Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

ঊর্মিমুখর: তৃতীয় পরিচ্ছেদ

chariot
Dr. Sukanya Bandopadhyay

Dr. Sukanya Bandopadhyay

Medical Officer, Immuno-Hematology and Blood Bank, MCH
My Other Posts
  • May 27, 2025
  • 6:08 am
  • No Comments

স্থানীশ্বর নগরীর দক্ষিণ উপান্তে একটি সাধারণ গৃহ। রাজ্যাভিষেকের আড়ম্বর হইতে অনতিদূরে অবস্থিত হইলেও সেই সাধারণ গৃহটিতে নগরীর বৈভব বা কোলাহলের কোনও প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না। গৃহের অভ্যন্তরে দৃষ্টিপাত করিলে অপরিসর প্রাঙ্গণ পার হইয়া, একধারে পাকশাল ও অপর অংশে গৃহস্বামিনীর শয়নকক্ষ দৃষ্টিগোচর হয়। সেই শয়নকক্ষে, সন্ধ্যাকালে, ঘৃতপ্রদীপের মলিন আলোকে একটি যুবতী শয্যায় বসিয়া শিব-গৌরীর বিবাহ আখ্যানের শ্লোক রচনা করিতেছিল।
‘ব্রহ্মায়ং — বিষ্ণুরেষ — ত্রিদশপতিরসৌ — লোকপালাস্তুথৈতে
সোহসৌ ভুজগপরিবৃতো ভস্মরূক্ষ্মঃ কপালী!
হা বৎসে বঞ্চিতাসীত্যনভিমতবর প্রার্থনাব্রীড়িভির্
দেবীভিঃ শোষ্যমানাপ্যুপচিত পুলকা শ্রেয়সে বোহস্তু গৌরী।

যুবতীর নাম দীপান্বিতা। সে উত্তম কাব্য রচনা করিতে পারিত।

দীপান্বিতা সুন্দরী নহে। নারীসৌন্দর্য্যের যাহা অমোঘ স্বাক্ষর, সেই তপ্তকাঞ্চনবর্ণ, পীনোদ্ধত যৌবন, নীরদসদৃশ কুঞ্চিত কেশদাম কোনও কিছুরই সে অধিকারিণী ছিল না। তথাপি, দুইটি ভ্রমরকৃষ্ণ নয়নের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে, দৃঢ় চিবুকে, অধরলগ্ন কোমল হাস্যে ধী ও কারুণ্যের যে দীপ্তি তাহার পরিমণ্ডলে ছড়াইয়া পড়িত, তাহা যেন অতুলনীয়।

যখন ধনাঢ্য বৈশ্য-শ্রেষ্ঠীদের পৃষ্ঠপোষকতায় নগর-সমাজে অবারিত বিলাসলীলা চলিতেছে, রঙ্গিনী নারীর কামচাতুর্যের রসোল্লাসে রাজা হইতে সাধারণ নাগরিকের অন্তঃপুর অবধি ভাসিয়া যাইতেছে, সেই সময় এই অদ্ভুত নারী বিদ্যানুরাগ, কাব্যচর্চা এবং সদ্ধর্মাচরণকে আপন নশ্বর জীবনের মোক্ষ মানিয়া নীরবে কালাতিপাত করিত।

রাজ্যবর্ধনের রাজ্যাভিষেক সম্বন্ধে সে নিশ্চয় অবগত ছিল, কিন্তু সেই অনুষ্ঠান বিষয়ে তাহার মনে কোনওরূপ ঔৎসুক্য ছিল না। রাজ্যটা যখন রহিয়াছে, তখন রাজ্যশাসনের জন্য একজন রাজা অবশ্যই থাকিবেন। তিনি বয়োবৃদ্ধ হইলে বংশজ কেহ রাজ্যচালনার ভার আপন স্কন্ধে তুলিয়া লইবেন, ইহা তো স্বতঃসিদ্ধ, চন্দ্রসূর্যের উদয়-অস্তের ন্যায় নিত্য ঘটনা — ইহা লইয়া তাহার অহেতুক উৎসাহ ছিল না।

তদপেক্ষা অন্য একটি গুরুতর কারণে তাহার মন ঈষৎ বিক্ষিপ্ত হইয়া থাকিত।

জন্মাবধি সে স্থানীশ্বর বাসিনী, পুষ্যভূতি রাজবংশের প্রজা। রাজার তুল্য সেও পরম শৈব — নীলকণ্ঠ আশুতোষ তাহার আরাধ্য দেবতা। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ মনুষ্যের মধ্যে পুণ্য শৈবধর্মের নামে ভ্রষ্ট গুরু আর নষ্ট পণ্ডিতের যেইরূপ মাহাত্ম্য প্রচারিত হইতেছে আর আপামর জনগণ সেই গুরুদের মিথ্যা চালিকাশক্তির দ্বারা বিকৃত পথে নিরন্তর চালিত হইয়া শ্মশানে শান্তি খুঁজিয়া ফিরিতেছে, তাহাতে সে ক্লিষ্ট ও বীতশ্রদ্ধ বোধ করিতেছিল।

দীপান্বিতা অসূর্যম্পশ্যা অন্তঃপুরবাসিনী না হইতে পারে, কিন্তু সার্বিকভাবে সমাজে অন্য নারীদের অবস্থানে তাহার চিত্ত বিক্ষিপ্ত হইয়া উঠিত।

পুরুষ, সে রাজা হইতে পথের ভিক্ষুক — কাহারও বহুগামী হইতে বাধা নাই, কিন্তু নারী বহুগামিনী হইলে নিন্দনীয় তো বটেই, উপরন্তু বাররামা অভিধার উপযুক্তা, ইহা মানিতে তাহার হৃদয় বাত্যাক্ষুব্ধ হইয়া উঠিত।
অথচ একনিষ্ঠা পতিব্রতা নারী অকস্মাৎ স্বামীহারা হইলে পরিবারস্থ বিষয়সম্পত্তি কুক্ষিগত করিয়া রাখিবার লালসায় সেই শোকসন্তপ্তা বিধবার দেবরাদির সহিত বলপূর্বক পুনর্বিবাহের প্রচলিত নীতিও দীপান্বিতা অন্তর হইতে গ্রহণ করিতে পারে নাই।

স্বেচ্ছাচারিতা পুরুষের অবারিত বিচরণক্ষেত্র, অথচ বর্ণ নির্বিশেষে নারীর স্বাধীনতার প্রেক্ষিত অতিসঙ্কুচিত, এই রীতির বিরুদ্ধে তাহার অন্তর নিত্যই বিদ্রোহী হইয়া উঠিত — কিন্তু কোথাও কোনও দিশা খুঁজিয়া পাইত না।

দীপান্বিতার পিতা অম্বষ্ঠ বৈদ্য ছিলেন। তাঁহার অকালমৃত্যুর অনতিকাল পরে শোকাকুলা মাতাও অচিরাৎ তাহাকে ফেলিয়া অনন্তলোকে যাত্রা করিলেন। পার্থিবলোকে দীপান্বিতা একাকিনী হইল। পিতা যথেষ্ট অর্থ রাখিয়া যাইতে পারেন নাই, তবে তাহার ভরণপোষণের অভাব ঘটে নাই। দীপান্বিতা পিতার সযত্নরক্ষিত পুঁথিপত্র ও ওষধি-ভেষজের সাহায্যে পার্শ্বস্থ শূদ্রপল্লীর নরনারীর যথাসাধ্য চিকিৎসা করিত, কিছু ধনী রাজপুরুষের অন্তঃপুরে অসুস্থ স্বামিনীদের সেবা করিত — নির্ভরযোগ্য ধাত্রী হিসাবেও তাহার সুনাম ছিল। সুতরাং অর্থাভাব ঘটে নাই। দিনমানে সে স্বাধীনভাবেই পল্লীর বিভিন্ন অংশে, আপণ-বিপণিতে, নদীতীরে অনায়াসে যাতায়াত করিত, রাত্রে স্থানীয় শূদ্রপল্লীর এক বয়স্কা দাসী তাহার সহিত শয়ন করিত। বস্তুত, এই বিংশ বৎসর বয়ঃক্রম অবধি সে যে অনূঢ়া এবং স্ব-অভিভাবিকা হইয়া রহিয়াছে, ইহাতে পারিপার্শ্বিক সমাজের বিশেষ শিরঃপীড়া লক্ষিত হয় নাই।

সমাজ সম্ভবত তাহাকে ব্যতিক্রমী দৃষ্টিতেই দেখিতে অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছিল। উপরন্তু বয়স্ক-বনিতা-শিশু নির্বিশেষে তাহার মধুর পরোপকারী স্বভাবের জন্য তাহাকে ভালবাসিত।

আরও এক ব্যক্তি জনান্তিকে তাহার প্রতি আপনার গভীর ভালবাসা নিরন্তর ব্যক্ত করিত। সে তাহার বাল্যসখা সেনানী চন্দ্রবর্মা।

পিতার মৃত্যুর অব্যবহিত পরে মাতাও যখন তাঁহার অনুগামিনী হইলেন, তখন আপন বিষণ্ণতার পরিচর্যায় শোকসন্তপ্তা দীপান্বিতা অহরহ তাহার আবাল্য সহচর চন্দ্রবর্মার সান্নিধ্যে সান্ত্বনার স্পর্শ অনুভব করিয়াছে।
অদ্য সন্ধ্যায়, কাব্যরচনা করিতে করিতে দীপান্বিতা অন্যমনে আপনার হৃদয়মধ্যে কৌতূহলী দৃষ্টিপাত করিল। সে কি চন্দ্রবর্মাকে ভালবাসে?
বাল্যসখা হিসাবে সে অবশ্যই চন্দ্রবর্মাকে ভালবাসে। কিন্তু তাহাকে সে নিজ ভালবাসার কারাগারে বন্দি করিতে চাহে না। কায়মনোবাক্যে সে পরমেশ্বরের নিকট চন্দ্রের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গলকামনা করে। চন্দ্রবর্মার জন্য সকাম ভালবাসা সে কখনও অনুভব করে নাই, এই কথা সে নিজের কাছে বহুবার স্বীকার করিয়াছে, কিন্তু সখাকে জানাইবার সাধ্য হয় নাই।

দীপান্বিতা বড় কোমলপ্রাণা — চন্দ্রবর্মা কেন, কোনও মনুষ্যকেই সজ্ঞানে আঘাত করিবার, বাক্যবাণে জর্জরিত করিবার ক্ষমতা বা স্পৃহা তাহার ছিল না।

কার্যোপলক্ষে বিভিন্ন ধনিকগৃহে অবস্থানকালে সুন্দরী শ্রেষ্ঠীকন্যা শকুন্তলার চন্দ্রবর্মার প্রতি আকর্ষণের গুঞ্জন সে শুনিয়াছিল, এবং যৎপরোনাস্তি আনন্দিত বোধ করিয়াছিল। যদি সত্যই চন্দ্রবর্মা তাহার প্রতি নিষ্ফল অনুরাগ ভুলিয়া শকুন্তলাকে আপন হৃদয় অর্পণ করে, দীপান্বিতার তুল্য সুখী আর কেহই হইবে না।

কিন্তু ছলনাময়ী নিয়তির অভিপ্রায় সামান্য নারী কেমন করিয়া জানিবে?

অমাবস্যা। গৌড়ের রাজধানী কর্ণসুবর্ণে ভাগীরথীর অদূরে অবস্থিত রক্তমৃত্তিকা মহাবিহারে ভিক্ষুদের পরিবেণে দীপ জ্বলিয়া উঠিয়াছে। শ্রমণেরা সান্ধ্যকর্মে ব্যস্ত। কেহ পাকশালায় রন্ধনকার্যে ব্যাপৃত রহিয়াছে, কেহ পাঠ করিতেছে, কেহ বা ধ্যানে মগ্ন।

মহাস্থবির আচার্য মণিপদ্ম সান্ধ্য প্রার্থনা সমাপ্ত করিয়া মহাবিহারের প্রাকারবেষ্টিত বিস্তীর্ণ ছাদে দাঁড়াইয়া দূরাবস্থিত ভাগীরথীর অতলকৃষ্ণ অদৃশ্য জলরাশির দিকে অনির্দেশ্য দৃষ্টি মেলিয়া চাহিয়া ছিলেন।
অন্যান্য দিনের তুলনায় অদ্য তাঁহার অন্তর কিঞ্চিৎ অশান্ত। চৈনিক বৌদ্ধ ভিক্ষু ইউয়ান চোয়াঙ দীর্ঘদিন রক্তমৃত্তিকা বিহারে অবস্থান অন্তে অদ্য প্রত্যুষে নালন্দা অভিমুখে যাত্রা করিয়াছেন।

থেরবাদ এবং মহাযানী দর্শন লইয়া বিগত কয়েকদিনের বিস্তীর্ণ আলোচনার পরে তাঁহাদের দুইজনের মধ্যে কিছু মতপার্থক্যের সৃষ্টি হইয়াছিল। আচার্য মণিপদ্ম বুদ্ধের অষ্টাঙ্গিক পথ অনুসরণকেই প্রামাণ্য মানিতেন — বুদ্ধ তাঁহার নিকট পরম জ্ঞানের আকর এক মহান শিক্ষক। গোতমের উপদিষ্ট নিয়মনীতি ও নৈতিক জীবনের শিক্ষা সংক্রান্ত বিনয় পিটক, তাঁহার বাণী ও উপদেশ সম্বলিত সুত্ত পিটক এবং আদি বৌদ্ধদর্শন তথা মানবমন সম্পর্কিত জ্ঞান আহরণের গ্রন্থ অভিধম্ম পিটক — এই ত্রিপিটক ছিল তাঁহার বুদ্ধচেতনার মেরুদণ্ড।

সম্যক দৃষ্টি, সংকল্প, বাক্য, কর্ম, জীবিকা, প্রচেষ্টা, চিন্তা এবং অবশেষে সম্যক সমাধি — এই অষ্টাঙ্গিক মার্গ তাঁহাকে তাঁহার অভীষ্ট নির্বাণের পথে লইয়া যাইবে। অর্হৎ ব্যতীত অন্য চিন্তা তাঁহার ছিল না।

কিন্তু ইউয়ান চোয়াঙ যখন বোধিসত্ত্বের পথ অনুসরণের কথা কহিলেন — কেবল বুদ্ধের শিক্ষার পথে আত্মনির্বাণ নহে, সকল প্রাণীর জাগতিক দুঃখ হইতে মুক্তি এবং সমষ্টিগত মোক্ষলাভের পথ অনুসন্ধানের কথাও কহিলেন, আচার্য মণিপদ্মের অন্তরে দ্বিধা জন্মিল। বুদ্ধের মূর্তি পূজাই তবে শ্রেয়? তিনি কেবলমাত্র পথপ্রদর্শক নন, আরাধ্য দেবতা? জ্ঞানার্জন নহে, সর্বাগ্রে সকল জীবের প্রতি করুণা প্রদর্শনই অকৃত্রিম ধার্মিকতার নিদর্শন? থেরবাদ নহে, মহাযানই তবে বুদ্ধচেতনার নব উন্মেষ?
সহজিয়া মার্গ ব্যতীত দশ শতাব্দীরও অধিক প্রাচীন বৌদ্ধধর্মকে নিয়মের কঠিন শৃঙ্খলমুক্ত না করিলে জনমুখী করিয়া তোলা কি তবে অসম্ভব?
মণিপদ্ম বিভ্রান্ত বোধ করিতেছিলেন।

এই সর্বাস্তিবাদ এবং সর্বজীবপ্রেমের আক্ষরিক অনুশীলনের পথ যে মহাযান-দেহে প্রবেশ করিয়া আদি বৌদ্ধ ধর্মের আমূল রূপান্তর ঘটাইবে না, তাহার নিশ্চয়তা কি?

আচার্য মণিপদ্মের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ব্যাকুল হৃদয় বুদ্ধ চরণপাদপদ্ম স্মরণ করিয়া, তাঁহাকেই আশ্রয় করিবার প্রয়াস পাইল। তাঁহার আঁখিপল্লব অপরিচিত ক্লান্তিতে নিমীলিত হইয়া আসিল।

কিন্তু তাহা বেশিক্ষণের জন্য নহে। নিকষ অন্ধকারের মধ্যে অকস্মাৎ পূর্বাকাশ রক্তাভ হইয়া উঠিল। সুবিশাল বিহারভূমির প্রশস্ত চত্বর প্রাণভয়ে ভীত শশব্যস্ত শ্রমণদের হাহাকারে ভরিয়া গেল। ভিক্ষুদের পরিবেণ হইতে মহাস্থবিরের প্রকোষ্ঠ পর্যন্ত অগ্নিদেবতার করাল গ্রাসে নিক্ষিপ্ত হইয়াছে।

গৌড়ের অহঙ্কার রক্তমৃত্তিকা মহাবিহার, লোকমুখে রাঙামাটির মঠ — পরদিন সূর্যোদয়ের পূর্বেই গৌড়াধিপ শশাঙ্কদেবের আদেশে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হইয়া গেল।

আচার্য মণিপদ্ম সহ শতাধিক শ্রমণ ও ভিক্ষু পুনরায় পথে নামিলেন। ললাটে প্রগাঢ় শান্তি, চক্ষে অপার করুণা, দীপ্তকণ্ঠে বুদ্ধের বাণী — ঈশ্বরের অপর নাম ক্ষমা।

মহাস্থবির বুঝি তাঁর গতরাত্রের অনুচ্চারিত প্রশ্নের উত্তর পাইয়াছেন — বুদ্ধ স্বয়ং ধ্বংসের রূপ ধরিয়া প্রকাশিত হইয়া তাঁহার মূঢ় দ্বিধা দূরে নিক্ষেপ করিয়াছেন।

অন্ধকার ক্রমশ পরিষ্কার হইয়া আসিতেছে।

কর্ণসুবর্ণের রাজ অবরোধে বিশ্রামগৃহে বসিয়া গৌড়েশ্বর এই সংবাদ শুনিলেন। ‘অর্বাচীন ভিক্ষুগুলা তবে পরাভব স্বীকার করিবার পাত্র নহে’!

পরাজয়ের বেদনা তাঁহার হৃদয়ে যেন তুষানল জ্বালিয়া দিল। মুখমণ্ডল অন্ধকারতর হইল। রাজ্ঞী চিত্রাদেবী পর্যন্ত তাঁহার ভয়ঙ্কর মুখচ্ছবি দেখিয়া সভয়ে নিজ মহলে প্রস্থান করিলেন — সম্মুখে উপস্থিত থাকিয়া বাঙনিষ্পত্তির দুঃসাহস করিলেন না।

কিয়ৎকাল পরে রাজার হুঙ্কারে প্রাসাদ কাঁপিয়া উঠিল। “সেনানায়ক ধবলবর্মাকে সংবাদ দাও। অশ্ব, শকট প্রস্তুত করো। আমি উজ্জয়িনী যাইব।”

(ক্রমশ)

PrevPreviousবস্তারে রাষ্ট্রীয় দমন
Nextআপনার হাত কি এখন রাগে-ঘেন্নায়-বিরক্তিতে প্রতিবাদে মুষ্টিবদ্ধ হবে?Next
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

A Brief Update of Two Important Legal Developments:

December 6, 2025 No Comments

04.12.25 1) The appointment case of Dr Aniket Mahato: In the case concerning the appointment of Dr Aniket Mahato, the Calcutta High Court had clearly

মূলে ফেরো

December 6, 2025 No Comments

মূলে ফিরে এসো এইবারে। একবার একসাথে লড়ি ওখানে কাজ আছে মান নেই, এখানে উল্টো ঠিক, রোজগার খাড়া বড়ি থোড় থেকে থোড় খাড়া বড়ি, তবুও ফেরত

লাউ মাচা

December 6, 2025 1 Comment

বয়স বাড়ছে। শীত করছে। পাতা ঝরছে। টুপটাপ দিনরাত কত কি যে খসছে। ‘অ বৌমা বেলা হল–ভাত বাড়ো’ –আজকাল এমন গৃহস্থ কথার ওম ওড়াউড়ি করে না

শাসক ভোলাতে চায়, আমরা নিয়েছি না ভোলার শপথ।

December 5, 2025 No Comments

৯ আমাদের না ভোলার তারিখ। জল নয় রক্ত ছিল আমাদের মেয়ের চোখে। সেই নিষ্ঠুরতা মনে পড়লে আমরা কেঁপে উঠি। শাসক ভোলাতে চায়। মদত পেয়ে দিকে

“ডাক্তারবাবু, দেখুন তো আমি চারে তিন না কি চারে এক” – তামান্নার গল্প

December 5, 2025 No Comments

(ক্লিনিকে বসে যা শুনেছি তাই লেখার চেষ্টা করছি) আমার নাম তামান্না (নাম পরিবর্তিত)। বয়স তেইশ। বাড়ি ক্যানিং। গরীব ঘরে জন্ম। মাত্র ষোল বছর বয়সে শ্বশুরবাড়ি।

সাম্প্রতিক পোস্ট

A Brief Update of Two Important Legal Developments:

West Bengal Junior Doctors Front December 6, 2025

মূলে ফেরো

Arya Tirtha December 6, 2025

লাউ মাচা

Dr. Sarmistha Das December 6, 2025

শাসক ভোলাতে চায়, আমরা নিয়েছি না ভোলার শপথ।

Abhaya Mancha December 5, 2025

“ডাক্তারবাবু, দেখুন তো আমি চারে তিন না কি চারে এক” – তামান্নার গল্প

Dr. Kanchan Mukherjee December 5, 2025

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

594332
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]