বন্ড পোস্টিং না পাওয়ায় এবং পড়ানোর স্টুডেন্টও না পাওয়ায় খুবই মনোকষ্টে ছিলাম। কিন্তু Moumita দি আমার শেষ ক্লাসে আরো বিভিন্ন বিষয়ে ক্লাসের দাবি জানানোয় কিছুটা উৎসাহ পেয়েছি। তাই আমি আজ বিজ্ঞান বিষয় বাদ দিয়ে ইতিহাসের ডেমো ক্লাস করাবো।
লর্ড ওয়েলেসলি তাঁর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে অধীনতামূলক মিত্রতার প্রবর্তন করেন। এই নীতি অনুসারে চুক্তি স্বাক্ষরকারী রাজ্যকে নিজের খরচে একদল ইংরেজ সৈন্য পুষতে হবে। ইংরেজ ব্যতীত সমস্ত ইউরোপীয়দের রাজ্য থেকে তাড়াতে হবে। তারা নিজের ইচ্ছায় অন্য রাজ্যের সঙ্গে বৈরী বা মৈত্রী করতে পারবে না। এর পরিবর্তে ইংরেজরা সেই রাজ্যকে বহিঃশত্রু ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত থেকে রক্ষা করবে। এই নীতি দ্বারা হায়দ্রাবাদ সহ বেশ কিছু রাজ্যের ক্ষমতা গ্রাস করেন ওয়েলেসলি।
মনে করুন, এরকমই কোনো স্বৈরাচারী শক্তি তার অধীনস্থ শিক্ষকদের বললো যে তাদের কথামতো ছাত্রছাত্রীদের পাশ-ফেল করাতে হবে। তাদের কথা অনুযায়ী হাসপাতালে রোগী ভর্তি করতে হবে এবং চোর-ছ্যাঁচরদের অসুস্থতার বাহানায় ভর্তি রাখতে হবে, যাতে তাদের জেল খাটতে না হয়। এসবের বিনিময়ে সেই শক্তি শিক্ষকদের শাস্তিমূলক বদলি থেকে রক্ষা করবে। এরকম নীতিতে শিক্ষাঙ্গন চললে তা অচিরেই শ্রীহীন হয়ে পড়বে তাই নয় কি? সেই কারণেই তদানীন্তন রাজ্যগুলোও শ্রীহীন হয়ে পড়েছিল।
নিচের ছবিটা বিশেষ কারণে দেওয়া। এই হাসপাতালটিও ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ। হাসপাতালটি ব্রিটিশদের চিকিৎসার জন্যই মূলত নিয়োজিত ছিল। প্রথম ভারতীয় হিসাবে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এখানে ভর্তি হন। সেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকায় ছবিটা দিলাম। এর সাথে স্বভাবতই অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির কোনো সম্পর্ক নেই।










