Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

পোনাপোতার গুপ্তধন ১

Screenshot_2024-04-07-10-36-01-89_680d03679600f7af0b4c700c6b270fe7
Dr. Aniruddha Deb

Dr. Aniruddha Deb

Psychiatrist, Writer
My Other Posts
  • April 7, 2024
  • 10:36 am
  • No Comments
স্কুল থেকে ফিরেই বিন্টু বুঝল আজও গোলমাল হয়েছে। নইলে বাবা বিকেলবেলা বাড়ি ফিরেছে কেন? কাজের জায়গায় গোলমাল শুরু হবার পর থেকে বাবা রোজ আরও দেরি করে বাড়ি ফেরে। আজকাল বিন্টুর সঙ্গে কথা বলার সময়ই হয় না, শনিবার-রবিবার করে বাবার সঙ্গে সিনেমা দেখা, খেলতে যাওয়া, এমনকি পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। মা-বাবার কথায় যতটা বুঝেছে, বাবার বন্ধুরা — সব্যসাচী আঙ্কল আর সৌমিত্র আঙ্কল, ব্যবসাটা চালাতে পারছে না। বাবাকে বলতে শুনেছে, বিলেত থেকে ফিরে ভেবেছিল ওদের একটু সাহায্য করলেই হবে, তাই ব্যবসায় অনেক টাকা দিয়েছিল। কিন্তু ব্যবসা চলেনি। শুনেছে বাবা বলছে, “ওদের দ্বারা হবেই না। এটা আগে আন্দাজ করলে এতগুলো টাকা দিতাম না…” শুনেছে, সোমিত্র আঙ্কলের মেয়েকে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে বের করে পাড়ার স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। শৈলী নাকি সে দিন থেকে আর বিছানা ছেড়েই ওঠেনি। বিন্টুরও আজকাল ভয় করে। যদি ওকেও এমন কোনও স্কুলে ভর্তি হতে হয়? ও অবশ্য আজ অবধি অনেক স্কুলেই পড়েছে, ইংল্যান্ডেই তো তিনটে। তবে আর যাই হোক, বাবা এর আগে কখনও এত তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে আসেনি।
বিন্টু একটু অপেক্ষা করল। একটা বুদ্ধি এসেছে। চুপি চুপি সিঁড়ি দিয়ে উঠলে মা-বাবার কথা শোনা যেতে পারে। এভাবে আড়িপাতা উচিত না, কিন্তু এ ছাড়া আর উপায়ই বা কী? মা-বাবা তো ওকে কিছু বলছেই না। এমনকি ক-দিন আগে বাবা একটানা বারো দিনের জন্য কোথায় চলে গেছিল, মা ওকে কিছু বলেইনি। ভয়ে বিন্টু রোজ কেঁদে কেঁদে ঘুমোত। মনে হত, ইংল্যান্ডে জিমির বাবা যেমন চলে গিয়েছিল সবাইকে ফেলে, আর আসেনি, তেমন বাবাও যদি আর কোনওদিন… তবে বাবা ফিরে এসেছিল। যদিও ফিরে এসে বলেনি কিছুই। গম্ভীর মুখে, সকালে খাবার টেবিলে বিন্টুকে পড়াশোনা ঠিক মতো হচ্ছে কি না জিজ্ঞেস করে অফিস চলে গিয়েছিল।
দুজনকে কতদিন হাসতে দেখেনি বিন্টু! এর আগে বাড়িটা সারাদিন হাসাহাসিতে ভরা থাকত। সেদিন স্কুলের ঘটনাটা ভাবতে ভাবতে রাস্তা দিয়ে হাসতে হাসতেই বিন্টু ফিরেছিল। মাকে বলতে যাওয়ামাত্র মা কেমন গম্ভীর গলায় বলেছিল, “আচ্ছা, এখন এসো, নোনতা সুজি করেছি, খেয়ে নাও।”
ফলে লুকিয়ে শোনা ছাড়া আর গতি কী?
পা টিপে টিপে সিঁড়ি দিয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত লাভ হল না। সিঁড়ির মাথা অবধি যাওয়া মাত্র শোবার ঘরের দরজা খুলে দুজনে বেরিয়ে এল। মা বলছে, “বিন্টু এল বলে…” বলতে বলতে বিন্টুকে দেখে বলল, “আরে, তুই এসে গেছিস? আয়, চাউ মিন করেছি।”
পরদিন ছুটি। সকালে খেতে বসে বাবা বলল, “স্কুলে সবচেয়ে ভালো কী লাগে তোর?”
হঠাৎ প্রশ্নে বিন্টুকে একটু ভাবতে হল। কী ভালো লাগে? পড়াশোনা? না। সেটা ভালো লাগে বাবা যখন পড়ায় তখন। এখানে খেলাধুলোর ব্যবস্থা নেই, তাই সেটা বলা যাবে না… বন্ধু? তাই হবে। সেই উলটন প্রাইমারী স্কুলের কথা মনে পড়ে গেল। বন্ধুদের ছেড়ে যেতে হবে বলে বাচ্চা বিন্টুর হাপুস নয়নে কান্না…
বাবা বলল, “কী হল?”
বিন্টু খেয়াল করল, মা বাবা এতক্ষণ খাওয়া থামিয়ে দুজনেই চুপ করে ওর দিকে চেয়ে আছে। মার হাতে চায়ের কাপ ধরা, ঠোঁট অবধি পৌঁছয়নি। বাবার টোস্টও আকাশে। কেমন যেন সিনেমার দৃশ্য স্টিল হয়ে গেছে। থতমত খেয়ে বলল, “বন্ধু…”
বাবা-মা মুখ তাকাতাকি করল। বিন্টু এবার আরও একটু ঘাবড়ে গেল। বাবা বলল, “এদের ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হবে, বিন্টু?”
ঠিক ধরেছিল। বন্ধু ছেড়ে যাবারই কথা হচ্ছে। তার মানে কি আবার ইংল্যান্ড?
বিন্টুর প্রশ্ন শুনে বাবা-মা হাসল। বলল, “ইংল্যান্ড না। ওখানে আর আমার ফেরার ইচ্ছে নেই। তবে এখানে আর থাকা যাবে না। তাই ভাবছি — আমরা পোনাপোতায় চলে যাব। ওখানে তুই আমার স্কুলেই পড়বি — একটু অসুবিধা হবে…”
পোনাপোতা! বাবার গ্রাম! ছোটোবেলায় বাবা যে বাড়িতে থাকত! ছোটোবেলায় বাবা যে স্কুলে পড়েছিল! ছোটোবেলায় বাবা যে মাঠে ফুটবল খেলত! ছোটোবেলায় বাবা যে বাগানে ফল চুরি করত, ছোটোবেলায় বাবা যে নদীতে সাঁতার কাটত, নৌকো চালাত, মাছ ধরত…
বিন্টুর কতদিনের ইচ্ছে ওই গ্রামে গিয়ে থাকবে। কিন্তু বাবা মা হাসত। ইংল্যান্ড থেকে ফেরার সময়েই বলেছিল, ওখানে অনেক অসুবিধে — তাই শহরেই যেতে হবে…
বিন্টু আনন্দে “ইয়াহুউউউউউউউউউ” বলে চিৎকার করে খাবার টেবিল ছেড়ে ছুটে নিজের ঘরে গিয়ে খাটে ডিগবাজি খেতে শুরু করল বলে শুনতেও পেল না, মা বলছে, “এখনও অবশ্য ওখানে সব ঘরে ইলেক্ট্রিসিটি নেই — সেগুলো আমরা যাওয়ার পরে…”
বিন্টুর ইচ্ছে ছিল বাবার ছোটোবেলার মত রেলগাড়ি করে পোনাপোতা যাবে। বাবারা যখন ছোটো ছিল, তখন সকাল বেলার ট্রেন কু-ঝিকঝিক করে দুপুরের পরে এসে পৌঁছত। কিন্তু বাবা বলল তাতে অসুবিধা। লটবহর নিয়ে স্টেশনে যাওয়া, ব্রেকভ্যানে মাল তোলা, তার পরে রায়সিংহ থেকে তো সেই গাড়ি করেই হবে। ঝামেলা বেশি।
প্রথমে মন খারাপ হয়েছিল, কিন্তু পরে বুঝল আজকাল তো কয়লার ইঞ্জিনের দিন নেই। ইলেকট্রিক ট্রেন রায়সিংহ পৌঁছে যায় দু-ঘণ্টায় — মজা হবার সময় কই? বাবা একটা মস্তো জীপের মত গাড়ি ভাড়া করল, তার ছাদে আর পেছনে বসার জায়গায় মালপত্র তোলা হল, আর তার পরে ভোর থাকতেই ওরা রওয়ানা হয়ে গেল।
শীতের শেষের কুয়াশা মাখা ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে যখন হাইওয়ে ছেড়ে গাড়ি গ্রামের রাস্তায় নামল, বিন্টুর উত্তেজনা আর বাধ মানে না। কালো পিচের রাস্তা উঁচু-নিচু, আঁকা-বাঁকা। দু-ধারে বড়ো বড়ো গাছ ঝুঁকে পড়ে রাস্তার ওপর চাঁদোয়া টাঙিয়েছে। এই পুকুরপাড়ে মস্তো গাছ, ওই পথের ধারে ছোট্টো এইটুকুনি ছটফটে বাছুর, সেই মাঠের মধ্যে কাঠির মাথায় একটা ওলটানো হাঁড়ির গায়ে সাদা চুনের চোখ-নাক, কোথায় রাস্তার পাশ থেকে উড়ে গেল একটা নীল পাখি, কোথাও দূরের পুকুরে বেগনে ফুল, বিন্টু তাকায় আর দেখে, দেখে আর ফুরোয় না।
“মা, ওগুলো ধানগাছ?”
মা বলল, “গাছ কই রে? ধান তো কাটা হয়ে গেছে। ওগুলো ক্ষেতে কেবল ধানের খড় পড়ে আছে। ভালো করে দেখ।”
বাবা বলল, “পোনাপোতা পৌঁছোই, চল, কাছ থেকে দেখবি।”
“পোনাপোতা দেখতে এরকম?” জানতে চাইল বিন্টু।
বাবা বলল, “প্রায়। গ্রামের মধ্যে এরকম খোলা নয়, তবে শহরের মতো ঘিঞ্জি তো নয়ই। আর গ্রামের বাইরে এরকম — তবে নদী আছে খানিক দূরেই।”
“আর এরকম আকাশ?”
“আকাশ!” বাবা হা-হা করে এমন হাসল যে বিন্টু চমকে উঠল। তারপরেই মনে হল, বাবাকে অনেকদিন এত হাসতে শোনেনি। গ্রামে যাচ্ছে বলে বাবারও খুব আনন্দ হচ্ছে।
আড়চোখে মা-র দিকে তাকাল বিন্টু। মা-ও বাইরে তাকিয়ে। তবে মা কি খুশি? বিন্টু বোঝার জন্য মা-র দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু হঠাৎ মা ওর দিকে ফিরতেই চোখাচোখি হয়ে গেল, আর মা জিজ্ঞেস করল, “কী রে?”
বিন্টু বলল, “গ্রামে যাচ্ছি বলে তোমার আনন্দ হচ্ছে?”
উত্তরে মা ওকে বুকে জড়িয়ে ডান হাত দিয়ে থুতনি ধরে শব্দ করে গালে চুমু খেল। বিন্টু লজ্জায় চমকে উঠে তাড়াতাড়ি তাকাল আয়নার দিকে — ড্রাইভারের নজর রাস্তার দিকে। নিশ্চিন্ত হয়ে মায়ের থেকে একটু সরে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল। মা যে কী না! ড্রাইভারের সামনে… একটুও যদি কাণ্ডজ্ঞান থাকে!
পোনাপোতার রাজবাড়ি অবশ্য এখন নামেই রাজবাড়ি। বাবা বলেছিল, তালপুকুর, কিন্তু ঘটি ডোবে না। মা পরে কথাটার মানে বলে দিয়েছিল। পৌঁছনো-মাত্র বাবার কথাটা বুঝল বিন্টু। বাইরের গেট থেকে ভেতরের প্রাসাদ, সবই ভাঙাচোরা। গেটের দুপাশের থামের ওপর মস্ত দুটো সিংহ ছিল — এখন আর কী প্রাণী তা-ও চেনার উপায় নেই।
ভাঙা লোহার গেটের অর্ধেক ক্ষয়ে গেছে, বাকিটা ঝুলে পড়ে মাটিতে গেঁথে আছে। খোলা-ই থাকে, বন্ধ হয়ই না। গেট থেকে নুড়ি ফেলা রাস্তা গাড়িবারান্দা অবধি, সেও আগাছায় ভর্তি। বাবা সাবধান করে দিল, বিশাল বাগান এখন কেবল জংলি আগাছা আর সাপের বাসা। বাগানের মাঝখানে বিরাট পুকুরে জল নেই এক ফোঁটা, মাঝখানে একটা ফোয়ারার মাঝখানে একটা পরী দাঁড়িয়ে আছে একা।
জ্যেঠু বেরিয়ে এসেছে। জ্যেঠু বিন্টুর প্রিয় খেলার সাথীও বটে। এক সময়ে ওরা ইংল্যান্ডে খুব কাছাকাছিই থাকত। জ্যেঠু, জেঠিমা ওদের ছোট্টো মেয়েকে নিয়ে আসত ওদের বাড়িতে। ওরাও যেত প্রায়ই। অ্যাকসিডেন্টে জেঠিমা আর রিক্তা মরে গেছিল। জ্যেঠুর একটা পা কাটা গেছিল। তার পরে জ্যেঠু দেশে ফিরে এসে এই বাড়িতে থাকে। এতদিন একাই থাকত, এখন ওরা-ও থাকবে।
বিশাল বাড়ি। সামনের বাড়ির একতলায় কাছারি — “আগে এখানে অফিস ছিল,” বলল জ্যেঠু — বৈঠকখানা, আর খাবার ঘর। ঘরটায় ফুটবল খেলা যায়! খাবার টেবিলটাই একটা ব্যাডমিন্টন কোর্টের সাইজ! দোতলায় লাইব্রেরী, আর বলরুম। “বলরুম অবশ্য পরে। তারও আগে বাইজী নাচত,” বলল জ্যেঠু। “আমরা জমিদার ছিলাম তো!”
ভেতর-বাড়ির দুটো ভাগ। পুবের মহল আর পশ্চিমের মহল। জ্যেঠু বলল, “আমরা ছোটোবেলায় থাকতাম পুবের মহলের নিচতলায়। আমি এখনও তাই থাকি। কিন্তু অন্য মহলগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে বলে তোমাদের থাকার ব্যবস্থা পশ্চিম মহলের দোতলায়।”
জ্যেঠুর সঙ্গে পুবের মহলের একতলার বসার ঘরে ঢুকে বিন্টু অবাক। জ্যেঠু যে বলল, লাইব্রেরী দোতলায়! বিন্টুর মুখ দেখে জ্যেঠু বলল, “আমার পক্ষে ক্রাচ নিয়ে রোজ বাহান্নটা সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় যাওয়া আর সম্ভব নয়। তাই এই বৈঠকখানাই আজ আমার লাইব্রেরী। এখানেই পড়াশোনা করি। বই-টই যা লাগে নামিয়ে আনে আমার সেক্রেটারি অনুপ, আর কাজের লোক বাঞ্ছা। এখন তুমিও পারবে আমার জন্য বই নিয়ে আসতে।”
জ্যেঠু ইংল্যান্ডে প্রফেসর ছিল। এখনও সারাদিন পড়াশোনা করে। বিন্টু ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে বলল, “বাহান্নটা সিঁড়ি! সে তো অনেক উঁচু!”
জ্যেঠু হেসে বলল, “আগের দিনে এমনই উঁচু উঁচু, বড়ো বড়ো সব বাড়ি হত।”
মা লেগে গেল বাগানের কাজে। বাবা ব্যস্ত সকাল থেকেই জমি আর চাষবাস সামলাতে। বিন্টু স্কুলে ভর্তি হয়েছে। মাস্টারমশাইরা সকলেই প্রকাশের ছেলেকে পেয়ে উত্তেজিত। সারা দিন কাটে স্কুলে, তার পরে ফুটবল মাঠে। স্পোর্টস স্যার অনিমেষদা আসে রোজ। তালিম হয়। অনিমেষদা বলে, “তোর বাবা আমার সময়ে সেন্টার ফরোয়ার্ড খেলত। তুই যা খেলছিস, স্কুল টিমের স্ট্রাইকার হওয়া আটকাবে কে!” এ ছাড়া গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে হইচই, নদীতে নৌকা বাওয়া, সাঁতার কাটা, এ সব তো আছেই। তার পরে বাড়ি ফিরে পড়াশোনা। খানিকটা বাবার সঙ্গে, খানিকটা জ্যেঠুর সঙ্গে। জ্যেঠু শুধু বই থেকে পড়ায় না। জ্যেঠুর ইতিহাসে গল্পই বেশি। শুধু আকবর বাদশার সঙ্গে যোধপুরের রাজার যুদ্ধের বা ক্লাইভের কাছে সিরাজদৌল্লার হারার গল্প না, সেই সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস। ওদের নিজেদের পরিবারের ইতিহাস। ইংরেজদের সঙ্গে পোনাপোতার রাজাদের লড়াইয়ের ইতিহাস, ফরাসীদের বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস… সেই সঙ্গে…
“তোর ঘরে একটা রাজার ছবি আছে দেখেছিস? কোলে তরোয়াল, মাথায় পাগড়ি?”
“দেখেছি জ্যেঠু। বাপরে, না দেখে উপায় আছে? প্রায় ছাদ অবধি!”
“যা বলেছিস। কে জানিস? পৌণ্ড্রনারায়ণ।”
“বাপরে কি নাম!”
“তখনকার দিনে অমনিই নাম হত।” তারপর গলা নামিয়ে বলল, “পৌণ্ড্রনারায়ণ ডাকাত ছিলেন, জানিস?”
“ডাকাত! আমাদের পূর্বপুরুষ?”
“ইংরেজরা তাই বলত,” বলল জ্যেঠু। “ওদের ট্যাক্সের টাকা লুঠ করে নিত। পরে সেই টাকা দিয়ে ইংরেজদেরই খাজনা দিত। রাজার কাহার-পেয়াদারা অন্য গ্রামে গিয়ে ইংরেজদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা জমিদারদের ওপর লুঠপাট চালাত। তাকে ডাকাত বলবে না তো কী বলবে?”
বিন্টু ভেবে পেল না কী বলবে। কথায় কথায় স্কুলে ইতিহাস শিক্ষক নিহার-স্যারকে বলল কথাটা। ইতিহাস স্যারও গ্রামেরই লোক। স্যার প্রায়ই ওদের পোনাপোতার ইতিহাস সম্বন্ধে ছোটো ছোটো গল্প বলেন। সবই লোকমুখে শোনা কথা, সত্যি ইতিহাস কি না কেউ জানে না। বললেন, “তোর জ্যাঠামশাই ঠিকই বলেছেন, আবার ঠিক নয়ও। অনেক সময় কোন দিক থেকে দেখছি না বুঝলে ভালো মন্দ বোঝা যায় না। ধর রঘু ডাকাত — সে তো ডাকাতি করে গরিবদের সব দিয়ে দিত। বা ইংল্যান্ডের রবিন হুড। সেও তো ডাকাতিই করত, তাই না?”
বিন্টুর সব গুলিয়ে গেল।
একদিন বিন্টু বলল, “ডাকাতি করে পাওয়া টাকা-কড়ির কিচ্ছু বাকি নেই? বাবা বলছিল টাকার অভাবে সব আটকে যাচ্ছে…”
জ্যেঠু মাথা নেড়ে বলল, “তোর বাবার ইচ্ছে ছিল এই বাড়িটা সারিয়ে সুরিয়ে রাজবাড়ির ইতিহাসটা কাজে লাগিয়ে একটা মিউজিয়াম করবে। আমাদের পারিবারিক ইতিহাস তো কম না, সেটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে বলতে পারলে একটা ভালো কিছু হতে পারত।”
বিন্টুর দারুণ মজা লাগল। কিন্তু জ্যেঠু পারত বলল কেন? পারবে না? জিজ্ঞেস করল, “কোনও টাকা নেই?”
মাথা নাড়ল জ্যেঠু। বলল, “না। এই এত বড়ো বাড়ি সারিয়ে তুলে, বাগান বানিয়ে তাতে নতুন করে মিউজিয়াম বানানো আমাদের সাধ্য নয়।”
খানিকক্ষণ দু-জনে চুপ করে বসে রইল। তার পরে জ্যেঠু বলল, “বাড়িটা একটু সারাতে না পারলে চলবে না। বাগানটাও জঙ্গল। সেখানেই তো খরচ অনেক।”
দিনের শেষে শোবার সময় পৌণ্ড্রনারায়ণের ছবিটার দিকে চোখ পড়ল। এমন ভাবে আঁকা, যে-দিক থেকেই তাকাও, মনে হবে রাজামশাই তোমারই দিকে চেয়ে আছেন। এ ক-দিনে অভ্যেস হয়ে গেছে, আগে অস্বস্তি হত। মনে মনে বলল, “এত ডাকাতি করেছ ইংরেজ রাজার ধন, কোথাও কিছু লুকিয়ে রাখতে পারনি?”
মনে হল পৌণ্ড্রনারায়ণ ওর দিকে তাকিয়ে হাসল। অন্ধকার ঘরে কত কী মনে হয়!
আগামী রবিবার সমাপ্য
PrevPrevious“আহা আজি এ বসন্তে, কত ফুল ফোটে”
Nextএক সেনা ডাক্তারের ডায়েরী ৪Next
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান।। ৯ মার্চ ২০২৬

March 12, 2026 No Comments

ভালোলাগা এক অভিজ্ঞতা

March 12, 2026 No Comments

গতকাল রাত এগারোটা পঞ্চাশে দিল্লি স্টেশন থেকে উঠেছিলাম ‘ত্রিপুরা সুন্দরী’ ট্রেনে। গন্তব্য: নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। পাঁচজন আমরা আসছি। আজ রাত ( ১০/০৩/’২৬) এগারোটা নাগাদ নিউ

এক রূপকথার‌ই গাঁয়ে….

March 12, 2026 6 Comments

শোনো এক গাঁয়ের কথা শোনাই শোনো রূপকথা নয় সে নয়।…… এমন এক গাঁয়ের কথা পড়ে আমার অবশ্য রূপকথা বলেই মনে হয়েছিল। আর মনে হবে নাই

প্রতিবাদের আওয়াজ হাওড়ার আমতায়

March 11, 2026 No Comments

অভয়ার খুন ও ধর্ষণ এর খবর জানার পর আর জি কর হাসপাতাল থেকে শুরু করে, সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ছুঁয়ে মানুষের আর্তনাদ ঘরে

আমরা অপেক্ষা করছি ন্যায়বিচারের

March 11, 2026 No Comments

মার্চ ১০, ২০২৬ ১৯ মাস ধরে লড়াই চলছে। অভয়ার ন্যায়বিচারের জন্য, মেয়েদের সুরক্ষার পক্ষে, দুর্নীতির বিপক্ষে। রাজপথ থেকে আলপথ, থানা থেকে স্বাস্থ্যভবন, লালবাজার, সিবিআই কোনো

সাম্প্রতিক পোস্ট

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান।। ৯ মার্চ ২০২৬

Abhaya Mancha March 12, 2026

ভালোলাগা এক অভিজ্ঞতা

Sukalyan Bhattacharya March 12, 2026

এক রূপকথার‌ই গাঁয়ে….

Somnath Mukhopadhyay March 12, 2026

প্রতিবাদের আওয়াজ হাওড়ার আমতায়

Biswajit Mitra March 11, 2026

আমরা অপেক্ষা করছি ন্যায়বিচারের

Abhaya Mancha March 11, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

612876
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]