আজ দুটো পর পর ঘটনায় পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল।
ঘটনা এক। রক্তদান শিবিরের আয়োজক এক ক্লাবের কর্তারা এসেছিলেন নেমন্তন্ন করতে। আগামী রোববার তাদের রক্তদান শিবির।
আর ঘটনা দুই, ইমেল খুলে দেখি ট্রাফিক পুলিশের কর্তা তাঁর বাহিনীর জন্য ও আর এস প্যাকেট চেয়েছেন।
সুধী পাঠকদের মধ্যে যারা ওয়াকিবহাল, তারা জানেন যে এই গরমকালটায় আমাদের ব্লাড ব্যাংক (অধুনা ব্লাড সেন্টার) গুলোতে রক্তের খুব সংকট দেখা যায়।
কর্মজীবনের গোটাটাই তো জনস্বাস্থ্যের কাজে কাটালাম তাই এই সংকট মোকাবিলার পদ্ধতি সম্পর্কে কমবেশি জানি। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের কাছেও বিশেষ রক্তদান শিবিরের আয়োজন করার জন্য আবেদন করতে হয়। এত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে পুলিশ মহলে এই আবেদন জানিয়ে কখনও বিফল হই নি। অথচ এই পুলিশ কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা কিন্তু শোচনীয়। ক্রমাগত ডিউটির চাপে ও সমাজবিরোধীদের মোকাবিলার চাপে এদের অধিকাংশই ওয়ার্ক রিলেটেড স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এ আক্রান্ত। যার ফল স্বরূপ আমরা এদের মধ্যে দেখতে পাই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, সাবস্ট্যান্স এবিউজ (মূলত ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি) ডিপ্রেশন, এনগযাইটি ইত্যাদি শারীরিক ও মানসিক রোগের প্রাদুর্ভাব। যত নিচুতলার কর্মী, তত বেশি রোগ। ট্রাফিকদের ক্ষেত্রে হিট রিলেটেড ইলনেস, সিওপিডি (সারাদিন ফসিল ফুয়েল এর ধোঁয়ায় দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়) দেশের আরক্ষা বাহিনী যারা আমাদের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার কাজে নিযুক্ত তাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার দায়িত্বে নতুন সরকার আশারাখি যত্নবান হবেন।
সঙ্গের ছবিটি আজ থেকে ছয় বছর আগে কোভিড কালে কাঁথি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক এর আহ্বানে সাড়া দেওয়া পুলিশ কর্মীদের রক্তদান শিবির। প্রধান উদ্যোক্তা কাঁথির তৎকালীন এসডিপিও অভিষেক চক্রবর্তী। রক্তদানরত কর্মী তিনিই। দাবাং পুলিশ অফিসার কেবল পুষ্পা জাতীয় অপরাধী এর পেছনেই সময় খরচ করেন না। মাঝে মধ্যে মানুষের পাশে থাকতে তারা রক্তদান শিবিরের ক্যাম্প খাটেই শুয়ে পড়েন হাতে পিস্তলের বদলে রবার এর বল নিয়ে।
রিল লাইফ নয়, রিয়েল লাইফ এর এইসব হিরোদের সুস্বাস্থ্যের জন্য তৈরি হোক নিবিড় পরিকল্পনা।











