আমেরিকা প্রথমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে মাদকপাচারকারী বলে তুলে নিয়েছিল। কিন্তু পরদিনই স্পর্ধার সঙ্গে জানিয়ে দেয় তাদের আসল উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈলভাণ্ডারের দখলদারি। প্রয়োজনে আমেরিকার কট্টর বিরোধী কলম্বিয়াকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে আর গ্রীনল্যান্ডকেও দখল করে নিতে পারে আমেরিকা। দাদাগিরির মাত্রাটা একবার ভাবুন!
১৯৬৮ সালে ভিয়েতনামে আমেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রবল ছাত্র আন্দোলনের কারণে আমেরিকার তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্ট ম্যাকনামারার বিমান দমদমে নামানো যায়নি।সারা পৃথিবীতে খবর হয়েছিল কলকাতা! এই কল্লোলিনী তিলোত্তমার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সে এক জলন্ত্ব ঐতিহাসিক দলিল!
আর আজ? একটা স্থবির, পঙ্গু গলিত ছাত্র-যুব সমাজ! আন্তর্জাতিক স্তরে আগ্রাসনে, অশ্লীল দাদাগিরিতে সামান্য চুলের ডগাটুকুও কেঁপে ওঠে না এখানে তরুণের। উন্মাদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্রিয়াকাণ্ডে ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ কেন তাড়াব’ যুক্তির তাও একটা দুর্বল অর্থ দাঁড় করানো যায় কিন্তু সেই উন্মাদ প্রেসিডেন্ট যখন ভারতবর্ষ কোথা থেকে তেল আমদানী করবে তা ঠিক করে দেন, চরম অসম্মানজনক সব শর্ত চাপিয়ে দেন এবং ভারতবর্ষের তাকে খুশি রাখা উচিত বলে হুমকি দিতে থাকেন, দিতেই থাকেন, তখনো এই জেন জেড না কী যেন, পাথরের মত চুপ করে থাকে!
আন্তর্জাতিক ঘটনা প্রবাহে রিঅ্যাক্ট করা ছেড়ে দিন এই যে যুব সমাজের চাকরি চুরি করে বেচে দিল একটা শাসকদল, পথের পাথরে নিষ্ফল মাথাকুটে শেষ হয়ে গেল এই যুবদেরই একটা জেনারেশন, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিল শাসক, কিছু এসে গেল আমাদের ছাত্র-যুবদের?
যে সমাজে শাসকের শ্লোগান হয় ‘খেলা হবে’, কে বেশী উগ্র ধর্মজিগির আর ধর্মঘৃণা ছড়াতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলে শাসক আর প্রধান বিরোধী দলের ভেতর সে সমাজে মানবাদর্শের শিরদাঁড়া-সম্পন্ন ছাত্র-যুবদের গর্জন শোনার আশা বোধহয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মূর্খামি।











