রাজা : মন্ত্রী! গুলি চললো কেন?
মন্ত্রী (স্বগতোক্তি ) : ‘ শালা জানে না যেন!’
মুখে :আজ্ঞে, ব্যাটা করছিলো বেগড়বাই,
নয়তো আর আমরা কি গুলি চালাই!
রাজা :কই ভিডিওতে তো সেরকম দেখাচ্ছে না?
মন্ত্রী: বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গী তো চেনা,
ভাবুন দেখি, অস্ত্র হাতে থাকলে হতো কি
ডেঞ্জারাস!’
রাজা : ওই তোমার এক বদভ্যাস,
আগে থেকে ভেবে নাও সবাই রাজাকে মারতে চায়,
আরে বাবা, কথাও তো বলা যায়!
মন্ত্রী: ( স্বগতোক্তি) ‘ ইল্লি আর কি!
একেই বলে রয়্যাল ইয়ার্কি,
সব কিছু নিজের ইচ্ছায় করে এখন কথা!’
মুখে : আজ্ঞে সে তো নষ্ট সময় অযথা,
বন্দুক আমাদের, বিচার আমাদের,
আমাদেরই প্রেস ও মিডিয়া,
কী কাজে লাগবে ওই কথা-ডাইরিয়া,
কয়েকটা লাশে সব চিৎকার হয়ে যাবে ঠাণ্ডা,
আন্দোলনের শেষে ঘোড়ার অন্ডা মেলে,
সেটাই তো প্রচলিত ফান্ডা।
রাজা: তাই বলে ভিডিও তুলতে দেবে?
ওখানে করেছো ভুল ভীষণ হিসেবে,
আরে বাবা এই সব চারদিক দেখে নিয়ে করা দরকার,
কেন যে বোঝো না এই নিয়ে চাপে পড়ে যাবে
সরকার,
একদিকে নিরস্ত্র অন্য তরফে বন্দুকধারী,
এমন দেখলে লোকে সামলাতে পারি?
মন্ত্রী: আজ্ঞে, বুঝিনি তো ব্যাটা সরবে না,
ও বোধহয় ভেবেছিলো গুলি করবে না,
বুঝুন ব্যাপার তবে!
রাজারা দয়ালু এত হলো আর কবে!
রাজা: কিন্তু এখন যে শ’য়ের ওপরে গেছে শব,
চারিদিকে ‘রাজা কার?’ হয় কলরব,
তার প্রতিরোধে কিছু ভেবেছো আশা করি,
জনতার ভয়ে দেখি কাঁপে যত রাজার প্রহরী!
মন্ত্রী : ভাবছি শবে’র পিছু দিয়ে দেবো কোটা,
এ দেশে কঠিন কোনো স্থায়ী কাজ জোটা,
লাশ পিছু পরিবারে দিয়ে দিলে চাকরি ও টাকা,
দেখবেন, পটাপট ধরে নেবে রাজারই পতাকা!
রাজা: সাধে উজবুক বলি! ওরে এরা সব ছাত্র ও ছাত্রী
বিদ্রোহ বিপ্লব চিরকাল এদেরই তো ধাত্রী!
এখনো হয়নি ওরা অত স্বার্থপর
কোটা ছুঁড়ে মেরে দেবে মুখের ওপর,
অন্য উপায় কিছু চটপট ভাবো,
শ্যুট অ্যাট সাইটে আর কত আটকাবো।
মন্ত্রী: স্বগতোক্তি:
‘এইবারে পেয়েছি সুযোগ,
বলে দেখি, সারে কি না রোগ!’
মুখে: অভয় দেন তো বলে ফেলি মহারাজ
তুলে দিন আজ কোটা, এক হোক সমাজ,
তিন পুরুষের পরে এখনো লাগছে কোটা যার,
যতই চেষ্টা হোক তাকে তোলা যাবেই না আর,
এবারে অন্য পথ নেওয়া যাক তবে,
কোটা মুছে দিলে সব সমাধান হবে।
রাজা: বেশ, লাঠিটা ভেঙেই তবে মারা যাক সাপ
একশো মানুষ খুনে তবে যদি মাফ..
মন্ত্রী : আরো এক ভালো কাজ হবে, মাই বাপ,
প্রতিবেশী দেশটিতে পৌঁছবে চাপ ।
দুজনে: যোগ্যতা স্থান পাক, কোটা হোক সাফ!









