আপনাদের খেলা ধরে ফেলেছি মশাই। সিবিআই সংস্থা নয়, আজকের কথাগুলো বলছি আর জি করের তদন্তকারী টিমকে। প্রথমেই স্যালুট জানাই আপনাদের বিবেক কে। সরকারি চাকরি করার চাপ উপেক্ষা করে আপনারা ফরেনসিক রিপোর্ট আর কিছু সাক্ষীর বয়ান বাইরে বের করে দিলেন। আপনাদের মানবতা যে চাকরির বাধ্যবাধকতা খেয়ে ফেলতে পারেনি, এটা তারই প্রমাণ। আপনারা আবার প্রমাণ করলেন যে আপনারা আগে মানুষ তারপরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কর্মচারী। এর জন্য আপনাদের প্রণাম জানাই। আপনারা ঠিক ততটুকু খবর ফাঁস করলেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে সত্যটা কি। আপনাদের ফাঁস করা তথ্য যা মানুষকে জানিয়ে দিলো,
১)অপরাধ স্থল সেমিনার রুম নয়। অন্য কোথাও। আট তলার ওটি রুম সিল করে তারপর সেখানে তদন্ত করতে না গিয়ে এটাও আপনারা বার্তা দিলেন যে, কোথাও থেকে আপনাদের ওপর চাপ আছে। সেই জন্য তদন্ত এগোতে পারছেন না।
২) সাক্ষীদের বয়ান ফাঁস করে এটাও জানিয়ে দিলেন যে, আরও অনেকেই এর মধ্যে জড়িত আছে।
৩) আপনাদের হাতে যা তথ্য আছে সেটা আপনারা চার্জশিটে লিখতে পারছেন না। সেটাই পরোক্ষ ভাবে জানিয়ে দিলেন।
৪) এর আগেও আপনারা কোর্টে জানিয়েছিলেন এখানে তদন্ত করতে পুলিশ কমিশনার পর্যন্ত আপনারা যেতে অনুমতি পাচ্ছেন না। তদন্ত এগুতে না দেবার জন্য সরকারি দপ্তরের চাপ যে আছে সেটা, এই বাক্যেই পরিষ্কার।
৫) আপনারা সরকারি কর্মচারী। আপনাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে একমাত্র আপনারা যে দপ্তরের অধীনে কাজ করেন সেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর। আমরা এটাও জানি আমাদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শা মহাশয়ের অনুমোদন না থাকলে এই চাপ আপনাদের দেয়া যায়না।
৬) কেন্দ্রীয় ফরেনসিক রিপোর্ট এটাও উল্লেখ করেছেন যে তারা যখন আর জি করে তদন্তে যান, তখন সেখানে প্রতিবাদী মানুষ আর মিডিয়ার উপস্থিতি যথেষ্ট ছিলো। এই প্রতিবাদী জনতা আর মিডিয়ার উপস্থিতির কথা লিপিবদ্ধ করে কি এটাই বার্তা দিলেন যে, প্রতিবাদী জনতা আর মিডিয়া যদি চাপ সৃষ্টি করে তবেই ন্যায় আসবে? এই চাপ বজায় থাকলে তবেই আপনারা সত্য জানাতে পারবেন?
এদিকে আরেকটি ঘটনা সন্দেহের উদ্রেক করছে। কেন্দ্রীয় সরকার পন্থী যে দল রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছিলো, নবান্ন অভিযানের পর হঠাৎ তারা রাস্তার আন্দোলন ছেড়ে দিলো। মিডিয়াতে বাইট দেয়া আর তার সঙ্গে প্রতিবাদী ডাক্তার আর জনতাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক রঙে রাঙাতে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়লো। এটাও কি সেই একই জায়গার নির্দেশে? যারা হয়তো নির্দেশ দিয়েছে তদন্ত আর এগিও না। ঝুলিয়ে দাও। একই নির্দেশ হয়তো রাজনৈতিক দলটিও পেয়েছে। প্রতিবাদ আন্দোলনের বদনাম করো। ওদের আম জনতার থেকে আলাদা করে দাও। আন্দোলন চলতে থাকলে সেটিং করা মুস্কিল হয়ে যাবে?
ইতিহাস আমাদের এটুকু শেখায় যে সফল আন্দোলন করতে গেলে দেয়ালের লিখন পড়তে পারতে হয়। আপনারা দেয়াল লিখন লিখে দিয়েছেন রিপোর্ট ফাঁস করে।জানিনা প্রতিবাদী জনতা সেই লিখন পড়তে পারছে কিনা। পড়তে পারলে ন্যায় আসবে। নাহলে শেষমেষ হয়তো এটাই প্রমাণ হবে যে তিলোত্তমা নিজেই নিজেকে খুন করে নিজেই প্রমাণ লোপাট করেছে। যে দুর্বল চার্জশিটের ওপর ভিত্তি করে সঞ্জয় রাই এর বিচার হচ্ছে তাতে ওর জামিন পাওয়া বা বেকসুর খালাস পাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। খুনের কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। অকুস্থলে সঞ্জয়ের কোনো ফিঙ্গার প্রিন্ট নেই। খুনের জায়গা সেমিনার রুম কিনা তার আদৌ কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। সিসিটিভি ফুটেজ পুরোটা নেই। এরকম অজস্র নেই যেখানে সেখানে সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেয়া আর দশ মাথা রাবণকে স্যান্ডো গেঞ্জি পরানো একই রকম সমস্যার বিষয়।
এখন জনতাই ঠিক করুক তারা সেটিং মেনে নেবে নাকি আন্দোলনের মাধ্যমে বিচার ছিনিয়ে আনবে।
উই ডিমান্ড জাস্টিস।










