সারা রাজ্য জুড়ে এলসিডিসি চলছে, লেপ্রোসি কেস ডিটেকশন ক্যাম্পেন। গ্রামীণ স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুষ্ঠ রোগী চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দিনের শেষে ব্লক হাসপাতালে তারই ইভিনিং ব্রিফিং মিটিং চলছে, সারা দিন কাজের শেষে ক্লান্ত শরীরে কাজের পর্যালোচনা, কোর্স কারেকশন। কর্পোরেট সেক্টরে যা দেখে অভ্যস্ত সেটাই হচ্ছে সন্ধে বেলায় সরকারি জনস্বাস্থ্য বিভাগে। ১০০ শতাংশ উপস্থিতি। মিটিং এ এক ঠোঙা মুড়ি চানাচুর আর এক কাপ চা জুটলেই এরা খুশি। মিটিং শেষে সব মেয়েদের সেই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, টোটো অটো ভ্যান রিক্সা বাস ধরেই বাড়ি ফিরতে হবে, লালবাতি সরকারি কোনো গাড়ি নেই এদের জন্য। এদের অনেককেই বাড়ি ফিরেই আবার সংসারের কাজে লাগতে হবে, কোনো রেহাই নেই খাটুনির হাত থেকে কারণ মহিলা হয়ে জন্মেছেন এই “প্রগতিশীল” দেশে। এই বিপুল পরিশ্রমের ফসল হিসেবে যদি দু’জন কুষ্ঠ রোগী খুঁজে পাওয়া যায় সময় মতো, তার হাতের আঙ্গুলটা বেঁকে যাওয়ার আগে যদি তার ট্রিটমেন্ট শুরু করা যায় তার প্রয়াস এ আত্মমগ্ন হেলথ সুপারভাইজার, সিএইচও, হেলথ এসিস্ট্যান্ট ফিমেল, কমিউনিটি হেলথ এসিস্ট্যান্ট, আশা কর্মীরা। সবুজ, বাদামি, গোলাপী, হলুদ, বেগুনি শাড়ি, সালোয়ার কামিজের দল। সূর্যাস্তের সময় রামধনু কেউ দেখেছেন ? আমরা দেখতে পাই। আমরা বড় সৌভাগ্যবান। সামান্য বেতন ভাতা এর এই সব কর্মীরা যাদের চাকুরিগত সুযোগ সুবিধা শুনলে আপনিও লজ্জা পাবেন তারাই এই স্বাস্থ্যব্যবস্থা এর শিরদাঁড়া হয়ে ধরে রেখেছেন ব্যবস্থাটাকে। আমরা জনস্বাস্থ্য এর আধিকারিকরা, ব্লক মেডিক্যাল অফিসার, ব্লক পাবলিক হেলথ নার্স, আমরা কৃতজ্ঞ এদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে, এদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে। এদের ডিসিপ্লিন, এদের ডেডিকেশন এর সামনে মাথা নুইয়ে সেলাম জানানো ছাড়া আর কি বা থাকতে পারে। স্যালুট।

আঁদ্রে বেতেই স্মরণে
আঁদ্রে বেতেই এর জন্ম চন্দননগরে, বাবা ফরাসি হলেও মা বাঙালি ব্রাহ্মণ কন্যা। কিন্ত আজীবন তিনি ছিলেন পুরোপুরি ভারতীয় এবং দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অনধিকার










সে তো ঠিকই।এরাই খিটখিটে হয়ে যায় হয়ে যান দিন শেষে।আমরা ভাবি খারাপ ব্যবহার।কেউ কেউ আবার গোটা চাকুরী লাইফটাই এইভাবে খেটে কেটে নানা রকম বঞ্চনার শিকার হতে হতে, স্বাভাবিক ব্যবহার টাই ভুলে যান।এমনতর ঘর বাহির সামাল দিতে গিয়ে। মধুরতার পাত্রখানি যায় যে ফুরিয়ে একেবারে। শুকনো খটখটে জীবন কাটাতে কাটাতে।
তখন এই নানা রঙের পরিধান যেন গুলো আঁচল হয়ে চোখ মোছায়।
অন্তর্লীন কবিত্ব তাদের কাজ তাদের ডেডিকেশন দ্যাখেন পরিধানী রঙের সারিবাঁধ চোখের শ্রান্তিতে।
সব ছেড়ে একদম্ একা কোনো আউটসাইডার নিভৃতির চোখ আকাশের রামধনু উদারতায় তাদের এই শ্রমকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর এই প্রেম কে আনত জানায়।
খারাপ খটখটে ব্যাবহারের প্রলেপ উপশমে।।
মনে হতে থাকে,মনে হয়
হায় !কোথাও একটু ভালো ব্যবহার নাই!!!
কিংবা আমরা পরস্পর পরস্পরের কাছে যে যার জায়গায় অবুঝ মনের কাছাকাছি কি কোনোদিনই পৌঁছাতে পারব না!!!কেবল এই স্যালুটের দূরত্বই থেকে যাবে বরাবর!!
🙏♥️🌿