বাম আন্দোলনের পশ্চাপসরণ: ১৯২০ এর অক্টোবরে সোভিয়েত রাশিয়ার তাসখন্দ এ মানবেন্দ্রনাথ রায়, ইভেলিন ট্রেন্ট রায়, অবনী মুখার্জি দের প্রতিষ্ঠিত ইণ্ডিয়ান কমিউনিষ্ট পার্টি (আই সি পি) কে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সূচনা হিসাবে সিপিআইএম দল মান্যতা দিলেও সিপিআই ১৯২৫ এর ডিসেম্বরে কানপুরে অনুষ্ঠিত সত্যভক্ত আহুত কনভেনশন টিকেই দলের সূচনা হিসাবে মান্যতা দেয়। সেই হিসাবে সিপিআই এর এটি জন্ম শতবর্ষ। একদা যে দলের দেশ ও দশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, উচ্চশিক্ষিত, সর্বস্বত্যাগী সদস্য ও কর্মীরা ঔপনিবেশিকতা বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে সামিল হয়ে কারারুদ্ধ হয়েছেন, ফাঁসির মঞ্চে জীবন দিয়েছেন; তেভাগা তেলেঙ্গানা কায়ুর পুন্নপ্রা – ভায়লার … একের পর এক জঙ্গী গণকৃষক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন; শোলাপুর, বোম্বাই, কলকাতা, মাদ্রাজ, গুনটুর, কানপুর প্রভৃতি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সংগঠিত করেছেন; মণিপুর থেকে পেশোয়ার গণ আন্দোলনের উদ্গাতা ছিলেন; আন্তর্জাতিক ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সামিল হয়েছেন; যাদের সাংস্কৃতিক সংগঠন আই পি টি এ ভারতীয় শিল্প সংস্কৃতির জগতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে; যাদের ভয়ে ব্রিটিশ সরকার তিনটি ষড়যন্ত্র মামলায় নেতাদের কারারুদ্ধ করেছে ও পার্টি টিকেই ১৯৩৪ – ‘ ৪২ অবধি নিষিদ্ধ করে রেখেছিল; ১৯৪৮ এ যাদের নিষিদ্ধ করেও নেহরু সরকার সংসদে ও সংসদের বাইরে গতিরোধ করতে পারেননি। …
তাঁরাই ক্রমাগত ভুল রাজনৈতিক লাইন, কৌশল, কর্মসূচি, অনুশীলন নিয়ে ও চালিয়ে, নেতাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে পার্টির মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্বে চারিত করে এবং অবশ্যই ভারতীয় শাসক শ্রেণীর সঙ্গে সমঝোতা করে, রাজ্য ও কেন্দ্র মন্ত্রীসভায় থেকে ব্যর্থ প্রশাসন চালিয়ে এবং সাংঠনিক উদ্যমহীনতায় ও নির্বাচনে বারংবার পরাজিত হয়ে বর্তমানে এক জনবিচ্ছিন্ন জনবিশ্রুত প্রান্তিক নিষ্ক্রিয় ও ক্ষুদ্র দল। যাঁদের শতবর্ষ কেউ মনে রাখেননি। প্রচলিত সংবাদ মাধ্যমও তাঁদের নিয়ে একেবারেই উৎসাহিত নয়। সেই সঙ্গে তাঁদের একাধারে সহযোগী ও অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী তুলনামূলক বৃহৎ ও সক্রিয় দল সিপিআইএম বৃহৎ পুঁজি ও সম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে কেবল কেরলে ক্ষমতায় টিকে আছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় তাদের দীর্ঘ শাসনে প্রচুর অক্ষমতা, দমন পীড়ন, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, ঔদ্ধত্য প্রভৃতি পরিলক্ষিত হয়েছে। অপর বাম দল সিপিআইএমএল লিবারেশন একদা তাঁদের শ্রেণী শত্রু যাদব ডাকাতদের দলের সঙ্গে বোঝাপড়া করে মধ্য বিহারে তাঁদের কাজের অঞ্চলগুলিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অপর শক্তিশালী দল সিপিআই মাওবাদী, যাঁরা খুন – লোমহর্ষক হিংসা ঘটিয়ে শিরোনামে এসেছিল, রাষ্ট্রের সঙ্গে সশস্ত্র যুদ্ধে ক্রমে কোণঠাসা হয়ে শেষমেষ দণ্ডকারণ্যের অবুঝমাড়ে তাঁদের প্রধান ঘাঁটিটি হারিয়ে এবং সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজু সহ বেশীরভাগ নেতাকে হারিয়ে এখন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের করুণায় টিকে থাকতে চাইছে।
আর.এস.এস. এর সাফল্য: অপরদিকে জন্মলগ্ন থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে দূরে থাকা, হিন্দু প্রতিরোধের নামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় যুক্ত থাকা, অত্যাচারী শোষণকারী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের সহযোগিতা করা, ১৯৩৭ এ বিনায়ক দামোদর সাভারকার সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে হিন্দু মহাসভার নেতৃত্বে চলে আসার পর (১৯২৪ থেকে ১৯৩৭ অবধি রত্নগিরি জেলার মধ্যে আবদ্ধ থাকার সময়েও সাভারকার ছিলেন আর এস এস এর তাত্ত্বিক গুরু এবং তাঁর আশীর্বাদ নিয়েই আর এস এস প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেয়ার থেকে নাথুরাম গডসে সমস্ত কাজকর্ম করতেন) স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করা, ব্রিটিশের হয়ে যুদ্ধ করা ও চর বৃত্তি, বাংলা সিন্ধ ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগ এর সঙ্গে জনবিরোধী সরকার চালানো, দেশ ভাগের সমর্থন, গান্ধী হত্যা থেকে বাবরি মসজিদ ধ্বংস প্রভৃতি কাজকর্ম এবং স্বাধীনতার পর ভারত সরকার দ্বারা তিনবার নিষিদ্ধ আর এস এস আজ হয়ে গেছে ভারত বিধাতা।
বিগত ১০০ বছরে ‘ভারতীয় সমাজকে সঙ্ঘের আওতায় নিয়ে আসা’ – তাঁদের অভিষ্ট লক্ষ্যে তাঁরা নিঃশব্দে ধারাবাহিক কষ্টকর অনুশীলনে এবং প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির, বিরোধী পক্ষের হাতে প্রচুর কর্মীকে হারানোর মাধ্যমে, পৌঁছতে অনেকাংশে সক্ষম হয়েছে। কেন্দ্রে ও বিভিন্ন রাজ্যে তাঁদের রাজনৈতিক শাখা বিজেপির মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে ও বজায় রাখতে পেরেছে। শত শত গণ সংগঠনের মাধ্যমে ধৈর্যশীল ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের হিন্দুত্ব র ধারণা সমাজের এক বড় অংশের মধ্যে প্রবাহিত করে দিতে পেরেছে; কাশ্মীর লাদাখ এবং দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর পূর্বের কিছু জায়গা ছাড়া ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে পেরেছে; হাজার হাজার নিজ পরিচালিত স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা ও চালানোর মাধ্যমে নিজস্ব মতাদর্শগত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে; বনবাসী কল্যাণ আশ্রম প্রভৃতির মাধ্যমে অবহেলিত জনজাতি অঞ্চলে পরিচর্যার মাধ্যমে জনজাতিদের মধ্যে দৃঢ় ভিত্তি অর্জন করতে পেরেছে; ব্রাহ্মণ্যবাদী আর্যবাদী ফ্যাসিবাদ ও জিয়নবাদের সমর্থক পিতৃতান্ত্রিক দল হলেও দক্ষ সামাজিক ইঞ্জিনিয়ারিং চালিয়ে দলিত ও পশ্চাদপদ জাত গুলির মধ্যে গণভিত্তি গড়ে তুলতে পেরেছে; বহুধা বিভক্ত হিন্দু সমাজ ও হিন্দু সংগঠনগুলিকে প্রবল প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংঘ পরিবারের অধীনে ও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পেরেছে; দেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ নিবেদিতপ্রাণ স্বয়ংসেবক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে; বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই আই টি, সামরিক বাহিনী থেকে আমলাতন্ত্র, আদালত থেকে আইনসভা, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে নীতি নির্ধারণ সর্বত্র গভীর প্রভাব বিস্তার করতে সার্থক হয়েছে।
এই বিপুল সাফল্যের জন্য তাঁদের নেতৃত্বের বিচক্ষণতা, ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতিকে বুঝতে পারা, সঠিক কৌশল, উপযুক্ত কর্মসূচি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সুশৃঙ্খল কর্মীদের প্রবল পরিশ্রমের ভূমিকা যেমন রয়েছে সেরকমই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমাজতন্ত্রের পতন ও দক্ষিণপন্থী জাত্যাভিমানী পুঁজিবাদের জয়জয়কার, দেশের ক্ষেত্রে জাতীয় কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিগুলির ব্যর্থতা, নির্দিষ্টভাবে ৭০ দশকে ইন্দিরা কংগ্রেসের স্বৈরতন্ত্রী আচরণ ও জনবিরোধী ‘জরুরি অবস্থা’ জারি (এই পর্বেই আর এস এস তার সর্বাধিক সম্প্রসারণ ঘটায় ও সমাজজীবনে জনপ্রিয়তা লাভ করে) এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে দেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামি মৌলবাদী উগ্রতা হিংসা ও আগ্রাসনের ফলে জনমানসে আতঙ্ক সৃষ্টি – সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে।
আর.এস.এস. এর প্রতিষ্ঠা ও বিস্তার: ১৮৫৭ এর প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামে হিন্দু – মুসলিম যৌথ ভারতীয় শক্তি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ায় ব্রিটিশ শাসকরা এই ঐক্য ভেঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াতে শুরু করে। একদিকে আলিগড়ের সৈয়দ আহমেদ খান, মহামেডান জামিনদার এসোসিয়েশন, মুসলিম লীগ (১৯০৬) ইত্যাদি, অন্যদিকে আর্য সমাজ(১৮৭৫), জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫), হিন্দু মহাসভা (১৯১৫) ইত্যাদি র মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে হিন্দু – মুসলমান দাঙ্গার সৃষ্টি করা হয়।
জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যেই হিন্দুত্ববাদী ধারা বহমান ছিল যার চরম প্রকাশ ছিল বাল গঙ্গাধর তিলকের মধ্যে। লোকমান্য তিলকের মন্ত্র শিষ্য ছিলেন বিশিষ্ট হিন্দুত্ববাদী নেতা ও সেন্ট্রাল প্রভিন্স এর কংগ্রেস সম্পাদক ডাঃ শিবরাম বালকৃষ্ণ মুঞ্জে। আবার মুঞ্জের মন্ত্রশিষ্য ছিলেন আর এস এস প্রতিষ্ঠাতা হেডগেয়ার। হেডগেয়ার (ডাক্তারজী) স্বাধীনতা সংগ্রামে এক বছর জেল খাটেন, কলকাতায় সর্ট কোর্স ডাক্তারি পড়ার সময় অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে নাগপুরে ফিরে চিকিৎসা ও সামাজিক কাজে যুক্ত থাকেন। কংগ্রেসে মহাত্মা গান্ধীর মত ও পদ্ধতি নিয়ে তাঁর মত অনেকের বিরোধিতা ছিল। মুসলিমদের খিলাফত আন্দোলনে গান্ধীর কংগ্রেসকে নিয়ে যোগদান তাঁদের বিরূপ করে। ১৯২০ তে তিলকের মৃত্যুর পর মুঞ্জে ও তিনি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসেন। ইতিমধ্যে ব্রিটিশদের চারবার ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন জানিয়ে বিনায়ক দামোদর আন্দামান সেলুলার জেল থেকে ১৯২১ এ মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলে স্থানান্তরিত হন এবং ১৯২২ এ লেখেন ‘এসেনশিয়াল অফ হিন্দুইজম’। সেটি পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে হেডগেয়ার জেলে সাভারকারের সঙ্গে দেখা করে হিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। হিন্দু রাষ্ট্রের স্বপ্ন থাকলেও সেই সময় হিন্দু ও ভারতীয় সংস্কৃতি রক্ষা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।
১৯২৫ এর সেপ্টেম্বরে বিজয়া দশমীর দিন নাগপুরে হেডগেয়ার, বি এস মুঞ্জে, গণেশ দামোদর সাভারকার (বিনায়ক সাভারকারের বড় দাদা), এল ভি পরাঞ্জপে ও বি বি থোলে পাঁচজনে মিলে ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আর এস এস)’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনের কিছুটা বৃদ্ধি হলে পি বি দানি, এ জোশি, এম মুঞ্জে, পাটুলকার, এম মূলে, বি আপতে, এম এস গোলওয়ালকার, বালাসাহেব দেওরস, মধুকর ভাগবত (মোহন ভাগবতের পিতা), বলরাজ মাধোক, প্রেমরাজ ডোগরা, একনাথ রানাডে প্রমুখ প্রচারক রা সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। বি এস মুঞ্জে ১৯২৭ এ হিন্দু মহাসভার সভাপতি হওয়ায় সংঘ ও সভা ঘনিষ্ঠ হয় এবং ১৯৩৭ এ বিনায়ক সাভারকার হিন্দু মহাসভার সভাপতি ও ১৯৪০ এ মাধব সদাশিবরাও গোলওয়ালকার (গুরুজী) আর এস এস এর প্রধান (সর সংঘ চালক) নির্বাচিত হয়ে জঙ্গী হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলিকে একত্রিত করে হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের কর্মসূচি জোরদার করেন।
আর.এস.এস. এর ধাক্কা ও অগ্রগতি: গান্ধী হত্যার পর ১৯৪৮ – ‘ ৪৯ আর এস এস নিষিদ্ধ হয়। নাথুরাম গডসে ও নারায়ণ আপ্টের ফাঁসি হয়। বিনায়ক সাভারকার ,গোলওয়ালকার সহ অনেক নেতা কর্মী কারাবন্দী হন, অনেকে আত্মগোপন করেন। সংগঠন ধাক্কা খায়। পরে ১৯৫১ থেকে হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সভাপতি, বাংলা সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী, ভারতের প্রথম জাতীয় সরকারের মন্ত্রী, বিশিষ্ট সাংসদ ও শিক্ষাবিদ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও হিন্দুত্ববাদী তাত্বিক দীনদয়াল উপাধ্যায় কে সামনে রেখে ‘ভারতীয় জনসংঘ‘ গঠন করে আর এস এস নতুন করে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে। শ্যামাপ্রসাদের নেতৃত্বে এবং আর এস এসের সহযোগিতায় উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম ভারতে এবং সংসদে জনসঙ্ঘ দল স্থান করে নেয়। ১৯৫৩ তে কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের রহস্যজনক মৃত্যুর পর পুনরায় ধাক্কা খেলেও গুরুজী গোলওয়ালকারের ৩০ বছরের নেতৃত্বে আর এস এসের দেশ বিদেশে বিপুল সম্প্রসারণ ঘটে এবং জাত ব্যবস্থা ও মনু স্মৃতি সমর্থন সহ ‘বাঞ্চ অফ থটস’ সহ তাঁর মতাদর্শ ও গ্রন্থাবলী ভারতীয় সমাজের একাংশকে গ্রাস করে। কিন্তু তখনও পর্যন্ত ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেস, রাম মোহন লোহিয়া প্রমুখের অনুগামী সমাজবাদী এবং কমিউনিস্ট দের প্রভাব ও দাপট ছিল অনেক বেশি। তাই গত শতাব্দীর ৭০ দশকের শুরু অবধি জনসঙ্ঘ সেভাবে নির্বাচনী সাফল্য পায়নি (লোকসভা ভোটে ১৯৫১ তে তিনটি, ’৫৭ তে চারটি, ’৬২ তে ১৪ টি, ’৬৭ তে ৩৫ টি এবং ’৭১ এ ২২ টি আসন)।
’৭০ দশকের প্রথম পর্বে ইন্দিরা গান্ধীর স্বৈরশাসন ও জরুরি অবস্থা জারি এবং তার বিরুদ্ধে জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে সমস্ত কংগ্রেস বিরোধী এবং কংগ্রেসের মধ্যে ইন্দিরা বিরোধী শক্তির পরিচালনায় সারা দেশ ব্যাপী গণ আন্দোলনে তদানীন্তন সরসংঘ চালক মধুকর দত্তাত্রেয় দেওরসের নেতৃত্বে আর এস এস ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইন্দিরা স্বৈরতন্ত্র বিরোধী দেশব্যাপী উত্তাল ও জনপ্রিয় গণ আন্দোলনে আর এস এস ও জনসঙ্ঘের নেতানেত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি, অটল বিহারী বাজপেয়ী, নানাজী দেশ্মুখ, রাজমাতা বিজয় রাজে সিন্ধিয়া, মুরলি মনোহর জোশি, সিকান্দার ভকত, কে আর মালকানি, বলরাম দাস ট্যান্ডন, সতীশ আগরওয়াল, সুন্দর সিং ভান্ডারি, বিজয় মালহোত্রা, হরিপদ ভারতী প্রমুখ প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। আর এস এস জনসঙ্ঘ কে ১৯৭৭ এ নব গঠিত ‘জনতা পার্টি’ তে মিশিয়ে দেয়। জনতা দল ১৯৭৭ এ ইন্দিরা কংগ্রেস কে পরাজিত করে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু অন্তরদ্বন্দ্বে ১৯৭৯ তে পতন হলে আর এস এস তার শক্তিকে সংহত করে ১৯৮০ তে ‘ভারতীয় জনতা পার্টি (বি জে পি)’ গঠন করে। ইতিমধ্যে অবশ্য জেলে থাকা অবস্থায় দেওরস ইন্দিরা গান্ধীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার চিঠি পাঠিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে এক গোপন বোঝাপড়া তৈরি করে ফেলেছেন। ১৯৮৪ তে শিখ সন্ত্রাসবাদীদের হাতে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর আর এস এস কংগ্রেসকে সমর্থন করে। আবার ১৯৭৫ – ’৭৭ জরুরি অবস্থা বিরোধী আন্দোলনে এবং ১৯৮৯ – ’৯০ এ জনতা দল প্রার্থী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ কে প্রধানমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে আর এস এস বামেদের সঙ্গেও যৌথ আন্দোলন করে।
জরুরি অবস্থা পরবর্তী জনপ্রিয়তা ও বর্ধিত সাংগঠনিক শক্তির উপর ভর করে, গৈরিক ভাগোয়া ঝান্ডা ও হিন্দু রাষ্ট্রের মূল দাবিটি একটু পিছনে রেখে বিড়লা – টাটা পরবর্তী আম্বানি প্রমুখ বৃহৎ পুঁজি, বিদেশী কর্পোরেট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোঝাপড়া করে আর এস এস বিজেপির মাধ্যমে কেন্দ্রে ক্ষমতা দখলের অভিযানে নামে। ১৯৮৯ থেকে সঙ্ঘ পরিবারের তরফ থেকে আদবানির নেতৃত্বে রাম জন্মভূমি আন্দোলনকে তীব্র করা, ১৯৯৩ তে বাবরি মসজিদ ধংস, পরবর্তী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ভারতীয় সমাজের তাদের আকাঙ্ক্ষিত সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটায় এবং ভোটের বাক্সতে তার প্রভাব পড়ে। এর ফলঃ (১) সংসদীয় নির্বাচনে বিজেপির অগ্রগতি (১৯৮৪ – দুটি আসন, ’৮৯ – ৮৫, ‘৯১ – ১২০, ’৯৬ – ১৬১, ‘৯৮ – ১৮২, ’৯৯ – ১৮২, ২০০৪ – ১৩৮, ২০০৯ – ১১৬, ২০১৪ – ২৮২ এবং ২০১৯ – ৩০৩) এবং (২) এর সঙ্গে অন্যান্য কারণ এবং বাজপেয়ী ও নরেন্দ্র দামোদর মোদীর নেতৃগুণ বিজেপিকে কেন্দ্রের ক্ষমতায় নিয়ে আসে (১৯৯৬, ১৯৯৮ – ’৯৯, ১৯৯৯ – ২০০৪, ২০১৪ – ’১৯, ২০১৯ – ’২৪, ২০২৪ – )। বর্তমানে লোক সভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ২৪০ (এন ডি এ ২৯৩) / ৫৪২, রাজ্য সভায় ১০২ / ২৪৫, দেশের বিধানসভা গুলিতে ১৬৫৬ / ৪১২৬ এবং দেশের ২৮ টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মধ্যে ২০ টিতে বিজেপি ক্ষমতায়।
অন্যদলগুলি এতেই সন্তুষ্ট থাকত। আর এস এস – র সঙ্গে বাম ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির এখানে এক মৌলিক তত্ত্বগত ধারণার Conceptual) পার্থক্য আছে। বাম ও অন্যরা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল কেই একমাত্র লক্ষ্য মনে করেন। যেটি ঘটলেই আর সব কিছু হয়ে যাবে। বাস্তবে সোভিয়েত রাশিয়া থেকে পশ্চিমবঙ্গ কোথাও তা ঘটেনি, বরং সংগঠনে পচন ধরে গেছিল। আবার তাঁরা রাজনৈতিক প্রকরণ হিসাবে মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ, ভোট কিংবা অন্তর্ঘাত, হিংসা, শ্রেণী শত্রু হত্যার নামে গরীব মানুষ, নিচু স্তরের পুলিশ কর্মী, অন্য বাম দলের কর্মী হত্যা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ইত্যাদিকেই মনে করে। আর এস এস – র ভাবনায় মূল হল সমাজ। রাজনীতি তার একটি অংশমাত্র। তাই তাদের প্রচারকরা বলে থাকেন কংগ্রেস বা অন্য কোন দল ক্ষমতায় থাকলে তাদের কোন অসুবিধা নেই। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ থেকে তৃণমূল জমানায় আর এস এস – র প্রবল বৃদ্ধি সেটাই প্রমাণ করে।
গত শতাব্দীর ’৮০ – র দশক থেকে আর এস এস একদিকে যেমন বিজেপির মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের দিকে এগিয়েছে, অন্যদিকে শত শত গণ সংগঠনের মাধ্যমে তার হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ ভারতীয় সমাজে ছড়িয়ে দিয়েছে। আর এস এস – র অসংখ্য সংগঠনের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নামঃ বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP), বজরং দল, রাষ্ট্রীয় সেবিকা সমিতি, মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ (MRM), রাষ্ট্রীয় শিখ সঙ্গত, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (AVBP), বিদ্যা ভারতী, একলব্য বিদ্যা ফাউন্ডেশন, সংস্কৃত ভারতী, ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ (BMS), ভারতীয় কিষাণ সঙ্ঘ (BKS), বনবাসী কল্যাণ আশ্রম, সেবা ভারতী, বিবেকানন্দ কেন্দ্র, স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ, বিবেকানন্দ ইনটারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন, ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন প্রমুখ। এছাড়াও বিদেশে যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইউরোপীয়, পূর্ব আফ্রিকার ও দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে অনাবাসী ভারতীয়দের মধ্যে আর এস এস – র শক্তিশালী সংগঠন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন। সঙ্ঘ পরিবার সদস্য সংখ্যা দেখিয়ে দাবি করে যে বিজেপি এবং বিএমএস যথাক্রমে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠন।
বামদের সঙ্গে আরেকটি মৌলিক পার্থক্য সংগঠনগতভাবে বামেরা মার্ক্সবাদ – লেনিনবাদ – মাও সে তুং মুলত এই বিদেশাগত দর্শনতত্বে বিশ্বাসী, এগুলির ভারতীয়করণ কিংবা ভারতীয় মানবতাবাদী দর্শনগুলি নিয়ে আগ্রহী নন, যদিও তাঁদের বহু মুল্যবান নেতা ও কর্মীরা শ্রমজীবী মানুষদের সঙ্গে সংপৃক্ত ছিলেন। সি পি আই প্রথম দিকে গ্রেট ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং পরে স্তালিনের সময় থেকে রুশ কমিউনিস্ট পার্টি র প্রভাবে চালিত ছিল। সি পি আই এম এল চিনের চেয়ারম্যানকে নিজেদের চেয়ারম্যান আখ্যা দিয়েছিল। বরং জাতীয়তাবাদী গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, আব্দুল গফফুর খান; সরবমঙ্গলবাদী রবীন্দ্রনাথ; সন্সকারবাদী নারায়ন গুরু, জ্যোতিবা ফুলে, বিবেকানন্দ; দলিত নেতা আম্বেদকার; দ্রাবিড় নেতা পেরিয়ার; সমাজবাদী লোহিয়া; দেশপ্রেমিক সুভাষ চন্দ্র প্রমুখের চিন্তা ও কর্মকাণ্ড অনেক বেশি ভারতীয় সমাজের সঙ্গে সংপৃক্ত ছিল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় গোত্রের ব্যক্তি ও সংগঠন গুলির অনুপস্থিতিতে এবং পরবর্তী কংগ্রেস নেতা সোনিয়া গান্ধী – রাহুল গান্ধী দের এই বিষয়ে কোন ধারণা না থাকায় আর এস এস ভারতীয় দর্শন চিন্তার অমূল্য অবদান – আজীবক, পাশুপাত, চার্বাক, প্রাচীন বৈদিক, জৈন, বৌদ্ধ, ভক্তি প্রমুখ দর্শনগুলি বাদ দিয়ে কেবলমাত্র ব্রহ্মসূত্র, মনুস্মৃতি প্রমুখ নির্ভর ব্রাহ্মন্যবাদ ও বিকৃত ইতিহাসকে ভারতীয় দর্শন ও হিন্দুত্ববাদ বলে চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।
অতীতে কিছু অধ্যয়ন চক্র বা ক্যাডার প্রশিক্ষণ শিবির সংগঠিত করলেও বামেদের ধারণায় ব্যক্তি মানুষের বিকাশের স্থান নেই, যদিও ভারতীয় বাম আন্দোলনের সূচনাকারী এবং কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের নেতা মানবেন্দ্র রায় পরিণত বয়সে উপলব্ধি করেন যে মানুষ না গড়তে পারলে (Radical Humanism) বৈপ্লবিক আয়োজন সফল হবে না। বিপরীতে আর এস এস মানুষ গড়ার উপর জোর দেয়। ক্যডারদের নীতি শৃঙ্খলতা চরিত্র গঠনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
বিগত ১০০ বছরে আর এস এস নেতৃত্ব বামদের তুলনায় তার গণ সংগঠন ও কর্মীদের উপর অনেক বেশি আস্থা দেখাতে পেরেছেন। কমিউনিস্ট দলগুলির মত কোন গণসংগঠন বা কর্মী জনপ্রিয়তা পেলেই তাকে ছেঁটে ফেলেননি। আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মাঝেমাঝে উদয় হলেও অনেক বিচক্ষণতার সঙ্গে সেগুলি মোকাবিলা করেছেন। কমিউনিস্ট দলগুলির মত উলম্ব ভাগ, দল টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া, পারস্পরিক আক্রমণের রাস্তায় হাঁটেন নি। দেখিয়েছেন ধৈর্য ও সংযম। আর এস এস কে সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিচয় দিয়ে রাজনীতিতে নামতে দেননি। হেডগেয়ার আর এস এস থেকে সাময়িক বেরিয়ে এসে ১৯৩০ এ ব্রিটিশ বিরোধী অরণ্য সত্যাগ্রহে নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণ করেন। এই মুহূর্তে আর এস এস বিপুল ক্ষমতা ভোগ করলেও তাদের শত বর্ষ অনুষ্ঠান নাগপুর, দিল্লি বিভিন্ন জায়গায় হলেও, সেগুলি ছিল নিচু তারে বাঁধা। নাগপুরের মাহাল অঞ্চলে আর এস এস – র সদর দপ্তর ডাঃ হেডগেয়ার ভবন থাকলেও নয়াদিল্লির পাহাড়গঞ্জ ও কারোলবাগের মধ্যে ঝান্ডেয়ালান এ ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার একর জমিতে তিনটি ১২ তলার বহুতল সহ কার্যকরী প্রধান কেন্দ্র ‘কেশভ কুঞ্জ’ নির্মাণ সম্পূর্ণ করেছে তারা।
আর.এস.এস. বর্তমানেঃ আর এস এস এর বিবর্তন ও উত্থান, নরেন্দ্র মোদীর জীবনী এবং বাবরি মসজিদ বিতর্ক নিয়ে গবেষণাকারী সাংবাদিক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি ‘ফ্রন্টলাইন’ পত্রিকায় যে প্রবন্ধ লিখেছেন তার থেকে একটু উল্লেখ করলাম।
“ What makes the RSS such an important organisation despite none of its current leaders holding any public office? The answer lies in a few unchallengeable facts. This 100 – year – old organisation has no global parrallel where a political party is bound by a metaphorical umbilical cord with an ideological fountainhead to which it looks up to; there is no other political “power couple” globally like the RSS and the BJP, wherein the former does not officially wield state power, yet commands enormous influence over formulation of state policies; and finally, there is no other organisation elsewhere that presides over a parivar or family, effectively a complex web of affiliated organisations in every conceivable field and sector – from education to law, culture, religion, consumer rights, literature, sports, and, of course, politics – making it difficult to navigate even a single day or any district across the country without being accosted by either a unit or individual wedded to the beliefs of the RSS, the all encompassing ideology of Hindutva.”
আর এস এস নেতৃত্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মন্তব্য করেছেনঃ
“Consistency and resilience are virtues of the RSS and have played a major role in ensuring its permanence in polity. There were numerous instances of the Jana Sangh initially and the BJP from 1980 onwards lying dormant for fairly long periods. But the RSS always continued to plough along,
Often, there were occasions too, when the RSS displayed absolute cold and calculated behaviour towards even its own political progeny. For instance, the discreet support it gave to the Congress in the 1984 Lok Sabha election because RSS leaders felt that the nation required bolstering following Indira Gandhi’s assassination and that the Congress was the only party capable of preventing possible fragmentation of the nation.
Even on occasions when no such existential threat loomed large over the nation, the RSS has taught the BJP a lesson for deviating from the essential principles of the Sangh Parivar. During the 2004 election and the one in 2024, for different reasons, the RSS not so inconspicuously maintained aloofness during electoral campaigning and its foot soldiers showed little enthusiasm in soliciting votes for BJP candidates. On both occasions the party suffered. “
স্বাধীনতার আগে থেকেই কংগ্রেসের ঘাঁটি গুজরাতে কংগ্রেসকে একেবারে ধরাশায়ী করে দিয়ে ১৪ বছর মুখ্যমন্ত্রীত্ব করে কেন্দ্রের ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকা একদা আড়াই দশকের সঙ্ঘ প্রচারক নরেন্দ্র মোদীকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি কিভাবে এই কৌশল রপ্ত করেছিলেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন সবই সঙ্ঘের থেকে শেখা।
আর.এস.এস. কোন দিকে? অতীতে কোন সঙ্ঘ সরচালক কে দেখা যায়নি এভাবে সামনে আসতে। সংগঠনের দ্বিতীয় প্রধান (সরকারিয়াভ) দত্তাত্রেয় হোসাবালে র উপর সংগঠনের দায়িত্ব ন্যস্ত করে সরসঙ্ঘ চালক মোহন ভাগবত যেভাবে দেশ, সরকার এবং সমাজের নীতি সংস্কৃতি অনুশীলন নিয়ে বক্তব্য পেশ করছেন, রাম মন্দির উদ্বোধনে গর্ভগৃহে মোদী, যোগী আর আনন্দবেনের সঙ্গে উপস্থিত থাকলেন কিংবা অপারেশন সিঁদুরের সময় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাস ভবনে গিয়ে গোপন বৈঠক করলেন তাতে ওয়াকিবহাল মহল নতুন দিক নির্দেশ পাচ্ছেন। আর এস এস এখন প্রয়োজনহীন নরেন্দ্র মোদীর এই অহং ভেঙ্গে মোদীকে নাগপুরে যেতে এবং নিয়মিত আর এস এস – র প্রশংসা করতে বাধ্য করেছেন। আবার সঙ্ঘ পরিবারের নীতি ৭৫ বছর পূর্ণ হলে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়ে মার্গ দর্শকের পদ গ্রহণ (বানপ্রস্থে চলে যাওয়া) নিজের এবং মোদীর ক্ষেত্রে শিথিল করে কিসের ইঙ্গিত দিলেন ভবিষ্যত সেটির উত্তর দেবে।
০৫.১০.২০২৫












খুব তথ্যভিত্তিক গুরুত্বপুর্ণ লেখা