১৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজ্য সরকার এবং স্বাস্থ্য দপ্তর যে স্বৈরাচারী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ নীতি অবলম্বন করে প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তারদের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল, আজকের হাইকোর্টের রায় তাদের গালে এক সপাটে চড়।
আজ কলকাতা হাইকোর্টের রায় প্রমাণ করে দিল যে ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করলে শেষ পর্যন্ত পরাজয়ই নিশ্চিত। জুনিয়র ডাক্তার চিকিৎসক দেবাশিস হালদার এবং আশফাকুল্লা নাইয়াকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে যেভাবে অনৈতিকভাবে বদলি করা হয়েছিল, আজ মহামান্য বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের নির্দেশে তা ধুলিসাৎ হয়ে গেল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দিষ্ট এসওপি (SOP) লঙ্ঘন করে নেওয়া এই বদলির সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিযুক্ত এবং আইনবহির্ভূত। তাই এই বেআইনি পোস্টিং বাতিল করে তাঁদের মেধাভিত্তিক প্রাপ্ত স্থানেই দ্রুত নিযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
অনেকে বলেছিলেন যে অনৈতিক পোস্টিং এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (WBJDF) হয়তো পিছু হটেছে, কিন্তু আমাদের লড়াই যে দৃঢ় প্রত্যয়ে চলেছে ও চলবে আজকের রায় তার প্রমাণ!
প্রথমে ডাক্তার অনিকেত মাহাতো ও তারপর আজ ডাঃ দেবাশিস হালদার এবং ডাঃ আশফাকুল্লা নাইয়ার এই প্রত্যাশিত জয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে আমাদের চলার পথকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। আমরা মনে করি এই হেরে যাওয়ার ভয় থেকে দূরে থাকতেই রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর এই বছরের SOP তে মেধাকে পূর্ণরূপে তুলে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতাবলে ছাত্রছাত্রীদের ইচ্ছেমত স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে সকলকেই।
এই পর্যন্ত এসে যারা বলবেন, অভয়ার ঘটনার আইনি আপডেট নিয়ে কি বক্তব্য আমাদের। যাঁরা বিভিন্ন চমকদার হেডলাইনে ইতিমধ্যে ওয়াকিবহাল হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে, তাঁদের উদ্দেশ্যে আমাদের বক্তব্য যে আমরা আদালতের জাজমেন্ট/অর্ডার কপি দেখে আমাদের যথেষ্ট আশাপ্রদ মনে হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, সিবিআই-এর যদি ‘প্রয়োজন মনে হয় ‘ তাহলে তারা আরও জেরা বা তদন্ত করতে পারেন। তো এই জায়গাতেই মূল সমস্যা, সিবিআই প্রয়োজন মনে করছে না বলেই তো ট্রায়াল কোর্টে বার বার এসে সীমা পহুজা বলে যাচ্ছেন তারা একেবারে সঠিক তদন্ত করেছেন, এর মধ্যে কোনো ফাঁক নেই। তাহলে এই অর্ডার এ সিবিআই কে আরও সুস্পষ্ট ও যথাযথ ভাবে নির্দেশ কেন দেওয়া হলো না সঞ্জয় রাই কে জেরা করার বা তদন্তের অসঙ্গতি চিহ্নিত করে সেখানে আরও প্রয়োজনীয় তদন্ত করার। বিচারকের পর্যবেক্ষণ দেখে আমরা আশান্বিত হতেই পারি, কিন্তু অর্ডার কপি তে তার প্রতিফলন না থাকলে আসলে কার্যত কোনো পরিবর্তন হয় না অবস্থার।
তবে গত ৯ই ফেব্রুয়ারি মহিলা চিকিৎসক প্রতিনিধিদের সাক্ষরনামা জমা দেওয়ার পর হাইকোর্ট এর নতুন বেঞ্চ যে গুরুত্বসহকারে
অভয়া মামলাকে দেখছে এবং তদন্তে গতির সঞ্চার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা আমাদের দীর্ঘকালীন প্রতিবাদেরই ফলশ্রুতি। WBJDF ভয় পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার মঞ্চ নয়; প্রতিটি অন্যায় আর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই সোচ্চার লড়াই জারি থাকবে।











