ঘৃণার বিষবাষ্পে যখন বাতাস ভারি, তখন মানুষের কাছে ফিরে ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। অনেকটা পথ পেরিয়ে আজ আরও এক নতুন অধ্যায়।
শহরকেন্দ্রিক মানুষের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছানোর যে অঙ্গীকার WBJDF ঘোষণা করেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রায়দিঘী অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায়।
সকাল থেকে অন্তত ২০০ জন মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি এক বিশাল মানবিক সংহতি। সেইসাথে, গোটা গ্রামজুড়ে ‘অভয়া আন্দোলন’-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নাট্যমঞ্চ, চিত্রকলা মঞ্চ এবং সাংগঠনিক পরিকল্পনার প্রাণবন্ত ছবি আমাদের মুগ্ধ করেছে।
গ্রামবাসীদের আন্তরিকতা, সাদর অভিবাদন ও আপ্যায়ন আমাদের মনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সংগ্রামের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।
তবে একইসঙ্গে, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আন্দোলন দমনের অপচেষ্টা এবং গ্রামের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ভয়াবহ ভেঙে পড়ার দৃশ্যও আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও, গ্রামের মানুষের সংগ্রামী চেতনা, পাশে থাকার অঙ্গীকার এবং রুখে দাঁড়ানোর সাহসকে আমরা হৃদয় থেকে কুর্নিশ জানাই।
জনস্বাস্থ্য চেতনার পুনর্গঠনে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যে—গ্রাম, শহর ও শহরতলির পাশে থাকার শপথ নিয়েই আজকের কর্মসূচি সমাপ্ত হল।
এর সাথে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্র জানতে পেরেছি যে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে প্রসূতি বিভাগের একজন ডাক্তার ধর্মপরিচয়ে মুসলিম এক প্রসূতি মা কে চিকিৎসা করতে/ পরামর্শ দিতে অস্বীকার করেছেন কেবল তার ধর্মপরিচয়ের জন্যে।
এ ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত নিন্দাজনক। সমাজ জুড়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যে সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বাতাবরণ তৈরী করা হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক শক্তিরা যেভাবে মানুষকে ধর্ম পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজিত করতে চাইছে, আমরা চিকিৎসক হিসেবে, সমাজের দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে তার বিরুদ্ধে সোচ্চারে অবস্থান রাখছি। চিকিৎসক সমাজের মধ্যে কেউ এ’ধরণের মানসিকতা পোষণ করলে এবং চিকিৎসার সময়ে রোগীর ধর্ম পরিচয়ের ভিত্তিতে এ’হেন বৈষম্যের নিদর্শন দেখালে তা শুধু অনভিপ্রেত নয়, বরং অত্যন্ত নিন্দার্হ বিষয়। আমরা দ্বিধাহীন ভাবে এরকম ঘটনাকে ধিক্কার জানাচ্ছি। তার সাথে এটাও বলছি যে সমগ্র সমাজ জুড়ে যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে তাতে আমরা চাইব কেবল ডাক্তার নয়, প্রতিটি পেশার মানুষ তিনি শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী যাই হোন না কেন, প্রত্যেকেই নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব বজায় রাখবেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়ার ডক্টরস ফ্রন্টের প্রেস বিজ্ঞপ্তি, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫।









