৮ জানুয়ারী ২০২৫
গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে আশা কর্মীদের একটা বড় অংশ কর্মবিরতি শুরু করেছেন তাদের কয়েকটি দাবি নিয়ে। কাল তারা স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেছেন। কথা ছিল তারা রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাদের বিক্ষোভ সমাবেশের জন্য সেই বৈঠক অনিশ্চিত।
আশা কর্মীদের দাবির মধ্যে আছে ভাতা বৃদ্ধি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, অবসরকালীন ভাতা, ইত্যাদি। যে কোন কর্মীর এগুলি ন্যূনতম মানবিক অধিকারের দাবী। তাদের যে সব কাজ করতে হয় তার মধ্যে আছে গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত খবরাখবর নেওয়া, টিকাকরণের ব্যবস্থা করা, অন্যান্য সরকারি পরিষেবা দেখভাল করা, প্রসবের সময়ে তাকে সরকারি হাসপাতালে পৌঁছে দিতে সঙ্গ দেওয়া, শিশুদের টিকাকরণ সুনিশ্চিত করা, সব কাজ নথিবদ্ধ করে তা যথাস্থানে পাঠিয়ে দেওয়া, ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। এই সব কাজের জন্য তাদের মাসিক ভাতা তিন হাজার দুশ’ টাকা। সঙ্গে কিছু কিছু কাজের জন্য সামান্য উৎসাহ ভাতা। তাদের কোন নথিবদ্ধ, অসুস্থ কালীন, মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। ছুটির সময়ের জন্য তারা কোনো ভাতা পান না, কারণ তারা সরকারি কর্মী হিসেবে বিবেচিত হন না। অথচ যে কোন সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবায় তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এদের অনেকেই কোভিড কালীন সময়ে যেভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিষেবা দিয়েছেন তা প্রশংসিত হয়েছিল সংবাদ মাধ্যমে, চিকিৎসকদের কাছে ও সর্বোপরি পরিষেবা প্রাপ্ত সাধারণ মানুষের কাছে। সরকারি প্রতিশ্রুতি ছিল এজন্য তাদের অতিরিক্ত কিছু বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করার, সেই সহায়তা এখনও অনেকে পান নি।
জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স আশা কর্মীদের ন্যায্য দাবি গুলির প্রতি সহমত ও সহানুভূতিশীল। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবিগুলো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে নিতে। আশা কর্মীরা এখন সরকারি স্বাস্থ্য পরিবারের এবং এই সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান দেয়া সকলের নৈতিক কর্তব্য।










