দেখতে দেখতে আমাদের স্বাধীনতা আশি বছর বয়সে পা দিয়ে ফেলল।
আশেপাশে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হচ্ছে। গান বাজছে – মুক্তির মন্দির সোপানতলে/ কত প্রাণ হলো বলিদান/ লেখা আছে অশ্রুজলে… প্রৌঢ়ত্বের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, এসব গান শুনলে, মাইরি বলছি, এখনও গায়ে কাঁটা দেয়… চোখের কোণ ভিজে যায়, মুছে নিই অন্যমনস্কভাবে… যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে… তাঁরা কি ফিরিবে আজ সুপ্রভাতে…
কিন্তু তাঁরা ফিরবেন কোথায়? সুপ্রভাত-ই বা কোনখানে?
নাহ্! স্বাধীনতা-দিবসে তিক্ত কথা বলব না।
কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালত যখন এক মহিলা-রাজনীতিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা-জনিত উৎকণ্ঠার উত্তরে ঠাট্টা করে জানান যে স্বাধীনতা-সংগ্রামীরা দেশের জন্য যদি বুকে বুলেট খেতে পেরে থাকেন, তাহলে এখনকার রাজনীতিকরা ধেয়ে আসা সামান্য ডিমের মুখোমুখি হতে পরাঙ্মুখ কেন – তখন…
তো সর্বোচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ বিচারপতি যখন এমন কথা বলেছেন, তিনি নিশ্চয়ই দেশ ও দশের পক্ষে ভালো কিছু ভেবেই বলেছেন। আমি সামান্য নাগরিক, অতশত বুঝি না। তবে, আমার কাছে, এমন মন্তব্যে এই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচারপতি যিনি, তিনি স্বাধীনতা-আন্দোলনের প্রতি, সেই আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠতে পারেননি। এবং আইনের শাসন তথা নাগরিকের নিরাপত্তা বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের যে সাংবিধানিক দায়, সে দায়িত্ববোধ বিষয়েও ভদ্রলোক ততখানি যত্নশীল নন।
যাক গে, আবারও বলি, স্বাধীনতা দিবসে তিক্ত কথা বলতে চাই না একেবারেই।
কিন্তু খটকা লাগে, দেশের স্বাধীনতা আনতে গিয়ে যেসব তরুণ অরুণ নিতান্ত অসময়ে অস্তাচলে গিয়েছিলেন – বন্দীশালার ভাঙা শিকলে এখনও যাঁদের রক্তের দাগ লেগে রয়েছে – তাঁরা আচমকা দেশে ফিরলে – অর্থাৎ স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমিকে বর্তমান দশায় দেখলে – ঠিক কী বলতেন?
স্বাধীন দেশে গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভ দেখে তাঁরা কী বলতেন? দেশের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি থেকে আমলা-পুলিশ থেকে আদালত-বিচারব্যবস্থা – এবং গণমাধ্যম – কী বলতেন তাঁরা? এমন আশ্চর্য সুপ্রভাত দেখে তাঁরা কি বিহ্বল হয়ে পড়তেন?
মাইকে গান ভেসে আসছে…
স্রোতস্বিনী, কেন নাহি বও
তুমি নিশ্চয়ই জাহ্নবী নও
তাহলে প্রেরণা দাও না কেন…
হায়! বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার এই এত বছর ধরে শোনার পরেও যে “গণতন্ত্র” নিঃশব্দে ও নীরবে বয়ে চলতে পারে… চালু থাকতে পারে…
বা হুল্লোড়ে মজে থাকতে পারে…
যাক গে! স্বাধীনতা দিবস আনন্দের দিন। সুতরাং, এসব তিক্ত কথা বাদ দিন।
ইয়ে দুনিয়া এক দুলহন
দুলহন কে মাথে কি বিন্দিয়া
ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া
আই লাভ মাই ইন্ডিয়া…
তো যেটা বলার, হাল্কা করে গেয়ে নিন। বেটার হয় একটু নেচে নিতে পারলে। ব্যাস! হ্যাভ ফান অ্যান্ড এনজয়!











