Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

আন্দোলনের আপাতত বিরতি – ‘অভয়া’র বিচার?

Oplus_131072
Dr. Jayanta Bhattacharya

Dr. Jayanta Bhattacharya

General physician
My Other Posts
  • September 24, 2024
  • 5:59 am
  • 7 Comments

দেখ, এই আমার স্বদেশ –

বন্ধুদের হাতে হাত, ধমনীতে উষ্ণ রক্ত,

সময়ের প্রসারিত রেখা ছুঁয়ে যায় বুক

করতলে বেড়ে ওঠে রৌদ্রের শিশুরা।

(সব্যসাচী দেব, ‘সময় বাহুতে বাঁধে প্রচ্ছন্ন স্বদেশ’)

কোথাও মানুষ ভাল রয়ে গেছে ব’লে

আজও তার নিঃশ্বাসের বাতাস নির্মল;

যদিও উজীর, কাজী, শহর-কোটাল

ছড়ায় বিষাক্ত ধুলো, ঘোলা করে জল

তথাপি মানুষ আজ শিশুকে দেখলে

নম্র হয়, জননীর কোলে মাথা রাখে,

উপোসেও রমণীকে বুকে টানে; কারও

সাধ্য নেই একেবারে নষ্ট করে তাকে।

(বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)

সুপ্রিম কোর্টে ৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে সরকারপক্ষের আইনজীবী কপিল সিবাল ঘটনার দিনের (৯.০৮.২০২৪) ২ ঘন্টার সিসি টিভির ফুটেজ টুকরো টুকরো করে ২৭ মিনিটের ক্লিপগুলো দিয়েছিলেন। সিলিসিটর জেনারেল এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিবাল হাসিমুখে জানান “technical glitch”। অনেকটা শিব্রাম চক্রবর্তীর গল্পের মতো – কার্পেট কাচতে দিলে ভালো করে কাচায় সেটা খেপে গিয়ে মোটাসোটা রুমাল হয়ে যাবার মতো। এই “technical glitch”-এর মধ্যে অনেক ধোলাই হবার কাহিনি থাকতে পারে।

এরপরে ১৬.০৯.২০২৪ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর নিয়ে ৩য় শুনানি হয়েছে। কোন সময়সীমা বেঁধে না দিলেও সরকারি কলেজগুলোতে যে “থ্রেট কালচার” এবং “fear psychosis” বিরাজ করছে, রাজ্য সরকারকে দ্রুত তার অবসান ঘটিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগ দেবার মতো পরিবেশ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। ১৮.০৯.২০২৪ জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে আরেকবার আলোচনার আবেদন জানিয়ে মেল করা হয়। প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির তরফে ইতিবাচক উত্তরও আসে। জুনিয়র ডাক্তাররা আজ আবার আলোচনায় বসতে চলেছেন। যে লাইভ স্ট্রিমিং নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে মাননীয়া মুখমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম এবং ২য় বৈঠক ভেস্তে যায়, সে লাইভ স্ট্রিমিং নিয়ে রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বাল সুপ্রিম কোর্টে শুনানির শুরুতেই আপত্তি জানানোর সাথে সাথে মহামান্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পত্রপাঠ নাকচ করে দেন। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের লাইভ স্ট্রিমিং সারা পৃথিবী দেখেছে।

এবারে রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী শুনানির দিন (২৭.০৯.২০২৪) পেছনোর নতুন খেলা শুরু হয়েছে। অভিপ্রায়? অনুমেয়। Justice Delayed, Justice Denied। আবার উল্টোদিকও সত্যি – Justice Hurried, Justice Buried।

অবশেষে, পশ্চিম্পবঙ্গ সরকারের চিফ সেক্রেটারির একটি ইমেলে জুনিয়র ডাক্তারদের দাবীর একটি বড়ো অংশের মান্যতা স্বীকার এবং কিছু অংশে মেনে নেওয়ার পরে ২০.০৯.২০২৪-এ জুনিয়র ডাক্তারেরা তাদের কর্মবিরতি আংশিক প্রত্যাহার করে এবং স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান তুলে নেয়। পরেরদিন (২১.০৯.২০২৪) তারা জরুরি পরিষেবায় যোগ দেয় – এই মর্মে জানিয়া যে, হাসপাতালে এবং কর্মক্ষেত্রে “হুমকি সংস্কৃতি” এবং ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে ভয়হীন কাজের পরিবেশ দ্রুত ফিরে না আসলে তারা আবার আন্দোলনের পথে ফিরে আসবেন।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জুনিয়র ডাক্তাররা কাজে যোগ দেবার দিনই ২টি টিমে বিভক্ত হয়ে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ বাণভাসি অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। কারও ওপরে নির্ভর না করে নিজেদের উদ্যোগে ত্রাণের রসদ এবং চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে গেছে।

২০ সেপ্টেম্বর (২০২৪) স্বাস্থ্যভবন থেকে সিজিও কমপ্লেক্স অর্থাৎ সিবিআই দপ্তরে ‘অভয়া’র দ্রুত বিচারের দাবীতে গণ অভিযান করে – যে অভিযানে অনুমান করা হয় লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ হয়েছিল কলকাতার রাস্তার বিভিন্ন রাজপথে যেখানে ৪৫ কিলোমিটার লম্বা মানবশৃঙ্খলও তৈরি হয়েছিল এবং মশালের হাতবদল হয় – স্বাস্থ্যভবন থেকে অবস্থান তুলে নেওয়া হয় জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে। একি সত্যিই একটি স্ফুলিঙ্গ দাবানল হয়ে ওঠার অপেক্ষায়? ইতিহাস এবং ভাবীকাল এর প্রকৃত জবাব দেবে।

জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট – কয়েকটি ভাবনা

জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থা অনেকটা ভ্যান গখের Prisoners’ Round ছবিটির মতো।

(ছবি – উইকিমিডিয়া কমনস)

চতুর্দিকে ঘিরে রেখেছে উঁচু দেয়াল – ‘হাসিমুখে’ দাঁড়িয়ে থাকা অশরীরী ‘অভয়া’র অস্তিত্ব, ওর জন্য ডাক্তারদের চৌহদ্দি পেরিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবাদে হৃদয় ও বিবেকের টানে, কাজে ফেরার জন্য জুনিয়র ডাক্তারদের নিজেদের বিবেকের চাপ, কাজের জায়গায় সুরক্ষা ও নিরাপত্তাহীনতা এবং সর্বক্ষণ ঘিরে থাকা দৃশ্য বা অদৃশ্য পেশিশক্তির আস্ফালন, প্রশাসনের তরফে মূলত নিঃস্পৃহ মনোভাব এবং, সর্বোপরি ১২.০৯.২০২৪ আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা না হওয়া। কারণ? এদের দাবী ছিল – (১) ৩০ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে আলোচনায় বসতে দিতে হবে (মেনে নেওয়া হয়), (২) মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোটা আলোচনাপর্ব সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সরকারের তরফে সরাসরি প্রত্যাখ্যান জুনিয়র ডাক্তারদের বাধ্য করল নবান্নের দরজা থেকে ফিরে আসতে।

মেলের ভাষা লক্ষ্যণীয় – একটি ছোট ডেলিগেশন (সর্বাধিক ১০ জন) “may visit” এবং “may be sent”। ইংরেজিতে এর অর্থ দাঁড়ায় আপনি চাইলে আসতে পারেন – কোন অনুরোধ করা হয়নি, এমনকি may শব্দটির পরে please শব্দটিও যোগ করা নেই। চাইলে উত্তর দিতে পারেন, নাও পারেন। এরকম একটি মেল ১ মাস ধরে রোদে-জলে ভিজে দিনরাত এক করে অবস্থানরত কোনরকম রাজনৈতিক দলের সংস্রববর্জিত আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের কাছে কি খুব সম্মানের ছিল? এবং মেলে উল্লেখও করা ছিলনা যে, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এদের সঙ্গে কথা বলতে চান।

এরপরে ১২.০৪.২০২৪ বিকেলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চিফ সেক্রেটারির তরফে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আলোচনায় থাকবেন জানিয়ে আরেকটি মেল আসে। জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে এর উত্তর দেওয়া হয়।

মেলে জানানো কথার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জুনিয়র ডাক্তারেরা নিজেরা বাস ভাড়া করে নবান্নে পৌছে যায় ৩০ জনের প্রতিনিধি দল নিয়ে। ২ ঘন্টা তারা ওখানেই বসে থাকে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীও ফাঁকা কনফারেন্স রুমে বসে থাকেন – শুধু নবান্নের বাইরে এবং ভেতরে। কিছুতেই live streaming-এ রাজি হলেননা তিনি। মিটিং হলনা। তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের কথা বললেন। এদের ছোট বলে ক্ষমা করে দিলেন। এবং আরও কিছু কথা বললেন, যেগুলো সবাই শুনেছে। তার মধ্যে একটু ভাবলে দেখা যাবে, সামান্য অনৃতভাষণও রয়েছে হয়তো।

কেন সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে  এত আপত্তি? এমনটা কি হতে পারে যে, জুনিয়র ডাক্তাররা যে ৫ দফা দাবী একেবারে প্রথম থেকে জনসমক্ষে এবং প্রশাসনের কাছে পেশ করে আসছে – যার মধ্যে পুলিশ কমিশনার ও হেলথ সেক্রেটারির পদত্যাগ থেকে ধর্ষক এবং খুনিদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তুমূলক শাস্তি দেওয়া, এবং, সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ, কলেজের অভ্যন্তরে ওদের কর্মস্থলে পূর্ণ সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। কেবল কিছু সিসি টিভি বসানো কিংবা সিআরপিএফ মোতায়েন করে এ সমস্যার সমধান হবেনা।

অর্থাৎ জনসমক্ষে একটি অপ্রীতিকর বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসত। বিভিন্ন স্তরের দুর্নীতি, যেভাবে সিবিআই তদন্তের ফলে প্রাথমিকভাবে সামনে আসছে সে ডিসকোর্সটি সরকার এবং প্রশাসনের তরফে খুব সুখকর হতনা হয়তো। এরকম একটি আগাম আশঙ্কা থেকেই কি এতে দৃঢ়ভাবে অরাজি হওয়া?

আরও কথা

জুনিয়র ডাক্তারদের এ আন্দোলন এক অর্থে ইতিহাস-সৃষ্টিকারী এবং সমাজতত্বে ভাবনার উপাদান সরবরাহ করার মতো বিষয়। কেন?

আমরা প্রায় সবসময়ই রাষ্ট্রের বা শাসকদলের তৈরি করা অ্যাজেন্ডার প্রতিক্রিয়া জানাই। সে অর্থে আমাদের তথা জনসমাজেরর প্রতিক্রিয়া চরিত্রের বিচারে অনুবর্তী বা reactive। কিন্তু এ আন্দোলন এমন এক পরিস্থিতি ও সন্ধিক্ষণের জন্ম দিয়েছে যা শাসকদলকে (এবং কিছু পরিমাণে রাষ্ট্রকেও) দিশেহারা করে দিয়েছে। হয়তো বা প্রথমবারের জন্য প্রায় এক মাস ধরে একটি আন্দোলন চলছে যা স্ব-উদ্যোগী অগ্রবর্তী আন্দোলন, যাকে আমরা বলি proactive movement।

এ আন্দোলনের ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে শাসকদল এবং সরকারকে এর প্রতিক্রিয়ায় নিত্যনতুন কৌশল ভাবতে হচ্ছে। জুনিয়র ডাক্তারদের proactive movement সরকারকে reactive position-এ ঠেলে দিয়েছে। এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এরা বিভিন্ন স্তরে গণ অংশগ্রহণের flood gate খুলে দিল।

শুধু এটুকুই নয়, এ আন্দোলনের অভিঘাতে নারীরা সামাজিক সুরক্ষা এবং ব্যক্তি নারীর স্বাতন্ত্র্যচিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। সমস্ত নাগরিক সমাজ – সবরকমের দলীয় প্রভাবকে দূরে সরিয়ে রেখে – একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছে। এরকম তৃতীয় পরিসর বা নাগরিক পরিসর স্মরণীয় কালের মধ্যে উন্মোচিত হয়নি।

আমার মনে হয়, এ কথা আজ জোর দিয়ে বলার প্রয়োজন আছে যে, apart from everything, junior doctors are fighting against ‘legalized lawlessness’ of the state and government.

 

শুধু এটুকুই নয়, এদের আন্দোলন এক অর্থে ডাক্তারদের এবং বৃহত্তর সমাজের চিত্তশুদ্ধির আন্দোলনও বটে। আমরা যে মেরুদণ্ড, সততা, নির্ভীকতা এবং সত্যিকে সত্যি বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম সেগুলো খানিকটা হলেও আমাদের কাছে ফেরত এসেছে। এ কোন সমাজ বদলের আন্দোলন নয়। স্বচ্ছতার সঙ্গে ন্যায়ের দাবীতে আন্দোলন, পরস্পর “বেঁধে বেঁধে” থাকার আন্দোলন।

জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে অন্ন-বাসস্থান-পানীয়-ছাউনি দিয়ে পুষ্টি দিয়েছেন এই অনামা অসংখ্য মানুষ। কোন মা তার জন্মদিন পালন করেছিলেন অবস্থান মঞ্চে, সবাইকে পায়েস খাইয়ে। কেউ খাইয়েছেন কেক। হৃদয়ের ওম দিয়ে লালন করেছেন এই আন্দোলনকে। এদের সবাইকে আমার, জুনিয়র ডাক্তার এবং ডাক্তার সমাজের তরফ থেকে প্রণাম, ভালোবাসা এবং অভিনন্দন। আপনারা সজাগ নজর রাখবেন, যাতে ন্যায়ের পথে থাকতে পারি।

কুর্ণিশ, আন্দোলনকারী সন্তানসম জুনিয়র ডাক্তারদের এবং এদের সহযোগী সমস্ত ডাক্তারসমাজকে! এরা মেডিক্যাল সাম্রাজ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির চেহারা বেআব্রু করে দিচ্ছে – প্রতি মুহূর্তে। সিবিআই সেগুলো খুঁজে বের করছে।

আপনারা খেয়াল করে দেখুন, এদের দাবী যৌক্তিক এবং নির্দিষ্ট। এখানে আরেকটি কথা বলার, আন্দোলন গণচেহারা নিলে সমস্তকিছু ডাক্তারদের নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। এজন্য ঋতুপর্ণার সাথে অসঙ্গত আচরণ হয়। অনভিপ্রেত!

অনুগ্রহ করে, কোনরকম ব্যক্তি আক্রমণ – তিনি মুখ্যমন্ত্রী হ’ন বা সুপ্রিম কোর্ট – করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে। আন্দোলনের ওজন যেন কোনভাবেই না কমে যায়। যুক্তি-বুদ্ধিকে যেন আবেগ ছাপিয়ে না যায়।

শেষ কথা – পুনরায় ভেবে দেখা

রাজনৈতিক দল এবং ঝান্ডা ছাড়া মানুষের বিশুদ্ধ আবেগ এবং পবিত্র ক্রোধকে রাষ্ট্র সবসময় ভয় পায়। চায়, একে বারংবার সহিংস হবার পথে ঠেলে দিতে। সফল না হলে একে প্রশমিত করার জন্য গণতন্ত্রের তথাকথিত চারটি স্তম্ভই কাজ করে – বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্ন মাত্রায়। সে কাজ করা শুরু হয়েছে, এবং করবেও। আমাদের রাস্তা ধর্ণায় বসে থাকা, পথে নেমে বন্ধু এবং সাথীকে চিনে নেওয়া। নাগরিক সমাজের বিপুল অংশগ্রহণ আমাদের নতুন ‘Human Bondage’ তৈরি করেছে। অজানা অচেনা প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ এ আন্দোলনের সাথে জুড়ে যাচ্ছে। আড়ে-বহরে “অভয়া”-র জন্য বিচার চাওয়ার অবয়ব ক্রমাগত বড়ো হচ্ছে।, দীর্ঘ হচ্ছে। আরও গভীরতায় প্রবেশ করছে।

আমাদের কাছে অজানা শিশু-কিশোর-কিশোরী-যুবক-যুবতী-মাস্টার মশাই-দিদিমণি-দাদা-বৌদি-ভাইদের আমরা জড়িয়ে ধরছি – যেন আরও বেঁধে বেঁধে থাকতে পারি আমরা।

বিশ্বখ্যাত সঙ্গীত Imagine-এর গায়ক এবং লেখক জন লেনন ১৯৬০-এর দশকের উত্তাল সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন – “When it gets down to having to use violence, then you are playing the system’s game. The establishment will irritate you – pull your beard, flick your face – to make you fight. Because once they’ve got you violent, then they know how to handle you. The only thing they don’t know how to handle is non-violence and humor.”

হ্যাঁ, রাষ্ট্র হিংস্রতাবর্জিত মাটি কামড়ে পড়ে থাকা আন্দোলনের যথেষ্ট মোকাবিলা করার পদ্ধতি এখনও ভালোভাবে শেখেনি – পুলিস, গুণ্ডা, বুলেট এবং লাঠির ব্যবহার ছাড়া। এরা কৌতুকও গ্রহণ করতে পারেনা। এখানে আমরা চার্লি চ্যাপলিনকে স্মরণ করে কৌতুকে পর্যুদস্ত করার কাজ শুরু করতে পারি। দাবী না মেটা পর্যন্ত আমাদের ফিরে আসার জন্য পাড়ে কোন নৌকো বাঁধা নেই – No Boat to Return।

আপনারা সবাই আসুন, পাশে থাকুন,  বেঁধে বেঁধে থাকুন, আমাদের ফিরে আসতে সাহায্য করার জন্য। ডাক্তারদের একমাত্র কাজ রোগিদের চিকিৎসা করা। ফলে কাজে ফিরতে সমস্ত আন্দোলনরত ডাক্তাররাই আগ্রহী। শুধু চাই কাজে ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ।
আরেকটি কথাও পাঠকেরা ভেবে দেখবেন। জুনিয়র ডাক্তারেরা বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছেন, শহরের এই বড়ো হাসপাতালগুলোর ওপরে এত চাপ কেন? কোথায় গেল আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্যের প্রাণবন্ত উপস্থিতি? ভোর কমিটি (জোসেফ ভোরকে নেতৃত্বে রেখে ১৯৪৩ সালে তৈরি এবং ১৯৪৬ সালে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে চিকিৎসাব্যবস্থার কেন্দ্রে স্থাপন করার জন্য সুপারিশ করেছিল) সহ বিভিন্ন সময়ে একের পরে এক সরকারি কমিটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনস্বাস্থ্যের কেন্দ্রে স্থাপন করতে বলেছে। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার তরফে বলা হয়েছে – “All people, everywhere, have the right to achieve the highest attainable level of health. This is the fundamental premise of primary health care (PHC). Primary health care is a whole-of-society approach to effectively organize and strengthen national health systems to bring services for health and wellbeing closer to communities.”

জনস্বাস্থ্যের দর্শন একটি ভিন্ন অবস্থান। এটা কোন মেডিক্যাল শিক্ষার প্রচলিত বুদবুদের বাজার নয় (অর্থনীতির ভাষায়) বা এর মাঝে রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রের মতো কোন লুকনো শিক্ষাক্রম নেই। এখানে সবকিছুই অবারিত খোলা এবং মানুষ ও সমাজের প্রতি সৎ দায়বদ্ধতাই একমাত্র ভিত্তি। নিজের নিজের সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবন-চর্যা এবং সর্বোপরি পড়শি-চেতনা ধরে আছে ভারতের মতো আরো বহু দেশের অসমসত্ত্ব বিপুল জনসমস্টিকে।

এই বিশেষ অবস্থান বুঝতে না পারলে মেডিক্যাল কলেজের প্রশিক্ষণ শেষ করা মাত্র জনস্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী চিকিৎসক হয়ে ওঠা যায় না। মুক্ত বাজারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক দর্শন, বিশেষ করে এর উপজাত social psyche, এ দুয়ের প্রভেদ মুছে দিতে বদ্ধ পরিকর। স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সমার্থক নয়। তেমনি সমার্থক নয় চিকিৎসা এবং নিরাময় – এ দুটি শব্দবন্ধ। চিকিৎসকেরা রোগির নিরাময় চান, কেবলমাত্র চিকিৎসা নয়।

দানবীয় বহুজাতিক কোম্পানী এবং হিংস্রতম, আগ্রাসী কর্পোরেট পুঁজির কাছে মানুষ শব্দটির ততক্ষণই মূল্য আছে যতক্ষণ সে মুনাফা দিতে পারে। এজন্য ব্যক্তির ব্যক্তিসত্তা, দেহ ও মন থেকে অসুস্থতাকে বিযুক্ত করে দেখে কেবলমাত্র অসুখের জন্য সমস্ত ওষুধ ও প্রযুক্তি তৈরি হয়ে চলছে সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য, মেডিক্যাল শিক্ষাক্রমও বিপুল্ভাবে প্রভাবিত হয়।

ফলে এ আন্দোলন হয়তো প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার পথেও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।

মানুষ রে, তুই সমস্ত রাত জেগে

নতুন করে পড়,

জন্মভূমির বর্ণপরিচয়!

পায়ের নীচে তোর

গভীর হচ্ছে চোরাবালির চেয়ে ভীষণ

ঘুমের শূন্যতা,

তুই

সারাজীবন শিখলি পরের মুখের কথা,

শুধুই কথা!

(বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)

PrevPreviousপার্থক্য অস্ত্রহীন রঙহীন গোষ্ঠীহীন লড়াই
Nextদ্রোহকালের দিনলিপি: গল্পের পঞ্চদশ অধ্যায়Next
4 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
7 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Sourav Kumar Bera
Sourav Kumar Bera
1 year ago

খুবি ভালো লেখা
এই আন্দেলোন আমাদের সবার আন্দেলোন
সকল ডাক্তার কুলকে কুর্নিশ 🙏🙏🙏🙏

0
Reply
পারমিতা
পারমিতা
1 year ago

বানানে (ই-কার/ঈ-কার ব্যবহারে) অসঙ্গতি আর ছাপার ভুলের জন্য একটি স্টার বাদ রাখলাম। লেখার জন্য আসলে সাত-তারা।

0
Reply
Parthasatathi Choudhury
Parthasatathi Choudhury
1 year ago

যুক্তিসঙ্গত ও নির্মোহ বিশ্লেষণ। এই ভরাট আন্দোলনে জনস্বাস্থ্য-র দর্শনের কি ইঙ্গিত ছিল? বোধহয় না, তবুও পরিষেবা দানের এক নির্মল পরিবেশ ছিল সর্বোচ্চ কাঙ্খিত। আলোচনায় এলো না, বহুজাতিক পুঁজির আস্ফালন । তাদের ভূমিকা। সব মিলিয়ে বেশ মনোগ্রাহি আলোচনা।

0
Reply
Dr. Amal Bhattacharya
Dr. Amal Bhattacharya
1 year ago

অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের আন্দোলন কোনোদিন থামতে পারে না। আজ যে চোখে চোখ রেখে কথা বলা যাচ্ছে তা জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের ফসল।

0
Reply
Dipankar Sarkar
Dipankar Sarkar
1 year ago

Just and appreciate approach

0
Reply
Sangita Nair
Sangita Nair
1 year ago

A heinous crime, unseen before .very difficult to believe that it was perpetrated by some of us. 
Since I live in the periphery ,it’s true that hospitals were paralyzed. 
We know hospitals are run by the juniors always. 
So common man suffered. 
The rulers will be rulers, only party changes, we must act as watchdogs to enjoy democracy. 
The protests were losing seriousness with lots of selfie taking,and other inappropriate behaviors.
Hope this courage of our juniors rubs on other citizens and we can fight for our rights. 
I am waiting to see the culprits being punished and hoping that each one of us will be less corrupt someday.

0
Reply
SOUGATA PAL
SOUGATA PAL
1 year ago

Lekhati pore bhalo laglo. Ottonto somoyopojogi bishleson.

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

April 15, 2026 No Comments

সালটা ২০১১, আমরা মেডিক্যাল কলেজে তখন সদ্য পা দিয়েছি। গল্পটা শুরু হয়েছিল তারও আগে, রেজাল্ট বেরোনোর পরপরই। বিভিন্ন দাদা দিদিরা বাড়ি বয়ে একদম ভর্তির সমস্ত

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

April 15, 2026 No Comments

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

April 15, 2026 3 Comments

ভোটের দোরগোড়ায় পশ্চিমবঙ্গবাসী। ইতিমধ্যে SIR তথা Special Intensive Revision (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এর কল্যাণে এবং প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সহজ কথায়,

What Does it Mean to Be a Revolutionary Doctor Today? (Part 3)

April 14, 2026 1 Comment

Micro-Institutions in Practice: A Workers’ Health Model In the earlier parts, I tried to touch upon the dilemmas faced by young professionals and the broader

।।অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিলঃ একটি প্রতিবেদন।।

April 14, 2026 No Comments

ডাঃ পুণ্যব্রত  গুণ সম্পাদিত “অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিল” বা ডক্টরস ডায়লগ সংকলন এক কথায় এই দশকের প্রতিষ্ঠান বিরোধী গণ আন্দোলনের যে ধারাবাহিকতা বা দুর্নীতিপরায়ণ শাসকের

সাম্প্রতিক পোস্ট

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

Dr. Subhanshu Pal April 15, 2026

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

Abhaya Mancha April 15, 2026

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

Dr. Jayanta Bhattacharya April 15, 2026

What Does it Mean to Be a Revolutionary Doctor Today? (Part 3)

Dr. Avani Unni April 14, 2026

।।অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিলঃ একটি প্রতিবেদন।।

Shila Chakraborty April 14, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

617813
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]