দশম শ্রেণীতে পড়াকালীন, গালফ ওয়ারের অভিঘাতে বিচলিত হয়ে ইশকুলের ম্যাগাজিনে একটি নাতিদীর্ঘ রচনা লিখেছিলাম — ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা’ শিরোনামে।
ডেঁপো কিশোরীর সেই আবেগাপ্লুত, অন্তঃসারশূন্য লেখাটি দয়া করে ছেপেওছিলেন ইশকুল কর্তৃপক্ষ।
তার পরে কেটে গিয়েছে একচল্লিশ বছর। যুযুধান দেশের সংখ্যা, জনপ্রিয় বৈদ্যুতিন চ্যানেলের ভাষায় ‘লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে’।
আজ ইউক্রেন-রাশিয়া, কাল প্যালেস্তাইন-ইজরায়েল, পরশু ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা!
কেউ লড়ছে, কেউ হারছে, কেউ লড়িয়ে দিয়ে নিভু নিভু আগুন উসকে মজা পাচ্ছে। আপামর বিশ্ববাসী দ্যূতসভার দুর্যোধনের মতো উরুতে চাপড় মেরে তেতে উঠছি, ধ র্ষকাম আনন্দে গলা ফাটাচ্ছি কিংবা অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো কুঞ্চিত ললাটে ‘হা হতোস্মি’ আওড়াচ্ছি।
দেশের যুদ্ধ রাজ্যে রাজ্যে, এ দলে সে দলে, অফিস-কাছারি-ইশকুলে,পাড়ায় পাড়ায়, বাড়িতে বাড়িতে চারিয়ে যাচ্ছে।
যাবে না-ই বা কেন? টিভি খুললে একখানি অহিংস চ্যানেল দেখতে পাইনে। খবরের চ্যানেলে বিতর্কের নামে মৌখিক হাতাহাতি, ছিঁচকাঁদুনে বাংলা সিরিয়ালে কলতলা থেকে বিছানা পর্যন্ত ফিসফিসে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের বিস্তার, হিন্দি ছবির চ্যানেল খুললেই সিঁদুররঙা রক্ত আর নানা আকৃতি-প্রকৃতির মার*ণাস্ত্রের মেলা চাক্ষুষ করা বাধ্যতামূলক। গোলাগু*লি, লা শ, ধ*র্ষি তা নারী, পো ড়া ঘরবাড়ি — নিত্য এইসব না দেখলে, দৈনন্দিন উত্তেজনার আঁচে নিজেদের ‘ইন্টেলিজেন্ট’ মগজকে না সেঁকলে চলে?
অতঃপর?
আমার এবং আমার মতো অসংখ্য ‘ন্যাতানো’ মানসিকতার, অনুত্তেজিত শান্তিকামী মানুষদের করণীয় কি?
ফেসবুকে হতাশা উগরে, রুটি-ছেঁচকি বা মাছ-ভাতের ডিনার সেরে, একটা ক্লোনাজিপামের বড়ির মুখশুদ্ধি সহযোগে, ঘর অন্ধকার করে বালিশে মাথা ঠেকিয়ে ভাবা — ‘কি আর করা যাবে? আমার উপর নাই ভুবনের ভার’?
ছবি ঋণ: আন্তর্জাল










