নামটাকে ওর দিন ফিরিয়ে রাষ্ট্র আমার।
যে নাম ছিলো , দিন না ফেরত ধর্মাবতার।
ভেবে দেখুন, জন্মদিবস মৃত্যু-তারিখ,
মাঝের আয়ু’র মানুষটাকে নাম করে ঠিক,
আর কিছু নয়, সবকিছু ক্ষয় করলে সময়
স্মৃতিও যখন মেলায় সবার বিস্মৃতিতে,
নথি দলিল নাম বুকে বয় তাও নিভৃতে,
পিতার পিতা তস্য পিতা’র নাম জানানো ওই লতিকা,
মেয়েমানুষের নাম জানানোর নেয়নি ঠিকা,
মাতার মাতার তস্য মাতা’র নাম জানে খুব কমই লোকে,
গর্ভাধানের আধার ছাড়া ভাবেইনি কেউ মেয়েগুলোকে,
সেই আঁধারেই ফিরবে যে দেশ নাম না নিলে,
বর্তমানের যে মেয়ে মরে , ভাবীকে তার নামটা ভুলাই সবাই মিলে।
তার বদলে নাম দেওয়া হয় উদ্ভুটে সব,
প্রবল ভয়ে শেষ কাটিয়ে হলো যে শব,
তাকেই কিনা অভয়া বা নির্ভয়া’তে হচ্ছে ডাকা,
মাছ ঢাকা’তে বোঝাই করে যে শাক রাখা,
তাতে চেনা মেয়েটা মুছে তৈরি ভীষণ আবছা নারী,
এমন কি তার নাম করে না যেই পাড়াতে শোকের বাড়ি।
যে নামটা তার জন্ম থেকে, দেশই যদি দেয় তা ঢেকে,
সত্যি মানুষ কেমন ছিলো তবে তার আর খোঁজ পাবে কে!
যে নির্দেশে এ নাম মোছা, সেটাও যেন কেমনতর,
কে ঢাকতে চায় কে তা না চায়, অন্তত তো জিগেস করো,
ধর্ষণে হয় নষ্ট জীবন, সেই ধারণায় শেকড় গেড়ে,
নামহীনতায় প্রথম থেকেই যায় যেন মেয়ে লড়াই হেরে,
লজ্জা তো সেই ধর্ষকেরই, না’এর মানে বোঝেনি যে,
ইজ্জতটা কার খোয়ালো, আয়নাতে দেশ দেখুক নিজে
তার বদলে মেয়েকে বলা নামহীনতায় আবছা হতে
পুরুষতন্ত্র সে নির্দেশে সজোরে তার নিশান পোঁতে।
নাম নেওয়া নয় লজ্জা কোনো,নামের থেকেই শুরু লড়াই
সে নাম বুকে ফুলকি করে সবাই যেন আগুন ধরাই
নাম নিতে দিন ধর্মাবতার, রাখেন কেন মৌনী তাকে
সে নাম ধরে ডাকবো কেন, কক্ষনো যা ছোঁয়নি তাকে?
চাইছি যে নাম শ্লোগান-স্বরে, আশা করি বোঝেন কাকে…









