Sub judice কথাটার অর্থ কি? ল্যাটিন শব্দবন্ধ এর সহজ অনুবাদ ‘বিচারাধীন বিষয়’, ইংরাজিতে ‘under judgement’। বিভিন্ন দেশে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে চর্চার নানা নিয়ম আছে। কিন্তু, মূল বিষয় হলো, বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়, এই ধরণের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা, বিশেষতঃ ক্রিমিনাল কেসে। বিশেষ করে, জুরি সিস্টেমে এই প্রভাবিত করার বিষয়টি বেশি করে প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু, আমাদের তো এখন জুরি সিস্টেম নেই, আর মিডিয়ার কল্যাণে সমস্ত কেসই প্রায় সরাসরি public domain এ। ‘জেসিকা লাল’ বা ‘নির্ভয়া’ কেস নিয়ে তো সারা দেশ তোলপাড় হয়েছে, ‘জেসিকা লাল’ কেসে পুনর্বিচার হয়েছে, তাহলে??
সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠক তো live streaming হচ্ছে। সেখানে আধিকারিকদের আমেরিকান সিস্টেমে ‘first name’ ধরে ‘তুমি’ সম্বোধনে সর্বসমক্ষে ভর্ৎসনাও চলে আসছে, জানি না কোন নিয়মে সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের জনতার সামনে ‘হেয়’ করা যায়। যাক, তারা যখন আপত্তি করছে না আমাদের কী, হতে পারে তারা গর্ববোধ করে কতো কাছের লোক হয়ে উঠেছে বলে!!
আচ্ছা, সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা কি সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সব সময় দেন? নিশ্চয়ই না, অনেক ক্ষেত্রেই তারা উত্তর এড়িয়ে যান,বা, সরাসরি জানিয়ে দেন কিছু কারণে (যেটা সাংবিধানিক/প্রশাসনিক/ নিরাপত্তা জনিত, অনেক কিছুই হতে পারে) এর উত্তর দিতে কিংবা আলোচনা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারছেন না। তাহলে, বিতর্কিত বিষয় উঠলে তার উত্তর না দিলেও চলতো। আসলে, সমস্যা তো অন্য জায়গায়, এমন অনেক অস্বস্তিকর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো যা উত্তর দেওয়া প্রায় অসম্ভব, অন্ততঃ সর্বসমক্ষে!! কিন্তু, public figure হলে তো সেগুলোর উত্তর দিতেই হবে, নাহলে মানুষের পুঞ্জীভূত সন্দেহ আরো দৃঢ়, আরো ঘনীভূত হয়ে উঠবে!! প্রথম থেকেই ‘তিলোত্তমা’র হত্যা রহস্যকে প্রশাসনিক উদ্যোগে ভীষণই জটিল ও সন্দেহজনক করে তোলা হয়েছে। তার কিছুটা হলেও সংশয় মোচনের সুযোগ এখানে ছিল বৈকি, কিন্তু উনি সে রাস্তা সযত্নে পরিহার করলেন, হতে পারে অন্য কোনো গভীর ‘সুচিন্তিত পরিকল্পনা’ অপেক্ষা করে আছে। বুঝতে পারছি না, সেই বড় নাটকে এই জুনিয়র ডাক্তাররা না বুঝেই কোনো ফাঁদে পা দিয়ে ফেললো না তো? বৃহত্তর রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে তাদের ‘বোড়ে’ হিসাবে ব্যবহার করতে দেখলেও বিন্দুমাত্র আশ্চর্য হবো না।
হতে পারে, সমস্ত কিছু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার জন্য লড়াইটা ‘জনগণ বনাম ডাক্তার’ এই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার এটা একটা ধাপ মাত্র। কারণ, এই মুহূর্তে জুনিয়র ডাক্তারদের উপর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে, সরকারি-বেসরকারি সমস্ত ডাক্তাররা ঝাঁপিয়ে পড়বেন, এটা বোধহয় স্বতঃসিদ্ধ, সে কোনো চিকিৎসক সংগঠন ডাক দিক বা না দিক। সরকার কি ইচ্ছে করেই সেই দিকে পুরো ঘটনাবলী নিয়ে যেতে চাইছে?! চাইলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ সত্যি করে এরা জনগণের স্বার্থকে ‘থোড়াই কেয়ার’ করে।
কোথায় কে ক্যাথিটার না পাল্টানোর জন্য মৃত্যুবরণ করলো, এই সব তথ্য আহরণে সময় ব্যয় না করে সোজাসুজি বিক্ষোভরত ডাক্তারদের সঙ্গে সহজ ভাবে আলোচনা করে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো কী অনেক সোজা সরল কাজ হতো না?? নবান্ন কেন, স্বাস্থ্য ভবনেই তো আলোচনা করা যেতো, উনি তো স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বটে, আর স্বাস্থ্য ভবন ওনারই নিয়ন্ত্রণাধীন!!
সত্যি করে বলতে গেলে, সমস্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমরা ডাক্তাররাও চাই, সকলে দ্রুত কাজে ফিরে যাক, পিজিটি (post graduate trainee) দের পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কতটা অংশীদারি সে আলোচনা নাহয় পরেই করা যাবে। এটা খুব অবাক কান্ড নয় যে, এতো সব ‘সুপার স্পেশালিটি’ হাসপাতাল দিকে দিকে হওয়ার পরেও লক্ষ লক্ষ রোগীকে কোলকাতার ও তার বাইরে সীমিত সংখ্যক মেডিকেল কলেজেই ছুটে আসতে হয় কেন?? সেগুলো কি তাহলে শুধুই ‘সাইনবোর্ড’?? স্বাস্থ্য সচিব মিডিয়া থেকে ‘কেস’ সংগ্রহ করছেন, কোন কোন ব্যক্তির বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে। এর আগেও তো মিডিয়ায় কতো রিপোর্ট থাকতো, ‘চার পাঁচটা হাসপাতাল ঘুরে ফিরে এলো সঙ্কটাপন্ন রোগী’, তখন আপনারা কি বারে বারে সাংবাদিক বৈঠক করতেন কিংবা সুপ্রীম কোর্টে ‘মুভ’ করেছিলেন? অবশ্য, করলে কার বিরুদ্ধেই বা করতেন!!!
আসলে, সত্যিই আমরাও কিংকর্তব্যবিমূঢ় না কি বলে সেই অবস্থায়। বুঝতেই পারছি না, পুরোটাই একটা বিরাট চালাকি(যা আমাদের বুদ্ধির লেভেলে বোঝা একেবারেই অসম্ভব), না, ‘নিশিতে পাওয়া’ মানুষের মতো মহা সর্বনাশের পথে, ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ‘অনুপ্রাণিত’ পদক্ষেপ….. কোনটা???
তবে, যেটাই হোক, সামনের দিনগুলো যে খুব সুখকর উৎসবমুখর হতে চলেছে, এ বিশ্বাস রাখার মতো মানসিকতা সত্যিই নেই……
তো, কী আর করা যাবে!!!










