




ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখে লোকসভায় প্রশ্নোত্তরের পর্ব চলছিল। আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল দেশের একেবারেই নিম্নতম আর্থসামাজিক স্তরের মানুষদের বাস্তব অবস্থার তথ্য যাচাই করা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সম্প্রতি এমনসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের সম্পর্কে এক তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজ চলছে। উদ্দেশ্য এঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। তাই এই সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সাধারণভাবে rag pickers বা কাগজ কুড়ানি নামে পরিচিত মানুষদের যারা কর্মসূত্রে চলতি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
জীবিকার সূত্রে সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কিত এই তথ্য বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে যে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যাগত পরিমাণ ঠিক কেমন। সর্বমোট ১.৫২ লক্ষ নথিবদ্ধ rag pickers এর মধ্যে ৯২,০৮৯ জন বা ৬০.৩% তফসিলি বর্গের, ১৩.৭%। বা ২০.৯৫৪ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং ১০.৫ % মানুষ তফসিলি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। এই কাজে নিয়োজিত সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মানুষের সংখ্যা ১৬,৩২৯ জন ,যা সর্বমোট সংখ্যার ১০.৭ % ।
সমীক্ষায় দেখা গেছে দিল্লি ও গোয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ কাগজ কুড়ানি মানুষ সাধারণ শ্রেণিভুক্ত। দিল্লির নথিভুক্ত ৬৫০০ জন কাগজ কুড়ানি মানুষদের মধ্যে ৪২৮৯ জনই সাধারণ জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। গোয়ায় সমীক্ষিত ১২৮৬ জনের মধ্যে ৭২৯ জন এই পর্যায়ের। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা অন্যদের ছাপিয়ে গেছে। বিশেষ করে দিল্লি ও গোয়ার মোট rag pickers এর মধ্যে অন্যসব বর্গের মানুষের তুলনায় সাধারণ বর্গের মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের রাজ্যে নথিভুক্ত কাগজ কুড়ানি মানুষদের মধ্যে ৪২. ৪% সাধারণ জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
ইংরেজির সেই বহুল ব্যবহৃত বাগধারাটির কথা উল্লেখ করি – Better Late Than Never. দেরিতে হলেও আমাদের চোখ খুলছে। সমাজের এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষদের কথা প্রশাসনের উচ্চতম স্তর থেকে ভাবা হচ্ছে। এটা সত্যিই বরফ গলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন ভাবনা চিন্তার সূত্র ধরে যদি ইন্দুমতীদের জীবনে সত্যিকারের পরিবর্তন ঘটে তাহলেই এই দিনটির উদযাপন সফলতা অর্জন করবে।
ঋণ স্বীকার: ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন, দ্যা হিন্দু পত্রিকা ও অন্যান্য পত্রিকার প্রতিবেদন।
০১.০৩.২০২৬












এই অসাধারণ প্রতিবেদনটির জন্য লেখক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় এবং ডক্টরস ডায়ালগকে অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে এই ধরণের গবেষণাধর্মী কাজের গুরুত্ব অপরিসীম।
আমার খুব চেনা দুই তেলেঙ্গানাবাসী কাগজ কুড়ানি মহিলার কথা মনে পড়ছে — গোপিকা আর প্রিয়াম্মা – আজকের এই বিশেষ দিনে। চুরির অভিযোগে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল।সে অবশ্য অনেককাল আগের কথা। এতো বছর পরেও এই প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে আমাদের ভাবনার বিশেষ পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে এই অবস্থার বদল হবেনা।
খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অবহেলিত একটি বিষয়ে আলোকপাত করবার জন্য লেখককে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।
ধন্যবাদ সুমিত দা। আসলে পয়লা মার্চের গুরুত্ব বিষয়ে জানার পর থেকেই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষদের কথা আরও বেশি করে ভাবতে শুরু করি সম্পূর্ণ নিজের তাগিদ থেকেই। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এর থেকে কার্যকর উপায় আর আমার জানা ছিলোনা।
পরিবেশবাদী লেখকের কল্যাণে অনেক কথা জানতে পারি। সরকারিভাবে কিছু পদক্ষেপ অন্তত করা হচ্ছে এটা আশার কথা।সামাজিক ভাবেও আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। অন্তত সম্মানটুকু আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া উচিত।
আমি কিন্তু সৌমেন বাবু নির্বিবাদী। আমার এই সামান্য প্রয়াস যদি আমাদের ভাবনার এতটুকুও বদল আনতে পারে তাহলে জানবো আমার শ্রম সার্থক।
Otyonto proyojoniyo ebong shomoyopojogi!
Ekti swalpo porichito bishoy niye oshadharon lekha!
Er kono tothyoi praay jana chhilona Amar.
Somnath Da ke oshonkhyo dhanyobad!
জানা বিষয়ে আলোচনা করলে পাঠকরা বলতেন এতো চর্বিত চর্বণ। আর এই সব মানুষদের কথা তো কেউ সহজে তুলে ধরতেই রাজি হবেন না। অথচ কি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই মানুষেরা করে চলেছেন। এদের উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে আমাদের। আমাদের দেশে এই কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে অগণিত শিশু, যাদের মূল্যবান শৈশব চুরি হয়ে গেছে দারিদ্র্যের নিষ্পেষণে।
ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে।
খুব খুব ভালো লাগলো দাদা লেখাটা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে তো নিচুস্তরের নথিভুক্ত কর্মীদেরও কোনো শ্রম নিরাপত্তা/সুরক্ষা জোটে না। এরকম কাগজ কুড়ানিদের কথা তো ছেড়েই দিলাম। তাও এবিষয়ে সরকার উদ্যোগী হচ্ছে দেখে ভালো লাগলো। তবে শুধু কাগজ কুড়ানি না, সমস্ত শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
যেরকম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকম উপকরণ ছাড়াই যেভাবে মিস্ত্রিরা কাজ করে কেবলমাত্র মুনাফালোভী ঠিকাদারদের কারণে, দেখে আতঙ্ক লাগে।
এই লেখাটি হলো ব্রাত্য জনের ইতিকথা। এইসব মানুষদের জীবন যাপনের সঙ্গে আমাদের পরিচয় খুব কম। এঁরা আড়ালে থাকতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কর্ম সুরক্ষার সুযোগ নেই। ঝুঁকির সঙ্গে নিরন্তর বোঝাপড়া করে চলতে হয় এদের।এমন মানুষদের নিয়ে আন্তর্জাতিক উদযাপনের কথা জানাই ছিলনা। যখন জানলাম তখনই জানিয়ে দিলাম সবাইকে।
ভালো থেকো।
একদম অন্যরকম বিষয়।। খুব ভালো লাগলো পড়ে এবং জেনে যে এনাদের জন্যে একটি বিশেষ দিন আছে। সরকার এর তরফ থেকেও এদের সামাজিক, আর্থিক এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা করার প্রয়াস যে শুরু হয়েছে সেটাও জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ দাদা।