মেদিনীপুরের যে জুনিয়র ডাক্তারদের অকারণে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, তাদের সাসপেনশন উঠে গেছে। ভালো খবর। কিছুদিনের মধ্যে উঠতই আদালতের রায়ে। আইনি প্রক্রিয়ার পথটা সংক্ষিপ্ত হল, এটুকু ভালো।
গতকালের বৈঠকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী জুনিয়র ডাক্তারদের বেতন-ভাতা কীসব বাড়িয়েছেন শুনছি। বেশিরভাগ মহলই মনে করছেন এই ভাতাবৃদ্ধি ‘ওভারডিউ’ ছিল এবং এখন হল, তা ভালো। মাননীয়া যদি এটাকে ন্যায্য বেতন বৃদ্ধি মনে করে থাকেন এবং সেই কারণে বাড়িয়ে থাকেন, তাহলে স্বাগত। যদি তিনি এটাকে আন্দোলন দমনের “carrot and the stick approach”-এর গাজর ভেবে নাকের ডগায় ঝুলিয়ে থাকেন, তাহলে ভুল করেছেন। লাঠি উঁচিয়ে অনেক তো তাড়া করলেন, তাতে কাজ হয়নি। গাজরেও হবে না। এটা বুঝে যদি ” খেলব না” বলে বর্ধিত ভাতা ফেরত নিতে চান, তাহলে আজই তা ঘোষণা করতে পারেন।
অভয়া হত্যার বিচার চাই। ভাতা বাড়ালেও চাই, না বাড়ালেও চাই।
অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী এটুকু দিয়ে ডাক্তারদের মুখ বন্ধ করার আশা করছেন, তা ভাবছি না। এত বোকা তিনি নন। তিনি ভারতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান রাজনীতিবিদদের একজন। বুদ্ধির প্রশংসা তাঁর প্রাপ্য। তাঁর আসল উদ্দেশ্য চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধি করে এবং ফলাও করে সে কথা প্রচার করে জনগণের মনে আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ভুল ধারণা তৈরি করা এবং মানুষকে এই আন্দোলন থেকে সরানো। ভোট বড় বালাই। অল্প কিছু ডাক্তারের ভোট নিয়ে তিনি চিন্তিত নন, কোটি কোটি ভোটারের মগজধোলাই করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই উদ্দেশ্য সফল হবে কিনা, তা সময় বলবে। যদি তা সফল হয় এবং সাধারণ মানুষের একাংশ রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরে যান, তবু রাজপথে মিছিল থাকবে এবং মিছিলে মানুষও থাকবে।









