সরকারি হাসপাতালে দু’ধরনের ডাক্তার থাকেন। একদল, যাঁরা সরাসরি রোগীর চিকিৎসার কাজে যুক্ত থাকেন। আরেকদল, যাঁরা হাসপাতাল-প্রশাসক, হাসপাতালটা চালানো যাঁদের কাজ।
রোগীর চিকিৎসা করার সময় কী আছে আর কী নেই-এর যুক্তির সুযোগ নেই, যা আছে তাই দিয়েই চালাতে হয়। আইভি চ্যানেল করতে গিয়ে মেঝেতে রক্ত পড়ে গেলে ডাক্তার নিজেই তুলো দিয়ে মুছে দেন – ক্ষেত্রবিশেষে নার্সও সে কাজ করেন – নইলে এর-তার পায়ে পায়ে সেই রক্ত সারা ঘরময় হয়ে nuisance হয়ে যাবে। রোগী বমি করে ফেললে, সে বমি তখুনি পরিষ্কার না করা গেলেও ওই একই সমস্যা – nuisance এবং বাকি রোগীদের অস্বস্তি। ডাক্তার নার্স বা উপস্থিত পরিজন – কাউকে না কাউকে তা পরিষ্কার করে ফেলতে হয়। সাফাইকর্মী আছে কি নেই, ডাকলে তিনি তখুনি আসবেন কিনা, এসব হিসেবের সময় থাকে না।
হাসপাতাল-প্রশাসকদের দায় অথবা দায়িত্ব খানিকটা আলাদা। সাফাইকর্মী যে অপ্রতুল, সেটা তাঁরা জানেন – সেই অপ্রতুলতাকে শিরোধার্য করেই কাজটা করতে হয় – এবং প্রতিনিয়ত কীভাবে কাজ উতরোয়, সেটা তাঁদের চেয়ে ভালো করে কেউই জানেন না – কিন্তু অপ্রতুলতার কথাটা উপরমহল অব্দি জানিয়ে সম্পূর্ণ সুরাহা না হোক নিদেনপক্ষে ঘ্যানঘ্যান করাটা তাঁদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ার কথা বলে মনে হয়। কিন্তু মুশকিল হলো, এখনকার অধিকাংশ প্রশাসক, কুড়িজনের কাজ চারজন দিয়ে ‘চালিয়ে দেওয়া’-কেই বিশাল কৃতিত্বের কাজ বলে বিশ্বাস করেন এবং অপ্রতুলতা নিয়ে কোনও রকম অসন্তোষের কথা উপরমহল অব্দি জানাতেও ভয়/সঙ্কোচ/কুণ্ঠা বোধ করেন। যাঁরা উপরমহল অব্দি এসব সমস্যার কথা জানান, তাঁরা সচরাচর উপরমহলের প্রিয়পাত্র নন – এবং এখনকার সংস্কৃতির নিত্যকার জুম-মিটিংয়ে উপরমহলের কর্তারা বাকপ্রধান, বলতে ভালোবাসেন, শুনতে নয়। সুতরাং বলার সুযোগ কম, আগ বাড়িয়ে বলতে গেলে প্রত্যুত্তরে বিরক্তিবাচক উত্তর বা পাল্টা দোষারোপ শুনতে হয়। (ভয়ের সংস্কৃতির আসল ‘মজা’ ওইখানেই। সবসময় প্রোঅ্যাক্টিভ হয়ে ভয় দেখাতে লাগে না – সংস্কৃতিটা চারিয়ে দেওয়া গেলে সবাই ‘সাবধানে’ থাকে, কিছু বলার আগে পাঁচবার ভাবে।)
সুতরাং অপ্রতুলতার মধ্যে কাজ চালাতে গিয়ে প্রথম দলের চিকিৎসকরা কোনও রকম গাড্ডায় পড়লে দ্বিতীয় দলের চিকিৎসকরা দায়টা পুরোপুরিই প্রথম দলের চিকিৎসকদের উপর ফেলছেন। এবং ঘটনাচক্রে উপরমহলকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হলে, উপরমহল শিশুসুলভ সারল্যের সঙ্গে বলতে পারেন – সে কী, আমরা তো জানতামই না, আগে তো কেউই কিছু আমাদের জানায়নি!
যাঁরা ভাবছেন – এবং বিশ্বাস করতে চাইছেন – যে, এভাবে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে, তাঁদের প্রতি… নাহ্, থাক!











একদম বাস্তব চিত্রটা তুলে ধরলেন। একই চিত্র সম্ভবত প্রতিটা ক্ষেত্রেই, শুধু চরিত্র গুলো আলাদা। কি অসম্ভব সহনশীলতা আমাদের যে দিনের পর দিন এই অন্যায়ের সাথে আপোষ করে টিকে যাচ্ছি। মেনে নিচ্ছি, নিতে বাধ্য হচ্ছি। কবে যে এই অন্ধকার দূর হবে জানা নেই, কিন্তু সেই আশায় রোজ নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখি।