যাঁরা যাঁরা বিশ্বাস করেন যে রাজ্যের বর্তমান সরকারটি এমনিতে গণতান্ত্রিক এবং আর-পাঁচটা-ভালোমন্দ-মেশানো দলের সরকারের মতোই – দোষ যদি বলতেই হয়, তাহলে একটু বেশি দুর্নীতিপ্রবণ মাত্র – তাহলে দুটো খবরের দিকে নজর দিন :
১. জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনের অন্যতম মুখ আসফাকুল্লা নাইয়ার কাজেকর্মে নাকি এই রাজ্যের মেডিকেল কাউন্সিল – হ্যাঁ হ্যাঁ, অভীক-বিরূপাক্ষ-সুশান্ত রায়-সুদীপ্ত রায়-শোভিত সেই মেডিকেল কাউন্সিলের কথাই বলছি – মহামহিম মেডিকেল কাউন্সিল কিছু অনিয়মের খবর পেয়েছেন।
মেডিকেল কাউন্সিল অনিয়মের খবর পেয়ে থাকতেই পারেন এবং সে নিয়ে তদন্তও করতে পারেন – এবিষয়ে আপত্তি করার কী-ই বা আছে – এসব কেসে সাধারণত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে চিঠিচাপাটি পাঠানো হয়, ক্ষেত্রবিশেষে আপিসে ডেকেও পাঠানো হয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানা থেকে সাসপেনশন সবই হতে পারে।
কিন্তু এই রাজ্যের সরকার যেহেতু একটুও ফ্যাসিবাদী নয়, নিতান্তই আদুরে লেসার-এভিল-সোনা – অতএব রাজ্যের পুলিশের মাঝারি সাইজের একটি বাহিনী আসফাকুল্লার কাকদ্বীপের বাড়ি হানা দিয়েছে এবং আসফাকুল্লার অনুপস্থিতিতে তার বিধবা মা-কেই ঝড়ঝাপটা সামলাতে হয়েছে।
২. মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ এবং বিষাক্ত স্যালাইনে প্রসূতিমৃত্যুর ঘটনা। এতক্ষণে সকলেই জানেন, ঘটনায় মোট বারোজন চিকিৎসক সাসপেন্ড হয়েছেন।
কী ভাবছেন? এই চিকিৎসকরা কোনও না কোনও ভাবে স্যালাইন কেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই অপরাধেই এঁরা সাসপেন্ড হলেন?
ধ্যাৎ! কী যে বলেন! এটা কি আর-পাঁচটা রাজ্যের মতো গোলমেলে সরকার? এ হলো গিয়ে নিতান্তই লেসার-এভিল।
মনে রাখবেন, স্যালাইনের নামে যদি পটাশিয়াম সায়ানাইডের দ্রবণ আর ওষুধের নামে যদি সেঁকো বিষও দেওয়া হয়, তবু চিকিৎসক যদি দায়িত্বশীল হন – থুড়ি, চিকিৎসক যদি ‘সিনিয়র ডাক্তার’ হন – তাহলে রোগী সেরে যেতে বাধ্য! আমাদের রাজ্যের সরকার ফ্যাসিবাদী নয় – সামান্য দুর্নীতিপরায়ণ লেসার-এভিল মাত্র – সুতরাং ওষুধ/স্যালাইনে বিষ এই রাজ্যের রোগীদের কোনও ক্ষতি করতে পারে না।
অতএব, মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের গাইনি-বিভাগের প্রধান ডা মহঃ আলাউদ্দিন ও এমএসভিপি-সহ বারোজন চিকিৎসক সাসপেন্ড হয়েছেন।
সে যা-ই হোক, মনে রাখবেন, টুকটাক ‘পুলিশের বাড়াবাড়ি’ বা খুচরো ‘একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতা’ – অথবা ক্ষেত্রবিশেষে ‘সরকারের অতিসক্রিয়তা’ – এসব থাকতেই পারে এবং এগুলো বিরক্তিকর তো বটেই, কিন্তু ফ্যাসিবাদ যদি ঠেকাতে চান তাহলে… ইত্যাদি প্রভৃতি…









