৩০ শে আগস্ট ২০২৫
ইংল্যান্ডে আরনেস্ট রাদারফোর্ড এর ল্যাবে তখন রিসার্চ এসোসিয়েট নামের সব উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক এর ছড়াছড়ি। রাদারফোর্ড এদের শুধু গাইড নন, পিতাসুলভ ভালোবাসায় ঘিরে রাখতেন। তেমনই একজন ছিলেন রাশিয়ান গবেষক পিটার কাপিৎসা। ক্যাভেনডিস ল্যাবে জায়গার অভাব। পিটারের ম্যাগনেটিক ফিল্ড নিয়ে গবেষণার জন্য জায়গা চাই বলে ১৯৩০ এর গোড়ার দিকে রাদারফোর্ড অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন। ১৯৩৩ এর ফেব্রুয়ারিতে নতুন সেই মন্ড ল্যাব এর উদ্বোধন হয়।
কাপিৎসা তাঁর গুরুদেব এর অবদানকে স্বীকৃতিদানের জন্য একটা কাজের ভার দেন ভাস্কর এরিক গিলকে। ভুল হল। একটি নয় দুটি কাজ। দিন রাত এক করে ত্রিপলের তলায় ঢাকা দিয়ে দুটি পাথর খোদাই তৈরি করেন গিল। দুটিই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে ওই ল্যাব উদ্বোধনের দিনে। একটি খোদাই ছিল এক কুমিরের মূর্তি। এত কিছু থাকতে কুমির কেন, কৌতূহলী সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে রাদারফোর্ড ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে কুমির কখনো ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনের দিকে তাকায় না কেবল সামনের দিকে তাকায়। প্রকৃত বিজ্ঞানীও তাই ইত্যাদি ইত্যাদি। রাদারফোর্ড সঙ্গে এও ইঙ্গিত দেন যে তার এই প্রতিভাবান শিষ্যটির মাথায় একটু স্ক্রু ঢিলে আছে। শুনে সাংবাদিকরা মুচকি হেসেছিলেন।
ক্যাভেন্ডিস ল্যাবের লোকজনও মুখচাপা দিয়ে হেসেছিল। কারণ লর্ড রাদারফোর্ড ছাড়া বাকি সকলে জানতেন যে কাপিৎসা তাঁর গুরুকে ডাকনাম দিয়েছে কুমির সাহেব। এই গল্প এর অংশটুকু নারায়ণ স্যান্যাল মশাই তাঁর বিশ্বাসঘাতক বইটাতে স্বভাবসিদ্ধ অনবদ্য ভঙ্গিতে বলে গেছেন। যেটা বলে জাননি সেটা হল বাকি গল্পটা।
আরেকটা পাথর খোদাই বানিয়েছিলেন এরিক গিল। রাদারফোর্ড এর আবক্ষ মূর্তি। সেটা নিয়ে কেউ হাসাহাসি করেনি। সেই মূর্তি দেখে কেউ কেউ খেপে গিয়েছিল। মূর্তিতে রাদারফোর্ড সাহেবের নাকটা নাকি অত্যধিক লম্বা আর সেজন্য তাকে “জুইস” বা ইহুদি মার্কা লাগছে।
সেই সময় ইংল্যান্ডে একটু একটু করে ইহুদি বিরোধী ফ্যাসিস্ট মার্কা সেন্টিমেন্ট এর জন্ম নিচ্ছে। এই অনাবশ্যক অপ্রত্যাশিত বিতর্কে জড়িয়ে যান কপিৎসাও। তিনি চিঠি লিখে গিলকে জানান যে, ” নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এর চর্চা রেখে দিয়ে লোককে আধুনিক আর্ট কাকে বলে বোঝাচ্ছি। একজন ফটোগ্রাফার আর একজন আর্টিস্ট এর মধ্যে তফাৎ কোথায়।” গিল চিঠি লিখে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাবিশ বলে আখ্যা দেন।
বিতর্কে অবসান ঘটাতে এবার আসরে নামেন রাদারফোর্ড স্বয়ং। তাঁর বিবেচনা অনুযায়ী কেবল যে একজন দিকপাল ফিজিসিস্ট নন, সঙ্গে মর্ডান আর্ট এরও একজন সমঝদার, সেই ড্যানিশ বিজ্ঞানী নিলস বোরকে মতামত এর জন্য অনুরোধ জানান। নিজের চোখে না দেখে, স্রেফ ছবি দেখে মতামত জানাতে প্রথমদিকে একটু আপত্তি করলেও পরে নিলস বোর জানান যে, শিল্পকর্মটি এক্সেলেন্ট, থটফুল, পাওয়ারফুল। কাপিৎসা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। বলতে ভুলে গেছি, একদল বিতর্ক সৃষ্টিকারী আবার স্রেফ বিতর্কেই থেমে থাকেনি, তারা ওই ইহুদি মার্কা খোদাইটা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছিল কাপিৎসাকে।
সোচ্চার এন্টি ফ্যাসিস্ট এন্টি নাৎসি নোবেল বিজয়ী এই বিজ্ঞানী গড়ে তুলেছিলেন একাডেমিক এসিসট্যান্স কাউন্সিল। নাৎসি জার্মানি থেকে জাতিগত কারণে বিতাড়িত প্রায় হাজার খানেক স্কলারকে ইউরোপের অন্যান্য দেশে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন রাদারফোর্ড। নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এর জনক নামে খ্যাত এই বিজ্ঞানীর আজ জন্মদিন। ভালো থাকবেন অন্যায়ের সাথে আপোষ না করা “কুমির সাহেব,”।












সে তো বিজ্ঞানী মাত্রই স্ক্রূ ঢিলা কেবল আবিষ্কারের নেশায়।নইলে মূর্তি হিসাবে কুমীর কে বাছতো!!