বাংলাদেশে ধর্মোন্মাদগুলো আবার ঝাঁপিয়ে পড়ছে হিন্দুদের ওপর। সঙ্গে রয়েছে তীব্র ভারতবিদ্বেষী শ্লোগান। আসন্ন নির্বাচনে এই উন্মাদদের ক্ষমতায় আসার এটাই একমাত্র রাস্তা বোধহয়।
হিন্দু এক যুবককে যেভাবে পুড়িয়ে মারা হল তার বীভৎস ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। সে দৃশ্য সমস্ত চেতনাকে অসাড় করে দেয়! এই ধর্মখুনীরা কি মানুষ? এর নাম ধর্ম? ছায়ানট, উদীচির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লালনের ছবি ছিন্নভিন্ন করেছে এরা। বাদ্যযন্ত্র ভেঙে চুরমার করেছে। এরা নিজেদের ঐতিহ্য বোঝে না, গৌরব বোঝে না, সংস্কৃতি বোঝে না, শুধু বোঝে ধর্ম?
আবার এটাকে কাজে লাগাতে নেমে পড়েছে এদেশের ধর্ম ব্যবসায়ীরা। সামনে ভোট আসছে। ফলে মুসলমানরা এদেশটাকেও খুব শিগগির দখল করে নেবে আর হিন্দুদের একই অবস্থা হবে বলে প্রচার উঠছে জোর! হিন্দুভোটের মেরুকরণ চাই! সেটাকে আরো হাওয়া দিচ্ছে ‘বাবরি মসজিদ বানাব, নারায়ে তকদির’ বলে হুমায়ুনের হুহুঙ্কার! আর যে শাসক এতকাল মুসলমান তোষণ করে এসেছে, ভোটের অঙ্কে হিসেব মেলাতে মুর্শিদাবাদে হিন্দু বাড়িতে হামলা ও হত্যার সময় পুলিশকে নিষ্ক্রিয় রেখে তা হতে দিয়েছে বলে অভিযোগ সেই আবার হিন্দু ভোট টানার জন্য সরকারি টাকায় জগন্নাথ দেবের মন্দির বানিয়েছে, আগামীতে আরো বড় বড় নানা মন্দির বানাবে ঘোষণা করেছে। তারাই এই বাংলায় জাতপাতের মেরুকরণ তীব্র করেছে তাদের আকাশচুম্বী চুরি আর দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য এবং অবশ্যই ভোটের হিসেব ব্যালান্স করবার জন্য।
সকল মানবতা, সুস্হ বোধ আজ পিছু হঠছে ক্রমাগত। কেবল ভলকে ভলকে উঠে আসছে ধর্মমোহ আর ধর্মঘৃণা। দেশের দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অশিক্ষা, অস্বাস্থ্য, শাসকের প্রতি পদক্ষেপে দুর্নীতি আর রক্তচোখ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্হার সংকুচিত হয়ে আসা এসব কোনো বিষয়ই নয় যেন আজ। শুধু ধর্ম ধর্ম আর ধর্ম! মানুষের নিজের তৈরি ধর্ম সেখানে এত বড় যে মানুষের প্রাণও সেখানে খড়কুটো! অন্ধ, অসাড় জনগণ পিল পিল করে জড়ো হয় ধর্মের পতাকার নীচে। মারে আর মরে এবং ক্ষমতার মসনদে আসীন হয় শাসক ভোটের মেরুকরণের অঙ্কে।
তবে আপাতত বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উন্মাদ ধর্মখুনীদের হাত থেকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে ভারত সরকারের বাংলাদেশের ওপর নরম গরম কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল চাপ তৈরির ব্যবস্থা করা উচিত। এটা পাল্টা ঘৃণা ছড়ানোর চেয়ে অনেক অনেক জরুরী। এক্ষুনি করা উচিত।
ওদেশের ধর্মোন্মাদদের সংখ্যালঘু নিধনে উৎসাহিত হয়ে হিন্দু মৌলবাদীরা এদেশে ভোটের স্বার্থে যত মুসলমান ঘৃণা ছড়াবেন বা মব লিঞ্চিং ঘটাবেন ততই ওদেশে বিপন্ন হবেন বেচারা হিন্দুরা। যে যেখানে সংখ্যাগুরু সে সেখানে সংখ্যালঘুকে মারবে আর ভোটে জিতে বগল বাজাবে শাসক। রক্তের স্রোত গড়িয়ে যাবে এক শতাব্দী থেকে অন্য শতাব্দীতে। নির্বোধ মানুষের এ থেকে মুক্তি নেই।











ভালো লেখা। স্পষ্ট বিশ্লেষণ।