দাদাগিরি কথাটার সঙ্গে আমরা সকলেই পরিচিত। ঘটনাচক্রে আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো কোনো না কোনো সময় এই অনভিপ্রেত দাদাগিরির শিকার হয়েছি। সে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি! ছোটোবেলায় পড়া সেই নেকড়ে বাঘ আর হরিণ শাবকের গল্প মনে আছে নিশ্চয়ই? তাও ছিল দাদাগিরির উদাহরণ।
বিগত কয়েক বছর ধরেই দুনিয়ার কোথাও না কোথাও গোলাগুলি আর আকাশ থেকে মিসাইল দাগার ঘটনা ঘটেই চলেছে। সবক্ষেত্রেই কেমন যেন অসম লড়াই – রাশিয়ার ইচ্ছে হলো প্রতিবেশী ইউক্রেনের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিজের দখলদারি প্রতিষ্ঠা করতে। যেমন ভাবা তেমনই কাজ। ইউক্রেনের ওপর শুরু হলো আক্রমণ। ইউক্রেন বাধ্য হয়ে প্রতিরোধে নামলো। শুরু হলো যুদ্ধ। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখনও চলছে সমানতালে। দাদাগিরির গুমর কি আর সহজে কমে!
মজা লুটতে চাইছে। এমন দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পৃথিবীর অগণিত সংখ্যক মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জীবনকে রীতিমতো অনিশ্চিত করে তুলেছে। কেন এই যুদ্ধ? এখানেও সেই তেলের জোগানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার ঘৃণ্য রাজনীতি। ক্ষীয়মান সম্পদের দুনিয়ার এমনটাই বোধহয় অনিবার্য পরিণতি।
এই অঞ্চলের দেশগুলোর মাটির নিচে যে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল মজুদ আছে তার দখল পেতেই এই আগ্রাসন। ইরানের তৈল ক্ষেত্র,তৈল শোধনাগারের ওপর নিরন্তর বোমা বর্ষণের ফলে ক্যাটাস্ট্রোফিক এনভায়রনমেন্টাল বিপর্যয়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিকাঠামোর এমন ক্ষয়ক্ষতির খেসারত দিতে হচ্ছে গোটা বিশ্বের মানুষ ও পরিবেশকে। এই যুদ্ধ কেবলমাত্র ইস্রায়েল ও ইরানের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করছে না, ভেঙে পড়তে চলেছে গোটা দুনিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। যথেচ্ছভাবে বোমা বর্ষণের কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলোর পরিকাঠামোগত সমস্যা আগামীদিনে এতোটাই গম্ভীর হয়ে উঠবে যে, তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর ক্ষেত্রীয় ভারসাম্যকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত করবে। বোমাবাজির ফলে একমাত্র ইরানেই প্রায় ২০০০০ আবাসিক বাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবন মাটিতে মিশে গেছে। অন্যান্য দেশগুলোর অবস্থা এই হিসেব থেকেই আন্দাজ করতে পারি আমরা।
আজকের এই দৃশ্য কেবলমাত্র ইরানের নয়। এই দৃশ্য আমরা প্রত্যক্ষ করেছি ভিয়েতনামে, ইউক্রেনে,গাজা ভূখণ্ডে, সুদানে , মায়ানমারে — সর্বত্রই। ইরানের পাল্টা আঘাতে আজ বিপর্যস্ত প্রতিবেশী লেবানন সহ এলাকার অন্যান্য দেশগুলোও। খনিজ তেলের ভান্ডারতো কখনোই অফুরান নয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সম্পদকে এভাবে নষ্ট করে ফেলা গর্হিত কাজ।এসব জেনে শুনেও কেবলমাত্র দাদাগিরির আঁচে বিপন্ন হচ্ছে গোটা বিশ্বের মানুষ। মাত্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধে ১৭২,০০০ t Co2e কার্বন কণা মিশে গেছে বায়ুমণ্ডলে। পরবর্তী দুই সপ্তাহে এই নিঃসরণের হার কমেছে এমনটা কখনোই নয়। বাড়ছে এর পরিমাণ। সারাবছরে যে পরিমাণ কার্বন কণা বায়ুতে মেশে , মাত্র এক মাসের যুদ্ধে তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রতিদিন মিশে যাচ্ছে বায়ুমণ্ডলে। পরিবেশ পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোরালো হয়ে উঠছে সন্দেহাতীতভাবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি, ইরানের ওপর এই অন্যায় যুদ্ধ একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুটি দেশের যুদ্ধ লাগে তখনই কোনো একটি দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় অন্য দেশের আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে। এখানে কতগুলো অমূলক আশঙ্কা থেকে জবরদস্তি হানাদারি চালাচ্ছে ইস্রায়েল ও আমেরিকা। “এ যুদ্ধ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধ হলো জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত রাজনৈতিক অর্থনীতি বা পলিটিক্যাল ইকোনমির অংশ। এই যুদ্ধের ফলে আজ ইরানের সাধারণ নাগরিকরা যতটা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, অদূর ভবিষ্যতে এর ফলে গোটা দুনিয়ার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ অভাবিত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”
এই যুদ্ধের এটাই চরমতম ট্রাজেডি।
** এইমাত্র দূরদর্শন মারফত খবর পেলাম যে,ইরান কুয়েতের বন্দরে মিসাইল হেনেছে। তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ তেল এসে মিশেছে সমুদ্রের জলে। এর পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর। এই এলাকার দেশগুলোতে প্রয়োজনীয় জলের জোগান আসে সমুদ্রের জলকে পরিশোধনের মাধ্যমে। এরফলে পানীয় জল সহ অন্যান্য জলের জোগান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ভুক্তভোগী হবে সেই সাধারণ মানুষ যাঁরা জানলোই না কী তাঁদের দুর্দশার কারণ। এজন্যই বলা হয় – রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার পরাণ যায়। আসুন,পরাণডারে মুঠির মধ্যে বাইন্ধা বইসা থাকি।।
মার্চ ৩১.২০২৬












‘ ক্ষীয়মান সম্পদের দুনিয়ায় এমনটাই অনিবার্য পরিণতি ‘ – বোধহয় বাদ।
জোর যার মুলুক তার এখনও সমানভাবে প্রযোজ্য।
মতামত জানানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। পৃথিবীর কোন কিছুই বদলেছে বলে মনে হয় না। এতোদিন ধরে যে লড়াই আমরা করেছি, তা কেবলমাত্র আমাদের প্রতিবেশীদের কীভাবে দমিয়ে রাখা যায় তার প্রকৌশল রপ্ত করতেই করা হয়েছে। করোনা মহামারীর পর আরও গভীর সমস্যার আবর্তে তলিয়ে যাচ্ছে গোটা দুনিয়া। কারও ভ্রুক্ষেপ নেই।
Kichui karar nei.
Shudhu nijeder dhhongsho hoye jetey dekha!
It’s all matter of a ‘Deal’ !