তিলোত্তমা খুন হলো আর জি করে আর চাকরি চুরি হলো শিক্ষা দপ্তরে। এদের মধ্যে যোগসূত্র কি?
এটা বলার জন্যেই এই লেখা। ঘটনার পিছনের ঘটনা দেখতে পেলে আসল খেল বোঝা যায়।
পশ্চিমবঙ্গে একটি বিখ্যাত কোম্পানি আছে। তার নাম “লিপস এন্ড বাউন্স”। এর মালিক কে সেটা আমি বলবো না। এই কোম্পানির কুশীলবদের সঙ্গে চাকরি চুরির কি সম্পর্ক তাও আমি বলবো না। আপনারা সবাই জানেন। কালীঘাটের কাকু আসলে কার কাকু সেটাও আমি বলবো না। আমি শুধু এই “লিপস এন্ড বাউন্স” এর সঙ্গে আর জি করের কি সম্পর্ক সেটাই বলবো। “লিপস এন্ড বাউন্স” তৈরি করেনা এমন কোনো প্রোডাক্ট নেই। “লিপস এন্ড বাউন্স” এর কাছে টাটা বিড়লা আম্বানি শিশু। শুনেছি বিল গেটস ও “লিপস এন্ড বাউন্স” কে ঈর্ষা করে। এরকম প্রফিট ওরাও করতে পারে না।
যাই হোক এই “লিপস এন্ড বাউন্স” রাজ্যের পাঁচটি হাসপাতালে জল সরবরাহের বরাত পেয়েছিল। এর মধ্যে আর জি করও আছে।এবার অন্য সবকিছুর মতো “লিপস এন্ড বাউন্স” এর জল তৈরির কোনো কারখানা নেই। দুবাইতে আছে কিনা জানিনা তবে ভারতে নেই। “লিপস এন্ড বাউন্স” তখন একটি জলের কোম্পানির সঙ্গে জল কেনার চুক্তি করে। সেই জলের কোম্পানির মালিকের কাছে নিয়ম মতো হাজির হয়ে যায় তেহট্টের বিধায়ক। এসে বলে ভাই কাটমানিটা দে। তখন চোদ্দ লক্ষ টাকা ক্যাস এবং ৯৯০০০ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া হয়। এতেও বিধায়কের জনসেবার ইচ্ছে যায়না। বলে আরো দে। জলের কোম্পানির মালিক বলে আর দেবো না। তখন সেই বিধায়ক বলে হয় টাকা দে, নাহলে কেস দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেবো। সে তখন প্রাণভয়ে থানায় গিয়ে বিধায়কের নামে একটি এফ আই আর করে। পরে আর জি করের দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে সিবিআই আরেকটি FIR করে। সেখানে দেখা যায় যে বিধায়ক আর জি করের জল সাপ্লাই এর জন্য তোলা তুলেছে, সেই আবার প্রাথমিক মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক এর চাকরির জন্যেও বহুজনের থেকে টাকা তুলেছে। শুধু মাস্টারের চাকরির জন্য নয় স্বাস্থ্য দপ্তর এবং ফায়ার ব্রিগেডের চাকরির জন্যেও টাকা তুলেছে। এসবই CBI এর এফ আই আর এ নথিবদ্ধ আছে। এবার ভাবুন তেহট্ট এর দালাল যুক্ত আর জি করের জলের তোলা থেকে তিনটি সরকারি দপ্তরে চাকরি বিক্রির তোলাবাজিতে। আপনি যেকোনো দুর্নীতির দশটা দালালকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। দেখবেন তাদের মধ্যেই কয়েকটা আবার আর জি কর দুর্নীতিতে জড়িত আছে।
সুদূর তেহট্ট যখন জড়িয়ে যায় আর জি কর থেকে চাকরি চুরি সবেতে, সেখানে পানিহাটির বিধায়ক কাউন্সিলর এরা যে তিলোত্তমার দেহ দ্রুত দাহ করে দেবে তাতে আর আশ্চর্য কি।
আমরা এখন দুর্নীতির পিরামিডের নিচের তলা দেখতে পাচ্ছি। যতো তদন্ত এগুবে ততো পিরামিডের ওপরের লোকজন আলোর সামনে আসবে। শেষমেষ হয়তো দেখা যাবে চাকরি চুরির পরিকল্পনা আর তিলোত্তমাকে খুনের পরিকল্পনা যে বা যারা করেছে তারা হয়তো একই লোকজন। আদালত এর ওপর মানুষ যে ভরসা রেখেছে আদালত যদি তার সন্মান রাখতে পারে তাহলে এই চাকরি চুরি তিলোত্তমা হত্যা আরও অনেক দুর্নীতির নাটের গুরুরা জেল খাটবে।
শেষমেষ যদি এটাও দেখা যায় যে সব ঘোটালার নাটের গুরুরা একই লোকজন তাহলেও খুব একটা অবাক হবার কিছু নেই।
এটা হলফ করে বলা যায়, দুর্নীতির এই নিবিড় যোগাযোগের আবহে যেকোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আসলে পরোক্ষে হলেও তিলোত্তমার ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই। আশেপাশে যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করুন না কেন, সেটা তিলোত্তমার ন্যায় বিচারের লড়াইকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এই দুর্নীতির অদৃশ্য জাল দেখে এটাই মনে হচ্ছে,
“দুর্নীতির যোগাযোগ বিচিত্র রকম
রাবণের শৌচাগারে বিদুরের লোম”।









