আপনাদের অনেক ভালো কথা বলেছি। আর বলা যাচ্ছে না। স্পষ্ট বলছি চ্যাংড়ামি বন্ধ করুন। অনেক ন্যাকামো হলো, এবার ঝেড়ে কাশুন। প্রথম চার্জশিটে আপনারা বললেন সন্দীপ ঘোষ আর অভিজিৎ মন্ডল প্রমাণ লোপাটে যুক্ত। বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে যুক্ত।ওদের গ্রেফতার করলেন। যথেষ্ট প্রমাণ ছিলো বলেই তো আপনারা এরকম দুই প্রভাবশালী কে গ্রেফতার করার হিম্মত দেখিয়েছিলেন। একজন চাকরিতে ইস্তফা দিলে, সেদিন বিকেলেই তাকে অন্য একটা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল মুখ্যমন্ত্রী নিজে করে দেন। আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলে রোগ নেই বলে যে যে হাসপাতাল ভর্তি করেনি তাদের মুখ্যমন্ত্রী নিজে দেখে নিতে বলেন। দেখে নেবার নির্দেশ সরাসরি দেন স্বাস্থ্য সচিবকে। এরকম দুই প্রভাবশালীকে আপনারা বিনা প্রমাণে অ্যারেস্ট করেছিলেন?
আপনারা কি জনগণকে গাধা মনে করেন। সুপ্রিম কোর্টে যা বলেন, শিয়ালদহ কোর্টে সেটা বলতে কি ভুলে যান?
এরকম ভুলে যাবার রোগ কবে থেকে আপনাদের ধরেছে?
একটা কথা শুনে নিন। চার্জশিট জমা না দেবার তিনটি কারণ থাকতে পারে।
১) আপনাদের হাতে সত্যি কোনো প্রমাণ নেই। এটা সর্বৈব মিথ্যা। আপনাদের হাতে যথেষ্ট প্রমান আছে। না থাকলে আপনারা কিছুতেই ওদের অ্যারেস্ট করতেন না।
২) ভারতে যেটা হামেশাই চলে সেটা হলো ঘুষ। আরেকটি সম্ভাবনা হলো ঘুষ খেয়ে আপনারা বেল করিয়ে দিলেন। এটাও বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই টিমের আগে ঘুষ নেয়ার ইতিহাস নেই। আর আপনারা এতো বোকাও নন যে এরকম একটি কেস, যেখানে সারা পৃথিবী নজর রাখছে, সেখানে আপনারা ঘুষ খাবেন। ফলে এই যুক্তিও ধোপে টেকে না।
বাকি পড়ে রইলো সর্বশেষ যুক্তি।
৩) প্রশাসনিক রাজনৈতিক সেটিং।কোথাও থেকে একটা ফেস কল এলো আর আপনারাও কাগজপত্র গুটিয়ে ডিফল্ট বেল পাইয়ে দিলেন। এটাই বাংলার মানুষের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা। কার ফোন পেয়ে এটা আপনারা করলেন তার উত্তর তো আপনারা দেবেন। জনগণ কিন্তু আপনাদের ছেড়ে দেবে না।
এবার একটু জ্ঞানের কথা শুনুন। গণতন্ত্রে সবচেয়ে সুবিধাভোগী হলো গণতন্ত্রের তিনটি স্তম্ভ। আইনসভার, নোকরসাহী এবং বিচার ব্যবস্থা। আমাদের ভরনপোষণ বিলাস ব্যাসন সব আসে জনগণের দেয়া ট্যাক্সের টাকায়। জনগণ এটা দেয় সামান্য কিছু পাওয়ার জন্য। ন্যায় বিচার এই চাওয়ার অন্যতম।
মানুষ এমনিতেও খুবই কষ্টে আছে। চাকরি নেই, রোগ হলে হাসপাতালে বেড নেই, অনেক নেই কে নিয়ে মানুষ জর্জরিত। এরপরেও মানুষ গণতন্ত্র টিকিয়ে রেখেছে গণতন্ত্র ভালোবাসে বলেই। মানুষ নৈরাজ্য চায়না বলেই। ন্যায় পাওয়ার বদলে যদি বারবার মানুষ দেখে যে সেটিং হয়ে যাচ্ছে। অন্যায় মাথা উঁচু করে সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাহলে একদিন যদি মানুষের সম্মিলিত ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে কিন্তু সেটা গণতন্ত্রের পক্ষে খুব ভয়ংকর দিন হয়ে উঠতে পারে। আমি মনে প্রাণে চাই এরকম না হোক। গণতন্ত্রের তিনটি স্তম্ভ মানুষের ক্ষোভ দুঃখ সব কিছুকে সংযত রাখার সেফটি ভালভ। সেগুলোকে ঠিক মতো কাজ করতে দিন। সেগুলো ঠিকমতো কাজ করেনি বলেই আজকেও আন্দোলন চলছে। আপনারা বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছেন।
আরেকটা জিনিস ভুলে যাবেন না। সারা পৃথিবীতে তিলোত্তমার জন্য মানুষ প্রদীপ জ্বালিয়েছিল। সেই প্রদীপ পানীহাটির তিলোত্তমার জন্য নয়। নিজের ঘরের মেয়ের জন্য। যে যে বাড়িতে প্রদীপ জ্বলেছিল সেই সব বাড়িতেই আজকে তিলোত্তমার বাবা মা ভাই বোন দাদা দিদি আছে। তারাই দ্রোহের মশাল নিয়ে রাজপথ পরিক্রমা করছে। যদি কোনোদিন তারা বুঝে যায় যে আপনারা সেটিংয়ের খেলা খেলছেন, আর তারা সবাই এই খেলা ভাঙতে আপনাদের কাছে সরাসরি দেখা করতে চলে যায়, তাহলে পারবেন তো সেটা পুলিশ দিয়ে আটকাতে?
আমি সর্বান্তকরণে চাই এরকম কিছু না ঘটুক। আপনারা সেটিংয়ের খেলা থেকে বেরিয়ে আসুন। যদি না আসেন তাহলে খেলা ভাঙার খেলা কীকরে খেলতে হয় সেটা রবি ঠাকুর বাঙালিকে শিখিয়ে দিয়ে গেছে।









