আজ চুঁচুড়ায় নাটকের শো-এ আমাদের দলের শিশু সদস্যরা গিয়েছিল ৷ একটির নাম লঙ্কা ৷ আসল নাম বৃষ্টি ৷ তবে একটা নাটকে সে লঙ্কাগাছ হয় বলে এখন সবাই তাকে লঙ্কা বলেই ডাকে ৷ লঙ্কা সে ডাক
পূর্ণ উপভোগ করে ৷ গোড়াতে শুধু একটাই কথা সে বারবার জিজ্ঞেস করত – আছছা আমি তো লঙ্কাগাছ ৷ তো লঙ্কাগাছের মুখে এতো ডায়লগ কেন ? সত্যি সত্যি তো আর লঙ্কাগাছ কথা বলতে পারে না ৷ তারপর তুমি লঙ্কাগাছের গানও লাগিয়ে দিয়েছ,গাছ কি গান গায় ?
এ সব প্রশ্নের উত্তরে একবার বলেছিলাম –বেশ তো ! তবে তো লঙ্কাগাছ মিছে মিছে গান গায় ৷এবার মিছেকে সত্যি করে ফেল ৷ কত ক্ষমতা তোর লঙ্কা ৷ তুই ঠিক পারবি ৷ চোখ বুঁজে ভাব লঙ্কাগাছ ঘুঙুর পরে নাচছে আর পেত্নীর মতো এলো পাতায় ছুটছে মাঠের পর মাঠ ৷ পাতা হল গে তার কেশ …ভাব রে ভাব
এই ভাবতে ভাবতে আমাদের লঙ্কাগাছ মঞ্চে এখন গান গায়, ছড়া বলে, নাচে ৷ আর বড়দের নাটক যখন হয় তখন আমাদের উৎসাহ দিতে আসে ৷
আজ নাটক শেষে লঙ্কার বায়না মতো কোন্নগর এসে গঙ্গা পার হয়ে, সোদপুর থেকে ট্রেন ধরব ঠিক হল ৷ ফেরীঘাটে পৌঁছে দেখলাম, যাতায়াতের পথ দড়ি দিয়ে বন্ধ ৷ আগের লঞ্চ ছেড়ে গেছে ৷ ওপার থেকে লঞ্চ এলে দড়ি খুলে দেবে ৷ দড়ির বাঁধন মানতে লঙ্কার ভারি দায় পড়েছে! সে ফুলের তোড়া (যেটি অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা আমাদের দিয়েছিলেন আজ) নিয়ে যত যাত্রী ওপার থেকে আসছে, সবার নাকের ডগায় নাচায় ৷ ঠিক যেন, ফুল দিয়ে সবাইকে অভ্যর্থনা করছে ৷ ক্লান্ত যাত্রী শিশুর হাতে ফুল দেখে অভ্যর্থনা মিছে জেনেও উজ্জ্বল হাসে ৷
লঞ্চ ছাড়ার পর লঙ্কা বললে – দেখো দুটো চাঁদ ৷
কথাটি মস্ত মিছে হলেও, দেখলাম আকাশের চাঁদের আলো গোল হয়ে কালো জলে ৷
–লঙ্কা এ চাঁদের নাম দে তবে ..
লঙ্কা কানে ফিসফিস দিলে –জলচাঁদ ৷
নিজের মিছেতে বিমুগ্ধ লঙ্কা সারাটি পথ শুধু জলচাঁদ দেখে গেল ৷ আকাশ তার আসল চাঁদ নিয়েও লঙ্কার কাছে পাত্তা পেলে না ৷
লঙ্কা ফুলের তোড়াটি নীচে নামিয়ে দোলাচ্ছে ৷
এটা কী হচ্ছে লঙ্কা? বোস চুপ করে ৷
লঙ্কার হাত আর ফুল পুতুলনাচ করছে ৷
বোধহয় মিছেচাঁদের পুজোটুজো হচ্ছে ৷
জলচাঁদ মিছে ৷
সত্য তাকে ভালোবাসা !











এনার সব লেখাই চমৎকারে মন ভরে’ দ্যায়।
জলচাঁদ মিছে নয়। আকাশের চাঁদ যদি সত্যি হয় তবে জলচাঁদও সত্যি। লঙ্কার ভালবাসা লঙ্কাই ঠিক করুক।
তাছাড়া অত দূরের চাঁদকে ভালবাসা যায় নাকি।
চমৎকার, ময়ুরী।