তৎকালীন উপনিবেশগুলির সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয় মুক্তি আন্দোলন প্রসঙ্গে বিখ্যাত বামপন্থী তাত্ত্বিক ও বিপ্লবী নেতা তথা সাইকোলজিস্ট ডাক্তার ফ্রঁৎস ফানোঁ একবার একটা কথা বলেছিলেন, “National liberation and the resurrection of the state are the preconditions for the very existence of a culture”। আজ ইংরেজি বছরের প্রথম দিনে কথাটা খুব মনে পড়ছে।
ইংরেজরা সেই কবে আমাদের দেশের শাসনভার আমাদের হাতে তুলে দিয়ে চলে গেছে। আমরা নাকি স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র। তো সেই স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকদের মননে প্রোথিত কালচার, ট্র্যাডিশন, বা কাস্টমস যাই বলুন না কেন তার মনে উপনিবেশবাদের উপস্থিতি কাল সন্ধ্যে থেকেই অস্থিতে অস্থিতে টের পাচ্ছি। মাঝরাত অবধি বোমা ফাটানোর আর ডিজের আওয়াজে ঝালাপালা হতে হতে ভাবছিলাম যে এটা ঠিক কাদের বর্ষশেষ বা নববর্ষের ফুর্তির প্রকাশ। উত্তরটা সহজ। প্রায় আপামর জনসাধারনের।
একটুও বাড়িয়ে বলছি না। সকালে হাউজিং কমপ্লেক্স এর গেটের দারোয়ান থেকে শুরু করে বিশেষ স্বাস্থ্য সচিব, সবাই একধারসে হ্যাপী নিউ ইয়ার জানিয়ে যাচ্ছেন। অন্য দপ্তরের পোস্টিং কিন্তু আমার অধীনে কাজ করেন এমন প্রায় দুশো জন কর্মচারীর কাল রাত অবধি মাইনে হয়নি প্রশাসনিক জটিলতার কারণে। মেজাজটা তাই খিঁচড়ে ছিল। এর মধ্যে এত এত মানুষ হ্যাপী হয়ে আছেন বা আমাকে হ্যাপী থাকার অনুরোধ করছেন দেখে আরো খিঁচড়ে গেছে।
প্রসঙ্গত মনে পড়ল যে আমাদের একটা নিজস্ব নববর্ষ ছিল পয়লা বৈশাখ। সেদিনটা শুভ নববর্ষ বলা হতো। সেটা পাল্টে হ্যাপী নিউ ইয়ার হয়ে গেছে। যেমন ভাবে মুড়ি মুড়কি এর মোয়া আর তেমন কলকে পায়না। কেক খেয়ে হয় এই নববর্ষের দিনে। যার কপালে যেমন জোটে। বাঙালি আর বাঙালি নেই। সে আন্তর্জাতিক হওয়ার চেষ্টা করছে। আর ওদিকে জয়নগর এর মোয়া হেরে যাচ্ছে মিও আমরের প্লাম কেক এর কাছে। অথচ আমরা হ্যাপী, আমরা স্বাধীন।
আমরা বিশ্রী ভাবে টেস্ট ম্যাচ হেরে যাচ্ছি তবুও আমরা হ্যাপী কারণ বিরাট কোহলি স্যাম কনস্টাস এর সাথে অসভ্যতা করে নাকি মুহ তোর জবাব দিয়েছেন। জিনিসপত্রের দাম রকেটের গতিতে ঊর্ধ্বমুখী, নিজে গত একবছর দেড় কেজি ইলিশ মাছ কেনার সাহস পাইনি। চাকরি বাকরি নেই, কলকাতায় জুটলো না বলে বড় ছেলেটা ব্যাঙ্গালোর চলে গেল চাকরি করতে। হকের চাকরি আদায়ের জন্য কত ছেলে পুলে রাস্তায় রাত দিন ধর্না মঞ্চে আছে। একটা সময় ছিল যখন শিক্ষিত বাঙালি এই মিশ্রিত ফিরিঙ্গি কালচারকে কৃপার চোখে দেখতো এখন বাংলা মায়ের ইঙ্গ ছেলে হতে না পারলে আপনিই কৃপার প্রার্থী।
তথাকথিত নতুন বছরের প্রথম দিনে কিঞ্চিৎ কটু কথা বলার জন্য ক্ষমা প্রার্থী। তবে সবটাই তিক্ততা, রিক্ততা নয়, আশার আলোও আছে। যারা সুখী তাদের রাতজাগার পার্ক স্ট্রিট জুড়ে মোচ্ছব এর পাশাপাশি অভয়া এর বিচার নিয়ে অসুখী কিছু মানুষও তাদের আন্দোলন মঞ্চে রাত জেগেছেন, শপথ নিয়েছেন নতুন বছরে তাঁদের লড়াই জারি রাখার। লড়াই জারি থাকবে।
আজ নতুন করে শপথ নেয়ার দিন হোক। সুখী হয়ে পড়লে চিন্তা চেতনায় ধার ভোঁতা হয়ে যাবে, প্রতিবাদ করার সাহসটা হারিয়ে যাবে। তাই অসুখী ই থাকতে চাই। আনহ্যাপী নিউ ইয়ার সবাইকে।











লড়াই জারি থাকুক। যে কাজে নামা হয়েছে তা চালু থাকুক। অসুখী যাদের হবার তারা অখুশী থাকুক।
আমরা রাস্তায় থাকতে চাই। কারণ বিচার এখনো মেলেনি।
ব্রিটিশ যাবার আগে আমাদের সংস্কৃতিতে ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে তাদের কালচার বিশেষত তিনটে জিনিস —–
১) খ্রীস্টমাস উৎসব ২) হ্যাপি নিউ ইয়ার ৩) কুকুরের গলায় চেন লাগিয়ে রাস্তায় বেরোনো। আবার নয়া জামানায় নেতার আদেশে মানুষের হাসপাতালে পোষ্য কুকুরের ডায়ালাইসিস ও করানো যায়। দেশীয় পয়লা বৈশাখের নববর্ষের বদলে ইংরেজি হ্যাপি নিউ ইয়ার প্রাধান্য পেয়ে এখন উৎসবের বাড়াবাড়ি।
রাস্তা আমরা ছাড়ছি না।
তোমার কথা মানছি না।।
‘কল্পনা করে নি’* typos 😑 🙄
কী খবর তোমার। কেমন আছো।
কতদিন লেখো না যে।নাকি লিখছো আমি দেখতে পাচ্ছি না।😓😥🩵