তিলোত্তমা হত্যার প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এই নারকীয় হত্যার পর গর্জে উঠেছিলো রাজ্য তথা দেশ তথা সমগ্র বিশ্ব। সেই সময় কিছু লেখা ধারাবাহিকভাবে লিখেছিলাম থ্রেট সিন্ডিকেট নিয়ে। ওই লেখার সময় মনে ক্ষীণ আশা ছিলো। এতো কিছু ঘটে যাবার পরে অন্ততপক্ষে দেশের গণতন্ত্রের পিলারগুলি ভুল শুধরে নেবে। এই ক্ষেত্রে হয়তো জাস্টিস আসবে। বছর ঘুরে যাবার পরে আমাদের হাতে আছে শুধুমাত্র পেন্সিল। সঞ্জয় রাই একা অপরাধী হিসেবে এখনো পর্যন্ত সাব্যস্ত হয়েছে। সেও এই ফাঁকে আদালতে আবার নিজেকে নিরপরাধ বলে নাকি আপিল করেছে। তদন্তের ফাঁক ফোকর গলে সেও যদি জেলের বাইরে বেরিয়ে আসে তাহলেই সোনায় সোহাগা হয়। আমরাও বলতে পারবো NOBODY KILLED TILOTTAMA.
গত বছর তিলোত্তমা আমার কাছে ছিলো একজন ভিকটিম। যে ডিউটি করতে গিয়ে খুন এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছে নিজেরই হাসপাতালে। আজকে যখন এই লেখা লিখছি তখন তার সেই পরিচয় আমার কাছে অন্তত পাল্টে গেছে। আজকে তিলোত্তমার ঘটনা আমার কাছে এক দর্পণ। সমাজের দর্পণ।
ব্রিটিশ শাসন যেমন আমরা বুঝি সিপাহী বিদ্রোহ বঙ্গ ভঙ্গ বা জালিয়োনাবাগ হত্যাকাণ্ডের দর্পণে, ঠিক তেমনি আজকের সমাজকে সম্পূর্ণ বোঝার দর্পণ হয়ে উঠেছে তিলোত্তমার হত্যা। এ এমন এক ঘটনা যেখানে সমস্ত রাজনৈতিক দল, লোকাল কোর্ট থেকে হাইকোর্ট, হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট, রাজ্য পুলিশ থেকে ইডি সিবিআই, রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সবাই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত হয়ে গেছে। যুক্ত হয়ে গেছে ডাক্তারদের বিভিন্ন সংগঠন। যুক্ত হয়েছে মেডিকেল কাউন্সিল। এই হত্যাকাণ্ডের জাস্টিস পেতে কে কি ভূমিকা পালন করেছে তাই দিয়েই এদের প্রত্যেকটির চরিত্র পরিষ্কার হয়ে গেছে বা হয়ে চলেছে।
গুণীজনেরা প্রায় সবাই বলে গেছে প্রত্যাশা দুঃখের কারণ। যারা প্রত্যাশা করেছিলো ভারত রাষ্ট্রের স্তম্ভগুলো এই ক্ষেত্রে অন্তত জাস্টিস এনে দেবে তারা কম বেশি সবাই হতাশ হয়েছে।
হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে জাস্টিসের পক্ষে হাঁটত্তে গেলে প্রথমেই দরকার বাস্তবের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঠিক চরিত্র বিশ্লেষণ।
প্রাচীন বাংলা প্রবাদ আছে একটি:
“বৃক্ষ তোমার নাম কি ?
ফলেন পরিচিয়তে।”
তিলোত্তমার হত্যা মৃতদেহ নিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান কি ফল ফলিয়েছে সেটাই তার সঠিক পরিচয়।
আমার এই লেখা কোনো প্রত্যাশা নিয়ে নয়। কোনো রাগ অভিমান নিয়ে নয়। তিলোত্তমার ক্ষতবিক্ষত শরীরের ক্যানভাসে ভারত রাষ্ট্রের আর তার নাগরিকদের যে ছবি ধরা পড়েছে তার চিত্রায়ন করাই এই লেখার উদ্দেশ্য।
(চলবে)









