতো বছর পরেও এই প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে আমাদের ভাবনার বিশেষ পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে এই অবস্থার বদল হবেনা।
Dr Sumit Mukherjee
3 months ago
খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অবহেলিত একটি বিষয়ে আলোকপাত করবার জন্য লেখককে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।
ধন্যবাদ সুমিত দা। আসলে পয়লা মার্চের গুরুত্ব বিষয়ে জানার পর থেকেই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষদের কথা আরও বেশি করে ভাবতে শুরু করি সম্পূর্ণ নিজের তাগিদ থেকেই। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এর থেকে কার্যকর উপায় আর আমার জানা ছিলোনা।
Soumen Roy
3 months ago
পরিবেশবাদী লেখকের কল্যাণে অনেক কথা জানতে পারি। সরকারিভাবে কিছু পদক্ষেপ অন্তত করা হচ্ছে এটা আশার কথা।সামাজিক ভাবেও আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। অন্তত সম্মানটুকু আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া উচিত।
জানা বিষয়ে আলোচনা করলে পাঠকরা বলতেন এতো চর্বিত চর্বণ। আর এই সব মানুষদের কথা তো কেউ সহজে তুলে ধরতেই রাজি হবেন না। অথচ কি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই মানুষেরা করে চলেছেন। এদের উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে আমাদের। আমাদের দেশে এই কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে অগণিত শিশু, যাদের মূল্যবান শৈশব চুরি হয়ে গেছে দারিদ্র্যের নিষ্পেষণে।
ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে।
Abhradeep Roy
3 months ago
খুব খুব ভালো লাগলো দাদা লেখাটা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে তো নিচুস্তরের নথিভুক্ত কর্মীদেরও কোনো শ্রম নিরাপত্তা/সুরক্ষা জোটে না। এরকম কাগজ কুড়ানিদের কথা তো ছেড়েই দিলাম। তাও এবিষয়ে সরকার উদ্যোগী হচ্ছে দেখে ভালো লাগলো। তবে শুধু কাগজ কুড়ানি না, সমস্ত শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
যেরকম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকম উপকরণ ছাড়াই যেভাবে মিস্ত্রিরা কাজ করে কেবলমাত্র মুনাফালোভী ঠিকাদারদের কারণে, দেখে আতঙ্ক লাগে।
এই লেখাটি হলো ব্রাত্য জনের ইতিকথা। এইসব মানুষদের জীবন যাপনের সঙ্গে আমাদের পরিচয় খুব কম। এঁরা আড়ালে থাকতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কর্ম সুরক্ষার সুযোগ নেই। ঝুঁকির সঙ্গে নিরন্তর বোঝাপড়া করে চলতে হয় এদের।এমন মানুষদের নিয়ে আন্তর্জাতিক উদযাপনের কথা জানাই ছিলনা। যখন জানলাম তখনই জানিয়ে দিলাম সবাইকে।
ভালো থেকো।
Sugata Bhattacharjee
3 months ago
একদম অন্যরকম বিষয়।। খুব ভালো লাগলো পড়ে এবং জেনে যে এনাদের জন্যে একটি বিশেষ দিন আছে। সরকার এর তরফ থেকেও এদের সামাজিক, আর্থিক এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা করার প্রয়াস যে শুরু হয়েছে সেটাও জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ দাদা।
DrSouravM
7 days ago
Kagoj kuruni ra amader somaj er sathe mishe achen. Ei shobdo ta diye amra tader chini, roj dekhi kintu keu eder katha vabe na. Ei lekha ta valo laglo.
অভয়া আন্দোলনে আমাদের দিক থেকে যে দশদফা দাবিকে সূচিমুখ করে আমরা লড়াই চালিয়েছিলাম এবং যে দাবিগুলির সাথে আপামর বাংলার জনগণ সম্পৃক্ত হয়েছিলেন, এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
২০২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। একে একে সমস্ত দেশের খেলোয়ারেরা এবং তাদের কর্মকর্তারা হাজির হচ্ছেন প্রধানত আমেরিকায় কিংবা মেক্সিকো বা কানাডায় – যে দেশে
৯/৬/২০২৬ আমরা সবাই জানি অভয়ার খুন-ধর্ষনের মামলায় নতুন SIT গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। অভয়া মামলা আবার এসেছে সংবাদ পত্রের হেডলাইনে, ন্যায়বিচারের আশা আবার
ফের এ বছরেও চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটল। এই বছরে নিয়ে গত পাঁচ বছরে চতুর্থবার। এর জন্য প্রশ্ন তৈরি করে
আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।
এই অসাধারণ প্রতিবেদনটির জন্য লেখক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় এবং ডক্টরস ডায়ালগকে অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে এই ধরণের গবেষণাধর্মী কাজের গুরুত্ব অপরিসীম।
আমার খুব চেনা দুই তেলেঙ্গানাবাসী কাগজ কুড়ানি মহিলার কথা মনে পড়ছে — গোপিকা আর প্রিয়াম্মা – আজকের এই বিশেষ দিনে। চুরির অভিযোগে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল।সে অবশ্য অনেককাল আগের কথা। এতো বছর পরেও এই প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে আমাদের ভাবনার বিশেষ পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে এই অবস্থার বদল হবেনা।
খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অবহেলিত একটি বিষয়ে আলোকপাত করবার জন্য লেখককে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।
ধন্যবাদ সুমিত দা। আসলে পয়লা মার্চের গুরুত্ব বিষয়ে জানার পর থেকেই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষদের কথা আরও বেশি করে ভাবতে শুরু করি সম্পূর্ণ নিজের তাগিদ থেকেই। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এর থেকে কার্যকর উপায় আর আমার জানা ছিলোনা।
পরিবেশবাদী লেখকের কল্যাণে অনেক কথা জানতে পারি। সরকারিভাবে কিছু পদক্ষেপ অন্তত করা হচ্ছে এটা আশার কথা।সামাজিক ভাবেও আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। অন্তত সম্মানটুকু আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া উচিত।
আমি কিন্তু সৌমেন বাবু নির্বিবাদী। আমার এই সামান্য প্রয়াস যদি আমাদের ভাবনার এতটুকুও বদল আনতে পারে তাহলে জানবো আমার শ্রম সার্থক।
Otyonto proyojoniyo ebong shomoyopojogi!
Ekti swalpo porichito bishoy niye oshadharon lekha!
Er kono tothyoi praay jana chhilona Amar.
Somnath Da ke oshonkhyo dhanyobad!
জানা বিষয়ে আলোচনা করলে পাঠকরা বলতেন এতো চর্বিত চর্বণ। আর এই সব মানুষদের কথা তো কেউ সহজে তুলে ধরতেই রাজি হবেন না। অথচ কি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই মানুষেরা করে চলেছেন। এদের উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে আমাদের। আমাদের দেশে এই কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে অগণিত শিশু, যাদের মূল্যবান শৈশব চুরি হয়ে গেছে দারিদ্র্যের নিষ্পেষণে।
ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে।
খুব খুব ভালো লাগলো দাদা লেখাটা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে তো নিচুস্তরের নথিভুক্ত কর্মীদেরও কোনো শ্রম নিরাপত্তা/সুরক্ষা জোটে না। এরকম কাগজ কুড়ানিদের কথা তো ছেড়েই দিলাম। তাও এবিষয়ে সরকার উদ্যোগী হচ্ছে দেখে ভালো লাগলো। তবে শুধু কাগজ কুড়ানি না, সমস্ত শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
যেরকম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকম উপকরণ ছাড়াই যেভাবে মিস্ত্রিরা কাজ করে কেবলমাত্র মুনাফালোভী ঠিকাদারদের কারণে, দেখে আতঙ্ক লাগে।
এই লেখাটি হলো ব্রাত্য জনের ইতিকথা। এইসব মানুষদের জীবন যাপনের সঙ্গে আমাদের পরিচয় খুব কম। এঁরা আড়ালে থাকতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কর্ম সুরক্ষার সুযোগ নেই। ঝুঁকির সঙ্গে নিরন্তর বোঝাপড়া করে চলতে হয় এদের।এমন মানুষদের নিয়ে আন্তর্জাতিক উদযাপনের কথা জানাই ছিলনা। যখন জানলাম তখনই জানিয়ে দিলাম সবাইকে।
ভালো থেকো।
একদম অন্যরকম বিষয়।। খুব ভালো লাগলো পড়ে এবং জেনে যে এনাদের জন্যে একটি বিশেষ দিন আছে। সরকার এর তরফ থেকেও এদের সামাজিক, আর্থিক এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা করার প্রয়াস যে শুরু হয়েছে সেটাও জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ দাদা।
Kagoj kuruni ra amader somaj er sathe mishe achen. Ei shobdo ta diye amra tader chini, roj dekhi kintu keu eder katha vabe na. Ei lekha ta valo laglo.